মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

সুপারি ও নারিকেল বাগান

সুপারি ও নারিকেল একসঙ্গে লাগিয়ে বাগান। সুপারি গাছে ফল আসে ৪–৫ বছরে, নারিকেলে আরও দেরিতে; পরিণত সুপারি গাছে বছরে ২০০–৫০০টি ফল, আর কৃষি তথ্য সার্ভিসের হিসাবে একরে বছরে ৳১–১.৫ লাখ লাভ সম্ভব।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
সুপারি ও নারিকেল বাগান

সুপারি ও নারিকেল বাগান

শুরুর পুঁজি
৳৬০,০০০ – ৳৫,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম বিক্রি
১,৪৬০ – ২,৫৫৫ দিন
সরকারি সূত্র
খরচ উঠতে
৭২ – ১২০ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
খামার · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

সুপারি আর নারিকেল দেশের দক্ষিণের পুরনো জোড়। দুটোই লাগিয়ে দিলে দীর্ঘদিন চলে — সুপারি গাছ ৫০ বছর পর্যন্ত ফল দেয়, সবচেয়ে বেশি দেয় ১০ থেকে ৪০ বছর বয়সে। কিন্তু শুরুটা ধীর। কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, সুপারির চারা লাগানোর ৪–৫ বছরের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে, আর ফুল আসার পর ফল পাকতে আরও ৯–১০ মাস। তার আগে বীজতলায় চারা রাখতে হয় ১–২ বছর, অর্থাৎ বীজ থেকে হিসাব করলে অপেক্ষা আরও লম্বা। নারিকেলে সময় আরও বেশি — বারি নারিকেল-১ ও ২ পূর্ণবয়স্ক গাছে বছরে ৬৫–৭৫টি ফল দেয়, ৬x৬ মিটার দূরত্বে হেক্টরে ২৭৮টি চারা লাগে, আর ফুল ফোটার ১১–১২ মাস পর ফল পাড়ার উপযোগী হয়। খাটো জাতের ভিয়েতনামি হাইব্রিড নিয়ে অনেক দাবি আছে — দুই-আড়াই বছরে ফল, গাছপ্রতি ১৫০–২৫০টি — কিন্তু সেসব দাবি চারা বিক্রেতা ও সংবাদপত্রের, সরকারি জাত-বিবরণীর নয়; সরকারি বারি জাতের সংখ্যা ৬৫–৭৫। দাম: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ঢাকার অনলাইন মুদি দোকানে একটি নারিকেল ৳২১৫, একটি ডাব ৳২০০, আর ২৫০ গ্রাম শুকনো সুপারি ৳১৬৯ (কেজি ৳৬৭৬)। মাঠপর্যায়ে হিসাব আলাদা — বাসসের খবরে (১১-১১-২০২৩) বরগুনায় প্রতি কুড়ি (২১০টি) সুপারি ৳২৫০–৩০০, অর্থাৎ ফলপ্রতি ৳১.১৯–১.৪৩। দেশের সুপারির ৯০ শতাংশই দক্ষিণাঞ্চলে জন্মে; প্রধান জেলা বরিশাল, খুলনা ও নোয়াখালী।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳২,০০০ – ৳২৫,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳১ – ৳১ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳০ – ৳১ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৩৩% – ৭৬%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১,৪৬০ – ২,৫৫৫ দিনসরকারি সূত্র
খরচ উঠে আসার সময়৭২ – ১২০ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র১৮০ – ৩৬৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার১০% – ৩৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৬০ – ৪০০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • গাছে ওঠার দড়ি ও ছড়া নামানোর দড়ি, স্প্রে মেশিন, কোদাল ও নিড়ানি, সেচের ব্যবস্থা (বেসিন বা প্লাবন — প্লাবনে ফলন ভালো হয়), আর শুকনো সুপারির জন্য রোদে শুকানোর খোলা জায়গা।যন্ত্রপাতি
  • সার ও কীটনাশক — গর্তপ্রতি গোবর (সুপারিতে ১০ কেজি, নারিকেলে ২০–৩০ কেজি), টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, জিঙ্ক সালফেট, বোরিক এসিড; বছরে দুইবার। রোগ দমনে বোর্দো মিক্সচার বা কুপ্রাভিট, ডায়থেন এম-৪৫, মাকড়ের জন্য ক্যালথেন, মোচার লেদা পোকার জন্য সুমিথিয়ন, শিকড়ের পোকার জন্য ফুরাডান ৩জি। দাম এখানে যাচাই করা যায়নি।শুরুর মাল
  • চারা — সুপারির চারা বীজতলায় নিজে করা যায় (১২–১৮ মাস বয়সী চারা মাঠে লাগানোর উপযুক্ত)। নারিকেলের চারা কিনতে হয়: ২০২১ সালে সরকারি হর্টিকালচার সেন্টার ও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ভিয়েতনামি খাটো জাতের চারা ৳৫০০; বেসরকারি নার্সারি ২০২৬ সালে একই ধরনের চারা ৳৩,০০০-এর বেশি চায়। সরকারি জাত বারি নারিকেল-১ ও বারি নারিকেল-২।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, ৩–৫ কর্মদিবসে ইস্যু, প্রতি বছর নবায়ন। নিজের বাগানের ফল নিজে বেচলে লাগে না; সুপারির আড়ত বা শুকনো সুপারির ব্যবসা করলে লাগে।লাইসেন্স
  • গাছে ওঠা ও ছড়া দড়িতে বেঁধে নামানো — অভিজ্ঞ লোক ছাড়া ফল ফেটে যায় আর গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোগ চেনা: ফল পচা, কুঁড়ি পচা, মোচা শুকিয়ে যাওয়া, লাল-সাদা মাকড়, মোচার লেদা পোকা, শিকড়ের পোকা; নারিকেলে গণ্ডার পোকা ও লাল কেড়ি পোকা।দক্ষতা
  • সুপারির আড়ত বা কুড়ি ধরে কেনা ফড়িয়ার সঙ্গে সম্পর্ক, আর নারিকেলের পাইকার। দেশের সুপারির ৯০ শতাংশই দক্ষিণাঞ্চলে জন্মে বলে ওই অঞ্চলে আড়ত ঘন, কিন্তু মৌসুমে একসঙ্গে সবাই তোলায় দাম পড়ে যায়।সরবরাহকারী
  • সুনিষ্কাশিত উঁচু জমি, বেলে দো-আঁশ, পিএইচ ৫.৫–৬.৫। নারিকেল ৬x৬ মিটারে হেক্টরে ২৭৮টি, এক একরে প্রায় ১১৩টি; সুপারি ফাঁকে ৪ হাত দূরত্বে। জমি ৪–৫ বছর আয়হীন থাকবে, তাই বসতবাড়ির পাশে, পুকুরপাড়ে বা রাস্তার ধারে শুরু করলে ঝুঁকি কম।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1জমি বাছুন। সুনিষ্কাশিত, উর্বর, কিছুটা ছায়াযুক্ত, তীব্র বাতাস প্রতিরোধী উঁচু জায়গা চাই। জলাবদ্ধতা সুপারি ও নারিকেল দুটোরই শিকড় নষ্ট করে। বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো, মাটির পিএইচ ৫.৫–৬.৫।
  2. 2সুপারির চারা নিজে বানান। বীজতলা ১–১.৫ মিটার চওড়া ও ৩ মিটার লম্বা, সারি থেকে সারি ৩০ সেমি., বীজ থেকে বীজ ২৫ সেমি., ১–২ সেমি. গভীরে। বীজ সংগ্রহ করে দেরি না করে বসাতে হবে।
  3. 3ভালো চারা বাছুন। বীজ লাগানোর তিন মাসের মধ্যে যেগুলো গজায় সেগুলো থেকেই ভালো চারা হয়। মাঠে লাগানোর জন্য নিন ১২–১৮ মাস বয়সী, খাটো ও মোটা, অন্তত ৫–৬টি পাতাওয়ালা চারা।
  4. 4সুপারির চারা লাগানোর আগেই ছায়া দেওয়ার গাছ লাগিয়ে রাখুন — ছোট অবস্থায় সুপারি তীব্র বাতাস ও প্রখর রোদ সহ্য করতে পারে না। নারিকেল এই ছায়ার কাজটাও করে।
  5. 5মাদা করুন। সুপারিতে ৭০x৭০x৭০ সেমি., দূরত্ব বর্গাকারে ৪ হাত (আয়তাকারে লাইন থেকে লাইন ৮ হাত, গাছ থেকে গাছ ৪ হাত); প্রতি গর্তে ১০ কেজি পচা গোবর ও ১ কেজি খৈল। নারিকেলে ১x১x১ মিটার গর্ত, ৬x৬ মিটার দূরত্ব, হেক্টরে ২৭৮টি চারা; প্রতি গর্তে গোবর ২০–৩০ কেজি, টিএসপি ২৫০ গ্রাম, এমওপি ৪০০ গ্রাম, জিঙ্ক সালফেট ১০০ গ্রাম, বোরিক এসিড ৫০ গ্রাম।
  6. 6জুন-জুলাইয়ে লাগান — মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাগানো যায়, তবে জুন-জুলাই উত্তম। নারিকেলের চারা এমনভাবে বসান যাতে খোসা সংলগ্ন গোড়ার অংশ মাটির উপরে থাকে, তারপর খুঁটি ও বেড়া দিন।
  7. 7প্রথম দুই বছর গোড়ার চারদিকে ৬০–৭০ সেমি. পর্যন্ত মালচিং দিন, ৮–১০ সেমি. পুরু করে। মালচিংয়ে উঁই পোকা বাসা বাঁধতে পারে, তাই ১০–১৫ দিন পর পর কীটনাশক স্প্রে করে নিন।
  8. 8পটাশের দিকে নজর দিন। নারিকেল গাছে অন্য সারের তুলনায় পটাশ বেশি লাগে — এর অভাবে ফল দেরিতে আসে, ফুল ঝরে যায় আর রোগ বাড়ে। বছরে দুই কিস্তিতে সার দিন, মে ও সেপ্টেম্বরে, গোড়া থেকে ১ মিটার বাদ দিয়ে ১–২.৫ মিটার পর্যন্ত ২০–৩০ সেমি. গভীরে।
  9. 9সেচ দিন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরীক্ষায় দেখা গেছে সঠিকভাবে সেচ দিলে নারিকেলের ফলন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে; শুষ্ক মৌসুমে ১০–১৫ দিন পর পর, সুপারিতে ৫–১০ দিন পর পর।
  10. 10বর্ষার শুরুতেই সুপারির ছড়ায় ও পাতায় ১% বোর্দো মিক্সচার বা ১.৫% ম্যাকুপ্রাক্স ১৫–৩০ দিন পর পর ৩–৪ বার স্প্রে করুন — ফল পচা রোগ এভাবেই ঠেকাতে হয়। আক্রান্ত ছড়া পুড়িয়ে ফেলুন।
  11. 11নারিকেল গাছের তাজা পাতা কাটবেন না — এটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে নিজেই ঝরে পড়বে। মাথায় ময়লা জমলে বা গণ্ডার পোকা লাগলেই কেবল পরিষ্কার করুন, তাও অভিজ্ঞ লোক দিয়ে।
  12. 12ঠিক সময়ে তুলুন। সুপারিতে ফুল আসার ৯–১০ মাস পর ফল পাকে; ছড়া দড়ি দিয়ে বেঁধে নামাতে হয়। ব্যবহার অনুযায়ী পাকা, আধাপাকা বা পরিপক্ব কাঁচা অবস্থায় তোলা যায়। নারিকেলে ফুল ফোটার ১১–১২ মাস পর, আর ডাব হিসেবে ৫–৭ মাস বয়সে।
  13. 13বিক্রির একক শিখে নিন। সুপারি বিক্রি হয় পণ ও কুড়িতে — এক কুড়ি ২১০টি। কুড়ির দাম আকার ও মান অনুযায়ী বদলায়, আর শুকনো সুপারির দাম ভেজা সুপারির চেয়ে অনেক বেশি। কোন অবস্থায় বেচবেন, সেটাই দামের সবচেয়ে বড় পার্থক্য।

মৌসুম

  1. জানুকম
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইকম
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেবেশি
  10. অক্টোবেশি
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীবরগুনা · ছয় উপজেলায় প্রায় ১,০০০ হেক্টরে বাণিজ্যিক সুপারি; এক মৌসুমে উৎপাদন ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টনে উঠেছিল, কুড়ি ৳২৫০–৩০০ (বাসস, ১১-১১-২০২৩)।
  • খুব উপযোগীবরিশাল · কৃষি তথ্য সার্ভিসের নাম করা তিন প্রধান সুপারি জেলার একটি; দেশের সুপারির ৯০ শতাংশ দক্ষিণাঞ্চলে জন্মে আর আড়ত এখানেই ঘন।
  • খুব উপযোগীঝালকাঠি · দক্ষিণাঞ্চলের সুপারি বলয়ের ভেতরে; ছোট ছোট বাগান থেকে তোলা সুপারি স্থানীয় হাটে কুড়িতে বিক্রি হয়।
  • খুব উপযোগীখুলনা · কৃষি তথ্য সার্ভিসের নাম করা প্রধান সুপারি জেলা; বিভাগীয় শহরের বাজার ও শুকনো সুপারির পাইকারও কাছেই।
  • খুব উপযোগীনোয়াখালী · কৃষি তথ্য সার্ভিসের নাম করা প্রধান সুপারি জেলা; বসতবাড়ি ঘিরে সুপারি-নারিকেলের পুরনো বাগান।
  • খুব উপযোগীপটুয়াখালী · উপকূলীয় জেলা, নারিকেলের উৎপাদন বেশি; ভিয়েতনামি খাটো জাতের নারিকেল চারা বিতরণের তালিকাভুক্ত।
  • খুব উপযোগীপিরোজপুর · খাল-নদীর পাড়ে ও বসতবাড়ির চারপাশে সুপারি-নারিকেলের ঘন বাগান; ভিয়েতনামি খাটো জাতের নারিকেল বিতরণের জেলাগুলোর একটি।
  • সম্ভববাগেরহাট · উপকূলীয় এলাকায় নারিকেল ভালো হয় আর খাটো জাতের চারা বিতরণের জেলাগুলোর একটি; তবে লবণাক্ততা বাড়লে ফলন কমে।
  • সম্ভবভোলা · উপকূলীয় জেলা, নারিকেল ভালো হয়; তবে ঝড়ে গাছ ভাঙার ঝুঁকি বেশি আর নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা।
  • সম্ভবচট্টগ্রাম · গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উপকূলবর্তী এলাকায় সুপারি হয়; শহরের বড় বাজার ও রপ্তানিকারক কাছে।
  • সম্ভবকক্সবাজার · উপকূলবর্তী উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু সুপারি ও নারিকেল দুটোরই অনুকূল; তবে বালু মাটি ও লবণাক্ত বাতাসে জায়গা বেছে নিতে হয়।
  • সম্ভবলক্ষ্মীপুর · মেঘনার পাড়ে নারিকেল ও সুপারি দুটোই হয়; নোয়াখালীর বাজারের কাছে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচলতি মূলধন: চার থেকে পাঁচ বছর গাছ থেকে একটি ফলও পাবেন না, আর বীজতলার এক-দুই বছর ধরলে আরও বেশি। এই সময়ে গর্ত, চারা, সার, সেচ ও বেড়ার খরচ প্রতি বছর যায়। নারিকেলের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ — সরকারি পাতায় বারি জাতের ফল ধরার বয়সই বলা নেই। যিনি ধানের জমি বাগানে দিচ্ছেন, তাঁর হারানো পাঁচটি ফসলই আসল দাম।
  • বেশিনষ্ট হওয়া: ফল পচা রোগ। কৃষি তথ্য সার্ভিসের বর্ণনায় সুপারির বোঁটায় পানি-ভেজা ছোপ পড়ে, দাগ মিলে বড় হয়, তারপর 'পুরো সুপারিটাই রোগাক্রান্ত হয়ে পচে ঝরে পড়ে'। এটা মৌসুমি বৃষ্টির সঙ্গে আসে, অর্থাৎ ঠিক যখন ছড়ায় ফল ধরেছে। ঠেকাতে হলে বৃষ্টির শুরুতেই ১৫–৩০ দিন পর পর ৩–৪ বার স্প্রে করতে হয় — একবার সময় ফসকে গেলে সেই ছড়ার ফল আর বাঁচে না।
  • বেশিঅন্যান্য: নারিকেলে গণ্ডার পোকা ও লাল কেড়ি পোকা গাছটাই মেরে ফেলে। এরা মাথার কচি অংশে ছিদ্র করে ভেতরের নরম অংশ খায়; আক্রমণ বেশি হলে মাথা শুকিয়ে গাছ মারা যায়, আর লাল কেড়ি পোকায় কাণ্ড ফাঁপা হয়ে সামান্য বাতাসেই গাছ ভেঙে পড়ে। একটা গাছ মরা মানে তার পেছনে দেওয়া সাত-আট বছর মরা। কাণ্ডের রস ঝরা রোগেও একই ফল।
  • মাঝারিচাহিদা: মৌসুমে সবাই একসঙ্গে তোলে বলে দাম পড়ে যায়। বাসসের খবরে বরগুনায় এক মৌসুমে উৎপাদন এক লাফে তিন গুণ হয়েছিল — ১০ হাজার টন থেকে ৩০ হাজার টন। ফলন যত বাড়ে, কুড়ির দাম তত নামে, আর ছোট চাষির গুদাম নেই বলে দাঁড়িয়ে থাকার উপায়ও নেই। শুকিয়ে রাখলে দাম বেশি, কিন্তু শুকানোর জায়গা ও সময় দুটোই লাগে।
  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: সুপারির উচ্চফলনশীল চারা পাওয়া যায় না। কৃষি তথ্য সার্ভিস নিজেই লিখেছে, বারি সুপারি-১ ও বারি সুপারি-২ উদ্ভাবিত হলেও 'উচ্চফলনশীল এই জাতগুলোর অপ্রতুলতার কারণে চাষিরা স্থানীয় জাতের সুপারি চাষ করে থাকেন। এগুলো আকারে ছোট এবং ফলন কম।' অর্থাৎ সরকারি সার প্রয়োগের তালিকাটা যে জাতের জন্য, সেই জাতই হাতে আসে না।
  • মাঝারিঅন্যান্য: খাটো জাতের নারিকেল নিয়ে যে দাবি শোনা যায় — দুই-আড়াই বছরে ফল, গাছপ্রতি ১৫০–২৫০ বা ৩৫০–৫০০টি — তার প্রায় সবই চারা বিক্রেতার। সরকারি জাত-বিবরণীতে বারি নারিকেল-১ ও ২-এর ফলন গাছপ্রতি ৬৫–৭৫টি। এক চারার দাম ২০২১ সালে সরকারি কেন্দ্রে ৳৫০০ আর ২০২৬ সালে বেসরকারি নার্সারিতে ৳৩,০০০-এর বেশি — এক একরের জন্য এই পার্থক্য ২ লাখ টাকার বেশি। যাচাই না করে চারা কিনলে সেটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

মিশ্র অভিজ্ঞতাদ্য ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর একজন সুপারিবাগান মালিক

ফলন ২৫–৩০ শতাংশ বেশি, তবু আয় ৮ লাখ থেকে নেমে আসছে ৪ লাখে

৫০০ সুপারিগাছ থেকে গত বছর আয় হয়েছিল প্রায় ৮,০০,০০০ টাকা। এবার গাছপ্রতি ফলন ২৫–৩০ শতাংশ বেশি হলেও পাইকারি দাম ৬০–৬৫ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় তিনি সর্বোচ্চ ৪,০০,০০০ টাকা পাওয়ার আশা করছেন।

কারণ
দাম পড়ে যাওয়া

একই রকম আরও ব্যবসা

কৃষি ও খামার

মৌ চাষ ও মধু উৎপাদন

বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু তোলা। ফুল অনুযায়ী মধু ৳৬৫০–১,২০০ কেজি, কিন্তু নিজের নামে বোতলে বেচতে হলে বিএসটিআই সনদ লাগে — পরীক্ষার ফি ৳৭,৫০০।

পুঁজি
৳৬০ হাজার – ৳৫ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৩০ – ১৩৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

হাঁস-মুরগির হ্যাচারি

ইনকিউবেটরে ডিম বসিয়ে এক দিনের বাচ্চা ফুটিয়ে খামারিদের কাছে বিক্রি। হাঁসের বাচ্চায় খরচ ৳৩০–৩৫ ও বিক্রি ৳৭২–৭৫, কিন্তু মুরগির বাচ্চার দাম দুই মাসে ৳২৫ থেকে ৳৮৫ আবার ৳৫-এ নেমে আসে।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৮ লাখ
জনবল
২ – ১৫ জন
প্রথম আয়
২৮ – ৬০ দিন
বাজারদর
কৃষি ও খামার

অ্যালোভেরা চাষ

ঘৃতকুমারীর পাতা কেটে কোম্পানির কাছে বিক্রি। বিঘায় খরচ প্রায় ৳৫০,০০০, পাতা বিক্রি ৳১.৫–২.৫ লাখ, কিন্তু ক্রেতা শুধু কয়েকটি ওষুধ ও জুস কোম্পানি।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳২ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৯০ – ১২০ দিন
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
কৃষি ও খামার

দুধ সংগ্রহ ও সরবরাহ

খামারির কাছ থেকে দুধ কিনে শীতলীকরণ কেন্দ্র ও দোকানে পৌঁছে দেওয়া। খামারি পান লিটারে ৳৩৫–৫০, কারখানা দেয় ৳৪৮–৫৮ — ফারাকটাই এই ব্যবসা।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৪ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
৭ – ২১ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান