মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

অ্যাপ তৈরির সেবা

মোবাইল অ্যাপ বানিয়ে দেওয়ার কাজ। পুঁজি একটা কম্পিউটার, ইন্টারনেট আর বিদ্যুৎ; বাড়তি খরচ গুগল প্লেতে এককালীন ২৫ ডলার আর অ্যাপলে বছরে ৯৯ ডলার। ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সারের নগদ সহায়তা ২.৫০%, প্রতিষ্ঠানের ৬%।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
অ্যাপ তৈরির সেবা

অ্যাপ তৈরির সেবা

শুরুর পুঁজি
৳৬৩,০০০ – ৳১,৬৫,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৮ জন
প্রথম বিক্রি
১৮০ – ২৭০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৮ – ৩৩ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
অনলাইন · কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

মোবাইলের অ্যাপ বানিয়ে দেওয়ার কাজ — অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন, বা দুটোর জন্যই একসঙ্গে। বাংলাদেশে এটা তিন রকমে চলে। এক, একা বা দুজন মিলে মার্কেটপ্লেসে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজ ধরা। দুই, ছোট দল বানিয়ে দেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাপ বানানো — ডেলিভারি, স্কুল, ক্লিনিক, ছোট ব্যাংক। তিন, নিজের অ্যাপ বানিয়ে স্টোরে ছেড়ে বিজ্ঞাপন বা সাবস্ক্রিপশন থেকে আয়ের চেষ্টা। তিন নম্বরটায় আয় সবচেয়ে অনিশ্চিত। পুঁজি বলতে একটা ভালো কম্পিউটার, বিদ্যুৎ আর ইন্টারনেট — এর বাইরে দোকানও নেই, মালও নেই। ব্রডব্যান্ড বিটিআরসির অনুমোদিত প্যাকেজে ৩০ এমবিপিএস মাসে ৳৫০০, ১০০ এমবিপিএস ৳১,০০০; বিদ্যুতের গড় খুচরা দর ইউনিটপ্রতি ৳১০.৬৩। শুধু স্টোরের খরচ আলাদা: গুগল প্লেতে ডেভেলপার হিসাব খুলতে এককালীন ২৫ ডলার (প্রায় ৳৩,০৭০), আর অ্যাপলের ডেভেলপার প্রোগ্রাম বছরে ৯৯ ডলার (প্রায় ৳১২,১৬০)। আইফোনের অ্যাপ বানাতে হলে ম্যাকও লাগে, আর সেটাই এই কাজের সবচেয়ে বড় এককালীন খরচ। টাকা আসে বেশির ভাগ ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইপিডি-১ সার্কুলার ২২ (২২ জুলাই ২০২৬) অনুযায়ী ইন্টারনেটে সেবা রপ্তানিতে ইএক্সপি ফরম লাগে না, এক বারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফরম-সি ছাড়াই জমা হয়, অনলাইন গেটওয়েতে লেনদেনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার, আর আইসিটি সেবার নিট আয়ের ৫০% পর্যন্ত ডলারে রাখা যায় — যা দিয়ে সার্ভার, ডোমেইন-হোস্টিং আর সফটওয়্যারের নিবন্ধন ফি দেওয়া যায়। নগদ সহায়তা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬%, ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সারের জন্য ২.৫০% — ৪% নয়। সত্যি কথাটা হলো, দক্ষতা তৈরি হতে সময় লাগে আর প্রথম বছরে আয় প্রায় শূন্য থাকে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৮৩২ – ৳২১,০১৩সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৯,৭০০ – ৳২,০০,০০০ / এককবিতর্কিত
পরিবর্তনশীল খরচ৳৮৩২ – ৳২,৫০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৭২% – ৯৪%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১৮০ – ২৭০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৮ – ৩৩ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র৩ – ১০ দিনঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
অপচয় ও ক্ষতির হার৩০% – ৪০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা১ – ৮সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • একটি কম্পিউটার, আইপিএস বা ইউপিএস, আর ব্রডব্যান্ড লাইন। বিটিআরসি-অনুমোদিত প্যাকেজে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ এমবিপিএস মাসে ৳৫০০, ১০০ এমবিপিএস ৳১,০০০, ২৫০ এমবিপিএস ৳৩,০০০ — সারা দেশে এক রেট। বিদ্যুতের গড় খুচরা দর ২০২৬ সালের জুন থেকে ইউনিটপ্রতি ৳১০.৬৩।যন্ত্রপাতি
  • স্টোরে অ্যাপ ছাড়ার হিসাব: গুগল প্লে কনসোলে ডেভেলপার নিবন্ধন এককালীন ২৫ মার্কিন ডলার (২০-০৯-২০২৬-এর দরে প্রায় ৳৩,০৭০); অ্যাপল ডেভেলপার প্রোগ্রাম প্রতি সদস্যবর্ষে ৯৯ ডলার (প্রায় ৳১২,১৬০), অর্থাৎ প্রতি বছর দিতে হয়। আইওএস অ্যাপ তৈরি ও জমা দিতে একটি ম্যাক লাগে।যন্ত্রপাতি
  • একা কাজ করলে কোনো লাইসেন্স লাগে না। নিজের নামে অফিস বা এজেন্সি খুললে বা দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করলে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স লাগে — এখন এক বছর মেয়াদি; ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ১৬ আগস্ট ২০২৬-এ পাঁচ বছরে একবার নবায়নের কথা বলেছে, আর নবায়নের সময় ৳৩,০০০ এনবিআরের ঘরে যায়।লাইসেন্স
  • একটি কাঠামোয় সত্যিকারের দক্ষতা — কোটলিন, সুইফট বা ফ্লাটার — সঙ্গে এপিআই লেখা, ডেটাবেস, সংস্করণ নিয়ন্ত্রণ আর স্টোরের নিয়ম মেনে অ্যাপ জমা দেওয়া। ইংরেজিতে ক্লায়েন্টের চাহিদা বুঝে লিখতে পারাও দক্ষতার অংশ।দক্ষতা
  • অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে হিসাব — বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইপিডি-১ সার্কুলার ২২ (২২ জুলাই ২০২৬) অনুযায়ী ইন্টারনেটে সেবা রপ্তানিতে ইএক্সপি ফরম লাগে না; এক বারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফরম-সি ছাড়াই জমা হয়, তার বেশি হলে অনলাইন ফরম-সি (আইসিটি); অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে এক লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার; আইসিটি সেবার নিট আয়ের ৫০% পর্যন্ত ইআরকিউ হিসাবে ডলারে রাখা যায় (অন্য সেবায় ৩০%), বাকিটা টাকায় ভাঙাতে হয়। দ্বৈত মুদ্রার ফ্রিল্যান্সার কার্ড ও এমএফএস ওয়ালেটেও টাকা আনা যায়।সরবরাহকারী
  • নগদ সহায়তার আবেদন করতে হলে টাকা দেশে আনতেই হবে। ৫ জুলাই ২০২৬-এর সার্কুলারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সফটওয়্যার ও আইটিইএস রপ্তানিতে প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬% আর ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারের জন্য ২.৫০% নগদ সহায়তা। একই হার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দুই অর্ধেও ছিল। বহু লেখায় এখনো ৪% বলা হয় — সেটি পুরোনো।সরবরাহকারী

কাজের ধাপ

  1. 1একটা ভালো কম্পিউটার আর ব্রডব্যান্ড জোগাড় করুন। আইফোনের অ্যাপ বানাতে চাইলে ম্যাক লাগবেই — এটাই সবচেয়ে বড় এককালীন খরচ।
  2. 2একটা কাঠামো বেছে নিয়ে তাতে দক্ষ হোন — অ্যান্ড্রয়েডের জন্য কোটলিন, আইফোনের জন্য সুইফট, বা দুটোর জন্য ফ্লাটার। দুই-তিনটা আধাআধি শেখা কাজে লাগে না।
  3. 3দুটো পুরো অ্যাপ নিজে বানিয়ে স্টোরে ছাড়ুন। ক্লায়েন্টের কাছে স্টোরের লিংকই একমাত্র প্রমাণ।
  4. 4গুগল প্লেতে ডেভেলপার হিসাব খুলুন — এককালীন ২৫ ডলার, প্রায় ৳৩,০৭০। আইফোনে ছাড়তে চাইলে অ্যাপল ডেভেলপার প্রোগ্রামে বছরে ৯৯ ডলার, প্রায় ৳১২,১৬০।
  5. 5এডি ব্যাংকে হিসাব ও ইআরকিউ খুলুন। আইসিটি সেবার নিট আয়ের ৫০% পর্যন্ত ডলারে রাখা যায়, আর সেই ডলার দিয়েই সার্ভার, হোস্টিং আর অ্যাপলের বার্ষিক ফি দেওয়া যায়।
  6. 6প্রথম কাজগুলো মার্কেটপ্লেসে ধরুন, কিন্তু দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথা বলুন — ডেলিভারি, স্কুল, ক্লিনিক। দেশি কাজে টাকা টাকায় আসে আর দেরিও বেশি।
  7. 7দাম ধরুন ধাপে ধাপে — অগ্রিম, মাঝপথে আর হস্তান্তরে। পুরো টাকা শেষে ধরলে কাজ বদলানোর দাবিতে মাস চলে যায়।
  8. 8প্রতিটি কাজের চুক্তি, ইমেইল আর প্ল্যাটফর্মের স্টেটমেন্ট রাখুন — ব্যাংক এই ইলেকট্রনিক প্রমাণ দেখেই টাকা জমা দেয়।
  9. 9টাকা দেশে এনে ব্যাংকের মাধ্যমে নগদ সহায়তার আবেদন করুন — ব্যক্তি হিসেবে ২.৫০%, প্রতিষ্ঠান হলে ৬%।
  10. 10হস্তান্তরের পরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা মাসিক চুক্তি করুন। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের নিয়ম বদলালে অ্যাপ আপডেট না করলে স্টোর থেকে নামিয়ে দেয়।
  11. 11দল বাড়ানোর আগে ট্রেড লাইসেন্স নিন — দেশি বড় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কাজের চুক্তিতে এটা ছাড়া যাওয়া যায় না, আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে নগদ সহায়তার হারও ৬%।
  12. 12এআই-সংশ্লিষ্ট কাজ ধরুন। মেশিন লার্নিং প্রোগ্রামিংয়ের চাহিদা ২৪% বেড়েছে আর এআই চ্যাটবট তৈরির কাজ প্রায় তিন গুণ হয়েছে, অথচ সাধারণ কোডিংয়ের কাজ কমেছে।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · দ্বিতীয় বড় শহর, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব বেশি, আর ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা শাখাও যথেষ্ট।
  • খুব উপযোগীঢাকা · অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের শাখা, ফ্রিল্যান্সার কার্ড ও ইআরকিউ হিসাব খোলার সুবিধা সবচেয়ে বেশি এখানেই; দেশি ক্লায়েন্ট আর এজেন্সির কাজও ঢাকাকেন্দ্রিক। সরকারের নতুন ৬৮৩ কোটি টাকার প্রশিক্ষণ প্রকল্পও ১৩টি মহানগর ধরে চলবে।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; ব্রডব্যান্ড ও ব্যাংক শাখা দুটোই আছে, আর বাসা ভাড়া ঢাকার ভগ্নাংশ।
  • সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকার কাছাকাছি, প্রবাসী পরিবারের সংখ্যা বেশি, আর ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের অভিজ্ঞতা আছে।
  • সম্ভবগাজীপুর · ঢাকার লাগোয়া, ভাড়া কম, আর ঢাকার এজেন্সির কাজ ধরে রাখা যায়।
  • সম্ভবখুলনা · বিটিআরসির এক দেশ এক রেটের কারণে লাইনের খরচ ঢাকার সমান; খরচ কম বলে একই আয়ে টিকে থাকা সহজ।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের তরুণের জোগান; ইন্টারনেটের দাম এক হলেও দেশি ক্লায়েন্ট কম, তাই কাজ ধরতে হয় মার্কেটপ্লেসেই।
  • সম্ভবরাজশাহী · বিশ্ববিদ্যালয়ঘেঁষা শহর, ইংরেজি জানা তরুণের জোগান আছে, আর ইন্টারনেটের দাম সারা দেশে একই।
  • সম্ভবরংপুর · এক দেশ এক রেটে ইন্টারনেটের দাম এক, কিন্তু লোডশেডিং বেশি — আইপিএস ছাড়া রাতের শিফট চালানো কঠিন।
  • সম্ভবসিলেট · প্রবাসী যোগাযোগের কারণে বিদেশি ক্লায়েন্ট ধরা সহজ, আর ব্রডব্যান্ডের দাম ঢাকার সমান — বিটিআরসির এক দেশ এক রেট নীতিতে ৳৫০০-তেই ৩০ এমবিপিএস।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচাহিদা: এআই সবচেয়ে আগে খেয়েছে ঠিক এই ধরনের কাজগুলোই। ২০২৫ সালের একটি ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি আসার আট মাসের মধ্যে লেখালেখি ও কোডিংয়ের কাজের বিজ্ঞাপন ২১ শতাংশ আর ভিজ্যুয়াল ডিজাইনের ১৭ শতাংশ কমেছে; লেখালেখি ও অনুবাদের চাহিদা কমেছে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ। ডেইলি স্টারকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ফ্রিল্যান্সাররা বলেছেন, শুরুতে আয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল; ২০ বছরের অভিজ্ঞ ইউসুফ তুষারের আয় অর্ধেক হয়ে গেছে, ১৪ বছরের কাজী মামুনের কাজ কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। অ্যাপ তৈরিতে এর মানে হলো, সাধারণ ক্রাড অ্যাপ বা টেমপ্লেট বসানোর কাজ দ্রুত কমছে; যা বাড়ছে তা হলো এআই যুক্ত করার কাজ।
  • বেশিঅন্যান্য: প্রশিক্ষণ নিলেই আয় হয় না। সরকারের ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের লক্ষ্যই ৬০–৭০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে আয়মূলক কাজে ঢোকানো, আর আয় শুরু হওয়ার কথা তিন মাসের কোর্স শেষের ৩ থেকে ৬ মাস পর। ২০২২ সালের ৪৭.৫ কোটি টাকার পাইলটে ১৬ জেলায় ৬৪ শতাংশ ফ্রিল্যান্স কাজ পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু স্বাধীন যাচাই নেই। প্রথম বছরটা প্রায় সবার জন্যই শূন্য আয়ের বছর। অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে শেখার সময় আরও দীর্ঘ, কারণ একটা কাজের মতো অ্যাপ দাঁড় করাতে কয়েক মাস লাগে।
  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: আয় বিদেশে ফেলে রাখা এখন স্পষ্টভাবে আইনভঙ্গ। এফইপিডি-১ সার্কুলার ২২-এর ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ বলছে, বিদেশি হিসাব, সম্পদ বা ভার্চুয়াল সম্পদ — যেকোনো রূপে রপ্তানি আয় বিদেশে রেখে দেওয়া ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন। অথচ ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ২ মে ২০২৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসে ৮০০ ডলারের বেশি আয় করা ফ্রিল্যান্সারদের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ টাকা দেশে আসেই না। যা আসে না, তার উপর ২.৫০% নগদ সহায়তাও মেলে না।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: একটি ক্লায়েন্টের উপর দাঁড়ানো ব্যবসা রাতারাতি শেষ হতে পারে। ২০১১ সাল থেকে কাজ করা এমরাজিনা ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেছেন, ২০১২ সাল থেকে একটি কোম্পানির কাজ করতেন, এক সময় সেই কাজে ১৫ জন পর্যন্ত লোক ছিল — এআই আসার পর পুরো ব্যবসাটাই চলে গেছে। স্টোরের নিয়মও একইভাবে নির্ভরতার জায়গা: অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএসের নীতি বদলালে অ্যাপ আপডেট না করলে নামিয়ে দেওয়া হয়।
  • মাঝারিচাহিদা: বাজারের আকার নিয়ে কেউ একমত নয়, আর বড় সংখ্যাটা ধরে পরিকল্পনা করলে ভুল হয়। প্রথম আলোর ১৬ জুলাই ২০২৪-এর প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন আইসিটি রপ্তানি ২০০ কোটি ডলার, বেসিসের সভাপতি বলেছেন ১৫০ কোটি, বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেছেন ১০০ কোটি ডলারেরও কম। ফ্রিল্যান্সারদের আয় বেসিসের হিসাবে ২০–২৫ কোটি ডলার, বিএফডিএসের হিসাবে ৩০ কোটি। আর ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা: প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত ৬–৭ লাখ, কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

একই রকম আরও ব্যবসা

ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

ভিডিও এডিটিং সেবা

পণ্যের ভিডিও ও কনটেন্ট সম্পাদনা করে দেওয়ার সেবা। খদ্দের প্রস্তুত — পাঠাওয়ে ২ লাখ ও স্টেডফাস্টে ৩ লাখ অনলাইন মার্চেন্ট; মূল পুঁজি একটি সম্পাদনার কম্পিউটার।

পুঁজি
৳৬২ হাজার – ৳২.৫ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৯০ – ৩৬৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

সফটওয়্যার ও অ্যাপ রিসেলিং

ছোট দোকানে পিওএস ও হিসাবের সফটওয়্যার বসিয়ে দেওয়ার কাজ। প্রতিযোগী বিনা মূল্যের অ্যাপ — টালিখাতায় নিবন্ধিত প্রায় ৪৭ লাখ ব্যবসায়ী; তাই আয় আসে যন্ত্র ও সেবা থেকে।

পুঁজি
৳৬০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৭ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

ফ্রিল্যান্সিং এজেন্সি

বিদেশি ক্রেতার কাজ নিয়ে দল বেঁধে করা আর বৈধ পথে টাকা আনা। আয়ে আয়কর ও ভ্যাট দুটোই মওকুফ, বৈধ পথে আনলে ২.৫% নগদ প্রণোদনা — কিন্তু প্রথম বছরের আয় নগণ্য।

পুঁজি
৳৬০ হাজার – ৳৪ লাখ
জনবল
১ – ১০ জন
প্রথম আয়
৯০ – ৩৬৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট

বিকাশ-নগদ-রকেটের এজেন্ট কমিশন প্রতি হাজারে মাত্র ৳৪। মাসে ৳৩০,০০০ আয় করতে কাউন্টার দিয়ে মাসে প্রায় ৳৭৩ লাখ টাকা যেতে হবে।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৩.৫ লাখ
জনবল
১ – ২ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান