মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

কনটেন্ট রাইটিং সেবা

টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে লেখার কাজ। পুঁজি প্রায় শূন্য — কম্পিউটার, ৳৫০০-র ইন্টারনেট আর বিদ্যুৎ। কিন্তু এআই আসার আট মাসেই লেখালেখির কাজের বিজ্ঞাপন ২১% কমেছে, আর চাহিদা কমেছে ২০–৫০%।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
কনটেন্ট রাইটিং সেবা

কনটেন্ট রাইটিং সেবা

শুরুর পুঁজি
৳৩১,৭২০ – ৳৬৫,৫৪৪
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম বিক্রি
১৮০ – ২৭০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৮ – ১৪ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
অনলাইন · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে লেখা — ওয়েবসাইটের পাতা, ব্লগ, পণ্যের বর্ণনা, বিজ্ঞাপনের কপি, নিউজলেটার। বাংলাদেশে এটা দুই ভাগে চলে। একদিকে ইংরেজিতে লেখা, যার প্রায় পুরোটাই বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য আর টাকা আসে ডলারে। অন্যদিকে বাংলায় লেখা — দেশি ই-কমার্স, সংবাদমাধ্যম আর ব্র্যান্ডের জন্য, টাকা টাকায় আর দর অনেক কম। পুঁজি বলতে সত্যিই কিছু নেই: একটা কম্পিউটার, বিদ্যুৎ আর ইন্টারনেট। বিটিআরসির অনুমোদিত প্যাকেজে ৩০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড মাসে ৳৫০০, আর বিদ্যুতের গড় খুচরা দর ২০২৬ সালের জুন থেকে ইউনিটপ্রতি ৳১০.৬৩। দোকান নেই, মজুত নেই, একা কাজ করলে লাইসেন্সও লাগে না। টাকা আনার নিয়ম বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইপিডি-১ সার্কুলার ২২-এ (২২ জুলাই ২০২৬) একজায়গায় লেখা আছে: ইএক্সপি ফরম লাগে না, এক বারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফরম-সি ছাড়াই জমা হয়, অনলাইন গেটওয়েতে লেনদেনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার, আইসিটি সেবার নিট আয়ের ৫০% পর্যন্ত ডলারে রাখা যায়, আর বিদেশে আয় ফেলে রাখা আইনভঙ্গ। নগদ সহায়তা ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সারের জন্য ২.৫০%, প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬% — প্রচলিত ৪% এখন আর ঠিক নয়। এই তালিকার সব কাজের মধ্যে কনটেন্ট রাইটিংয়েই এআইয়ের ধাক্কা সবচেয়ে সরাসরি। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি আসার আট মাসের মধ্যে লেখালেখির কাজের বিজ্ঞাপন ২১% কমেছে, আর লেখালেখি ও অনুবাদের চাহিদা কমেছে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ। যে কাজটা টিকে আছে সেটা হলো এমন লেখা যা যন্ত্র পারে না — নিজে খোঁজ নিয়ে লেখা, সাক্ষাৎকার নিয়ে লেখা, আর কোনো বিষয়ে সত্যিকারের দখল থেকে লেখা।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৮৩২ – ৳১০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৯,৭০০ – ৳৪১,০০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
পরিবর্তনশীল খরচ৳৮৩২ – ৳২,৫০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৭২% – ৯৪%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১৮০ – ২৭০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৮ – ১৪ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র৩ – ১০ দিনঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
অপচয় ও ক্ষতির হার৩০% – ৪০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা১ – ৮সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • একটি কম্পিউটার, আইপিএস বা ইউপিএস, আর ব্রডব্যান্ড লাইন। বিটিআরসি-অনুমোদিত প্যাকেজে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ এমবিপিএস মাসে ৳৫০০, ১০০ এমবিপিএস ৳১,০০০, ২৫০ এমবিপিএস ৳৩,০০০ — সারা দেশে এক রেট। বিদ্যুতের গড় খুচরা দর ২০২৬ সালের জুন থেকে ইউনিটপ্রতি ৳১০.৬৩।যন্ত্রপাতি
  • একা কাজ করলে কোনো লাইসেন্স লাগে না। নিজের নামে অফিস বা এজেন্সি খুললে বা দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করলে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স লাগে — এখন এক বছর মেয়াদি; ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ১৬ আগস্ট ২০২৬-এ পাঁচ বছরে একবার নবায়নের কথা বলেছে, আর নবায়নের সময় ৳৩,০০০ এনবিআরের ঘরে যায়।লাইসেন্স
  • যে ভাষায় লিখবেন তাতে নিখুঁত দখল, আর অন্তত একটা বিষয়ে সত্যিকারের জ্ঞান। সঙ্গে তথ্য যাচাই করা, উৎস দেওয়া আর ক্লায়েন্টের সুরে লেখা। ২০২১ সালের হিসাবে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের ঘণ্টার দর ১০ ডলারেরও কম ছিল — ভাষার মান ছাড়া এই দর ওঠে না।দক্ষতা
  • অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে হিসাব — বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইপিডি-১ সার্কুলার ২২ (২২ জুলাই ২০২৬) অনুযায়ী ইন্টারনেটে সেবা রপ্তানিতে ইএক্সপি ফরম লাগে না; এক বারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফরম-সি ছাড়াই জমা হয়, তার বেশি হলে অনলাইন ফরম-সি (আইসিটি); অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে এক লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার; আইসিটি সেবার নিট আয়ের ৫০% পর্যন্ত ইআরকিউ হিসাবে ডলারে রাখা যায় (অন্য সেবায় ৩০%), বাকিটা টাকায় ভাঙাতে হয়। দ্বৈত মুদ্রার ফ্রিল্যান্সার কার্ড ও এমএফএস ওয়ালেটেও টাকা আনা যায়।সরবরাহকারী
  • নগদ সহায়তার আবেদন করতে হলে টাকা দেশে আনতেই হবে। ৫ জুলাই ২০২৬-এর সার্কুলারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সফটওয়্যার ও আইটিইএস রপ্তানিতে প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬% আর ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারের জন্য ২.৫০% নগদ সহায়তা। একই হার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দুই অর্ধেও ছিল। বহু লেখায় এখনো ৪% বলা হয় — সেটি পুরোনো।সরবরাহকারী
  • বাড়ির একটা শান্ত ঘর আর আইপিএস বা ইউপিএস। লোডশেডিংয়ে খসড়া হারানো আর সময়মতো জমা না দেওয়া — দুটোই কাজ হারানোর কারণ।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1ঠিক করুন আপনি ইংরেজিতে লিখবেন না বাংলায়। ইংরেজিতে দর অনেক বেশি কিন্তু প্রতিযোগিতা বিশ্বজোড়া; বাংলায় কাজ কম আর দরও কম।
  2. 2একটা বিষয় বেছে নিন যেখানে আপনার আসল দখল আছে — স্বাস্থ্য, অর্থ, কৃষি, প্রযুক্তি। সাধারণ লেখা এখন যন্ত্রই লিখে দেয়।
  3. 3পাঁচ-ছয়টা নমুনা লেখা তৈরি করে কোথাও প্রকাশ করুন। নিজের নামে প্রকাশিত লেখা ছাড়া প্রথম ক্লায়েন্ট মেলে না।
  4. 4দর ঠিক করুন শব্দে নয়, কাজে — একটা পুরো লেখার জন্য নির্দিষ্ট দাম। শব্দপ্রতি দরে এআইয়ের সঙ্গে দাম নামানোর প্রতিযোগিতায় হারতেই হবে।
  5. 5আপওয়ার্ক বা ফাইভারে প্রোফাইল খুলুন, কিন্তু লিংকডইনে সরাসরি ক্লায়েন্ট ধরার চেষ্টাও চালিয়ে যান — কমিশন বাঁচে আর কাজ ধারাবাহিক হয়।
  6. 6এডি ব্যাংকে হিসাব খুলুন আর আইসিটি সেবার ইআরকিউ হিসাব চালু করান — নিট আয়ের ৫০% পর্যন্ত ডলারে রাখা যায়।
  7. 7প্রতিটি কাজের ইমেইল, চুক্তি আর প্ল্যাটফর্মের স্টেটমেন্ট রাখুন — সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাংক এই প্রমাণ দেখেই টাকা জমা দেয়।
  8. 8টাকা দেশে এনে ব্যাংকের মাধ্যমে ২.৫০% নগদ সহায়তার আবেদন করুন। যা বিদেশে রেখে দেওয়া হয় তার উপর কিছুই মেলে না।
  9. 9এআই দিয়ে খসড়া করুন, কিন্তু প্রকাশের আগে নিজে তথ্য যাচাই করুন। ভুল তথ্যসহ লেখা জমা দিলে একবারেই ক্লায়েন্ট হারাতে হয়।
  10. 10এমন কাজের দিকে সরুন যা যন্ত্র পারে না — সাক্ষাৎকার নিয়ে লেখা, কেস স্টাডি, আর নিজের খোঁজ নিয়ে লেখা প্রতিবেদন।
  11. 11মাসিক চুক্তিতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, এক-একটা লেখার কাজে নয়। একটানা আয় না থাকলে খারাপ মাসে দর নামিয়ে কাজ নিতে হয়।
  12. 12দল বানিয়ে এজেন্সি করতে চাইলে ট্রেড লাইসেন্স নিন — দেশি বড় ক্লায়েন্টের চুক্তি আর প্রতিষ্ঠানের ৬% হারের জন্য এটা দরকার।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · দ্বিতীয় বড় শহর, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব বেশি, আর ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা শাখাও যথেষ্ট।
  • খুব উপযোগীঢাকা · অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের শাখা, ফ্রিল্যান্সার কার্ড ও ইআরকিউ হিসাব খোলার সুবিধা সবচেয়ে বেশি এখানেই; দেশি ক্লায়েন্ট আর এজেন্সির কাজও ঢাকাকেন্দ্রিক। সরকারের নতুন ৬৮৩ কোটি টাকার প্রশিক্ষণ প্রকল্পও ১৩টি মহানগর ধরে চলবে।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; ব্রডব্যান্ড ও ব্যাংক শাখা দুটোই আছে, আর বাসা ভাড়া ঢাকার ভগ্নাংশ।
  • সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকার কাছাকাছি, প্রবাসী পরিবারের সংখ্যা বেশি, আর ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের অভিজ্ঞতা আছে।
  • সম্ভবগাজীপুর · ঢাকার লাগোয়া, ভাড়া কম, আর ঢাকার এজেন্সির কাজ ধরে রাখা যায়।
  • সম্ভবখুলনা · বিটিআরসির এক দেশ এক রেটের কারণে লাইনের খরচ ঢাকার সমান; খরচ কম বলে একই আয়ে টিকে থাকা সহজ।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের তরুণের জোগান; ইন্টারনেটের দাম এক হলেও দেশি ক্লায়েন্ট কম, তাই কাজ ধরতে হয় মার্কেটপ্লেসেই।
  • সম্ভবরাজশাহী · বিশ্ববিদ্যালয়ঘেঁষা শহর, ইংরেজি জানা তরুণের জোগান আছে, আর ইন্টারনেটের দাম সারা দেশে একই।
  • সম্ভবরংপুর · এক দেশ এক রেটে ইন্টারনেটের দাম এক, কিন্তু লোডশেডিং বেশি — আইপিএস ছাড়া রাতের শিফট চালানো কঠিন।
  • সম্ভবসিলেট · প্রবাসী যোগাযোগের কারণে বিদেশি ক্লায়েন্ট ধরা সহজ, আর ব্রডব্যান্ডের দাম ঢাকার সমান — বিটিআরসির এক দেশ এক রেট নীতিতে ৳৫০০-তেই ৩০ এমবিপিএস।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচাহিদা: এআই সবচেয়ে আগে খেয়েছে ঠিক এই ধরনের কাজগুলোই। ২০২৫ সালের একটি ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি আসার আট মাসের মধ্যে লেখালেখি ও কোডিংয়ের কাজের বিজ্ঞাপন ২১ শতাংশ আর ভিজ্যুয়াল ডিজাইনের ১৭ শতাংশ কমেছে; লেখালেখি ও অনুবাদের চাহিদা কমেছে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ। ডেইলি স্টারকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ফ্রিল্যান্সাররা বলেছেন, শুরুতে আয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল; ২০ বছরের অভিজ্ঞ ইউসুফ তুষারের আয় অর্ধেক হয়ে গেছে, ১৪ বছরের কাজী মামুনের কাজ কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। কনটেন্ট রাইটিং এই তালিকার সবচেয়ে সরাসরি আক্রান্ত কাজ — ডেটা এন্ট্রি, অনুবাদ ও প্রতিলিপির কাজও একই সঙ্গে কমেছে।
  • বেশিঅন্যান্য: প্রশিক্ষণ নিলেই আয় হয় না। সরকারের ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের লক্ষ্যই ৬০–৭০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে আয়মূলক কাজে ঢোকানো, আর আয় শুরু হওয়ার কথা তিন মাসের কোর্স শেষের ৩ থেকে ৬ মাস পর। ২০২২ সালের ৪৭.৫ কোটি টাকার পাইলটে ১৬ জেলায় ৬৪ শতাংশ ফ্রিল্যান্স কাজ পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু স্বাধীন যাচাই নেই। প্রথম বছরটা প্রায় সবার জন্যই শূন্য আয়ের বছর।
  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: আয় বিদেশে ফেলে রাখা এখন স্পষ্টভাবে আইনভঙ্গ। এফইপিডি-১ সার্কুলার ২২-এর ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ বলছে, বিদেশি হিসাব, সম্পদ বা ভার্চুয়াল সম্পদ — যেকোনো রূপে রপ্তানি আয় বিদেশে রেখে দেওয়া ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন। অথচ ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ২ মে ২০২৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসে ৮০০ ডলারের বেশি আয় করা ফ্রিল্যান্সারদের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ টাকা দেশে আসেই না। যা আসে না, তার উপর ২.৫০% নগদ সহায়তাও মেলে না।
  • মাঝারিবাকিতে বিক্রি: প্ল্যাটফর্মে ক্লায়েন্ট টাকা দেওয়ার পরও বাধ্যতামূলক অপেক্ষা, তারপর ওয়ালেট, তারপর ব্যাংক — মোট ৩ থেকে ১০ দিন। দেশি ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে লেখা জমা দেওয়ার পর সম্পাদনার নামে টাকা আটকে রাখাই স্বাভাবিক, আর লিখিত চুক্তি ছাড়া কাজ করলে পুরো টাকাই মার যেতে পারে।
  • মাঝারিচাহিদা: বাজারের আকার নিয়ে কেউ একমত নয়, আর বড় সংখ্যাটা ধরে পরিকল্পনা করলে ভুল হয়। প্রথম আলোর ১৬ জুলাই ২০২৪-এর প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন আইসিটি রপ্তানি ২০০ কোটি ডলার, বেসিসের সভাপতি বলেছেন ১৫০ কোটি, বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেছেন ১০০ কোটি ডলারেরও কম। ফ্রিল্যান্সারদের আয় বেসিসের হিসাবে ২০–২৫ কোটি ডলার, বিএফডিএসের হিসাবে ৩০ কোটি। আর ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা: প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত ৬–৭ লাখ, কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা কাজ করেছেপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে সুনামগঞ্জের একজন অনলাইন লেখক

শুরুর ১০–১৫ দিনেই ৩ হাজার টাকা, এখন মাসে ২ লাখ

কলেজের চাকরি না ছেড়েই অনলাইনে ইংরেজি লেখার কাজ। প্রথম ১০–১৫ দিনেই আয় ৩,০০০ টাকা, এখন মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা আর চারজনের একটি দল।

কারণ
নির্ভরশীলতা, ভালো মান

একই রকম আরও ব্যবসা

ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

এসইও সেবা

গুগল সার্চে ক্লায়েন্টের ওয়েবসাইট উপরে তোলার কাজ। পুঁজি বলতে একটা কম্পিউটার, ৳৫০০-র ইন্টারনেট আর বিদ্যুৎ। টাকা আসে বেশির ভাগ ডলারে, আর ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সারের নগদ সহায়তা এখন ২.৫০% — চালু ধারণার ৪% নয়।

পুঁজি
৳৩১.৭ হাজার – ৳৮১.১ হাজার
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
১৮০ – ২৭০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

গ্রাফিক ডিজাইন সেবা

লোগো, ব্যানার ও মোড়ক ডিজাইন করে বিক্রি। শেখা প্রায় বিনা খরচে বলে প্রতিযোগিতা প্রচণ্ড; বিদেশি কাজে আয়ের ৫–৮% গেটওয়ে ও রূপান্তরে চলে যায়, তবে ২.৫% নগদ সহায়তা মেলে।

পুঁজি
৳২৫ হাজার – ৳১.৮ লাখ
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
৯০ – ৩৬৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও আইটি সেবা

দেশি খদ্দেরের জন্য ওয়েবসাইট বানানো ও চালু রাখা। সাধারণ সাইট ৳৮,০০০–১৫,০০০, ই-কমার্স ৳১৬,০০০–২৫,০০০, আর রক্ষণাবেক্ষণে মাসে ৳৩,০০০–৮,০০০।

পুঁজি
৳৪০ হাজার – ৳২ লাখ
জনবল
১ – ৮ জন
প্রথম আয়
১০ – ৩৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

ড্রপশিপিং ও রিসেলিং

মাল হাতে না রেখে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারে পাঠিয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বিক্রি। কুরিয়ার ৳৬০–১৮০ ও ১% সিওডি চার্জ, আর ফেরত এলে ডেলিভারি চার্জের ৫০% বাড়তি — এখানেই লাভ শেষ হয়ে যায়।

পুঁজি
৳২০ হাজার – ৳২ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
৩ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান