মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

দলিল লেখক

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বসে জমির দলিল লেখার কাজ। জেলা রেজিস্ট্রারের সনদ লাগে — ফি ৳১,০০০, প্রতি বছর ৳২৫০ দিয়ে নবায়ন। সরকারি পারিশ্রমিক প্রতি ৩০০ শব্দে ৳১০–১৫, কিন্তু টিআইবির গবেষণায় বাস্তবে নেওয়া হয় মক্কেলপ্রতি ৳৫০০–৫,০০০।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
দলিল লেখক

দলিল লেখক

শুরুর পুঁজি
৳১,২৫০ – ৳৩,০০,০০০
বিতর্কিত
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম বিক্রি
৩০ – ১৮০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
০ – ১২ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের চৌহদ্দির ভেতরে বসে জমির দলিল লিখে দেওয়ার কাজ। এটা খোলা ব্যবসা নয়। নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ৮০ছ ধারার অধীনে জেলা রেজিস্ট্রারের দেওয়া সনদ লাগে। দলিল লেখক (সনদ) বিধিমালা, ২০১৪ বলে — বয়স ২১ বছরের কম হলে হবে না, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষা পাস থাকতে হবে, হাতের লেখা সুন্দর হতে হবে, আর সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০, স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯ ও নিবন্ধন আইন ১৯০৮ সম্পর্কে কাজ চালানোর মতো জ্ঞান থাকতে হবে। আবেদন যায় ১ নম্বর ফরমে, নিজের হাতে লেখা। রেজিস্ট্রার রাজি হলে সনদ ফি ৳১,০০০ জমা দেওয়ার পর ২ নম্বর ফরমে সনদ মেলে। সেই সনদ ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। তারপর প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ৳২৫০ নবায়ন ফি দিয়ে নবায়ন করাতে হয়, ট্রেজারি চালান বা মানি অর্ডারের রসিদসহ। ৬৫ বছর পেরোলে আর নবায়ন হয় না, আর সময়মতো আবেদন না করলে নাম রেজিস্টার থেকে কাটা যায়। আয়ের হিসাবটাই এই পেশার আসল কথা। সরকারি পারিশ্রমিকের তালিকা হয়েছিল ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের দুটি এস.আর.ও দিয়ে — মুসাবিদার জন্য প্রতি ৩০০ শব্দে ৳১৫, আর মুসাবিদা থেকে দলিল লিখে রেজিস্ট্রির সব সহযোগিতার জন্য প্রতি ৩০০ শব্দে ৳১০। তিন পাতার একটা দলিলে এই হিসাবে দাঁড়ায় ৳৩০–৪৫। বাস্তবে টিআইবি ২০১৯ সালে দেখেছে, দলিল লেখকেরা সমিতির চাঁদার নামে মক্কেলপ্রতি ৳৫০০ থেকে ৳৫,০০০ পর্যন্ত নেন, আর বেশির ভাগ মক্কেল জানেনই না আসল হার কত। তালিকার চেয়ে বেশি নিলে বিধি ১০(২) অনুযায়ী সনদ বাতিলযোগ্য। মক্কেলের টাকার বড় অংশ অবশ্য সরকারের ঘরে যায়। সাফ কবলা দলিলে স্ট্যাম্প শুল্ক ১.৫%, রেজিস্ট্রেশন ফি (এ ফি) ১% — সর্বনিম্ন ৳১০০, স্থানীয় সরকার কর ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলা-ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে ৩% ও সিটি কর্পোরেশনে ২%, ই ফি ৳১০০, এন ফি প্রতি ৩০০ শব্দের পাতায় ৳২৪, এনএন ফি ৳৩৬, কোর্ট ফি ৳১০, আর আয়কর আইন ২০২৩-এর ১২৫ ধারায় উৎসে কর। দলিল লেখকের পারিশ্রমিক এসবের বাইরে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৫০০ – ৳৫,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৩০ – ৳৫,০০০ / এককবিতর্কিত
পরিবর্তনশীল খরচ৳১ – ৳৫০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৪৭% – ৯৯%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৩০ – ১৮০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়০ – ১২ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ১ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার১% – ৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা১ – ৪সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • ৬ নম্বর ফরমের রেজিস্টার, ৫ নম্বর ফরমের রসিদ বই, হলফনামার ৳৩০০ স্ট্যাম্প, ৳১০ কোর্ট ফি, কম্পিউটার ও প্রিন্টার এবং ফটোকপির ব্যবস্থা। রেজিস্টার শেষ হলে তিন বছর রাখতে হয়।যন্ত্রপাতি
  • দলিল লেখক সনদ — জেলা রেজিস্ট্রার দেন, নিবন্ধন আইন ১৯০৮-এর ৮০ছ ধারা ও দলিল লেখক (সনদ) বিধিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী। সনদ ফি ৳১,০০০, মেয়াদ ইস্যুর বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, বার্ষিক নবায়ন ফি ৳২৫০ (আবেদনের সময় ১৫ ডিসেম্বর–১৫ জানুয়ারি), সনদ হারালে নকল ৳১০০। ৬৫ বছরের পর নবায়ন নেই।লাইসেন্স
  • আলাদা করে দলিল লেখার চেম্বার বা অফিস খুললে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স লাগে — এখন এক বছর মেয়াদি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ১৬ আগস্ট ২০২৬-এ জানিয়েছে তারা পাঁচ বছরে একবার নবায়নের ব্যবস্থা করবে, আর নবায়নের সময় ৳৩,০০০ এনবিআরের ঘরে যায়।লাইসেন্স
  • স্থানীয় ভাষায় মুসাবিদা করা, খতিয়ান-নামজারি-ডিসিআর পড়া, মৌজা রেট ধরে মূল্য বসানো, আর স্ট্যাম্প শুল্ক-রেজিস্ট্রেশন ফি-স্থানীয় সরকার কর-উৎসে করের হিসাব মিলিয়ে দেওয়া। এসএসসি পাস ও সুন্দর হাতের লেখা বিধিমালার শর্ত।দক্ষতা
  • নিবন্ধন অধিদপ্তরের চলতি ফিস তালিকা (১৬-০৯-২০২৫ সংস্করণ) আর নিজের উপজেলার মৌজা রেটের বই হাতের কাছে রাখা। বিধি ৯ ও ১০ অনুযায়ী গেজেটে ছাপা পারিশ্রমিকের তালিকা অফিসের বাইরে সবার দেখার মতো জায়গায় টাঙিয়ে রাখতে হয়।সরবরাহকারী
  • সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সীমানার ভেতরে বসার অনুমতি — সনদপ্রাপ্তরা নিবন্ধনকারী কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে অফিসে ঢুকে কাজ করতে পারেন। সনদবিহীন কাউকে অফিস চত্বরে দলিল লেখার কাজে পাওয়া গেলে নিবন্ধন আইনের ২(১১) ধারায় তাকে টাউট গণ্য করে ৮০ক ধারার টাউট তালিকায় নাম তোলা হয়।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বসতে চান সেখানে জায়গা আছে কি না দেখুন। বিধিমালায় ধরা হয় বছরে প্রতি ৩০০ দলিলের জন্য একজন লেখক, আর কোন অফিসে কতজন থাকবেন তা ঠিক করেন জেলা রেজিস্ট্রার।
  2. 2যোগ্যতা মিলিয়ে নিন — বয়স ২১-এর কম নয়, এসএসসি বা সমমান পাস, স্থানীয় ভাষায় মুসাবিদা করতে পারা আর সুন্দর হাতের লেখা।
  3. 3সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০, স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯ আর নিবন্ধন আইন ১৯০৮-এর দরকারি ধারাগুলো শিখুন — আবেদন ফরমেই এই জ্ঞান আছে কি না লিখতে হয়।
  4. 4১ নম্বর ফরমে নিজের হাতে আবেদন লিখে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর দিন, সরাসরি বা সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে; প্রশংসাপত্র থাকলে সঙ্গে দিন।
  5. 5রেজিস্ট্রার রাজি হলে সনদ ফি ৳১,০০০ জমা দিন। টাকা জমা হলে ৩ নম্বর ফরমের রেজিস্টারে নাম ওঠে আর ২ নম্বর ফরমে সনদ দেওয়া হয়; বিতরণের তারিখ থেকেই তা কার্যকর।
  6. 6মনে রাখুন সনদ ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্তই। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ৳২৫০ নবায়ন ফির ট্রেজারি চালান বা মানি অর্ডারের রসিদসহ আবেদন করুন।
  7. 7৬ নম্বর ফরমে রেজিস্টার রাখুন আর টাকা নেওয়ার সময় ৫ নম্বর ফরমে রসিদ দিন। রেজিস্টার শেষ হলে তিন বছর রেখে দিতে হয়, আর পরিদর্শনের সময় দেখাতে হয়।
  8. 8মক্কেলের মোট খরচের হিসাব মুখস্থ করুন — সাফ কবলায় স্ট্যাম্প শুল্ক ১.৫%, এ ফি ১% (সর্বনিম্ন ৳১০০), স্থানীয় সরকার কর ৩% বা সিটি কর্পোরেশনে ২%, ই ফি ৳১০০, এন ফি পাতায় ৳২৪, এনএন ফি ৳৩৬, কোর্ট ফি ৳১০, সঙ্গে উৎসে কর।
  9. 9দলিল লেখার আগে খতিয়ান, নামজারি, ডিসিআর আর মৌজা রেট মিলিয়ে দেখুন। ভুল মূল্য বসালে স্ট্যাম্প শুল্ক ও উৎসে কর দুটোই ভুল হয়।
  10. 10মুসাবিদা মক্কেলকে পড়ে শোনান, তারপর ফাইল কাউন্টারে দিন আর সই-টিপসইয়ের সময় সঙ্গে থাকুন।
  11. 11নিবন্ধন আইনের ৫২ ধারায় মূল দলিল ফেরত আনার দায়িত্ব নিলে তার জন্য তালিকায় আলাদা ৳৫ ধরা আছে — রসিদ দিয়ে নিন।
  12. 12প্রতি বছর নবায়ন করে যান। সময়মতো আবেদন না করলে নাম কাটা যায় এবং তখন নতুন করে সনদের জন্য আবেদন করতে হয়; সনদ বাতিলের আদেশ হলে ৩০ দিনের মধ্যে মহা-পরিদর্শক, নিবন্ধন বরাবর আপিল করা যায়।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বাণিজ্যিক ও আবাসিক মৌজার জন্য আলাদা উৎসে করের হার আছে; বন্দর-ঘিরে জমির দাম আর দলিলের অঙ্ক দুটোই বড়।
  • খুব উপযোগীকক্সবাজার · কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলাকা আলাদা করে উৎসে করের সারণিতে আছে; পর্যটন ঘিরে জমি ও প্লট বেচাকেনা বেশি।
  • খুব উপযোগীঢাকা · দেশের সবচেয়ে দামি জমি ও ফ্ল্যাটের বাজার; গুলশান, বনানী, মতিঝিল ও তেজগাঁও থানার মৌজায় উৎসে করই শতকপ্রতি ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত ধরা — দলিলের অঙ্ক বড়, কাজও বেশি।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · ঢাকার লাগোয়া শিল্প বলয়; কারখানা ও আবাসনের জন্য জমি হাতবদল বেশি, আর গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলাকায় আলাদা উৎসে করের হার ধরা।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · ঢাকার দক্ষিণে জমির দাম চড়া, আর শিল্প-গুদাম-আবাসনের কেনাবেচা লেগেই থাকে; সিটি কর্পোরেশন এলাকায় স্থানীয় সরকার কর ২%, বাইরে ৩%।
  • খুব উপযোগীসিলেট · প্রবাসী পরিবারের জমি কেনা, ভাগ-বাঁটোয়ারা আর পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কাজ বেশি — বিশেষ পাওয়ার ৳৮০০, সাধারণ পাওয়ার ৳১,৫০০ স্ট্যাম্প শুল্ক, এসব দলিল দলিল লেখকই করেন।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; কৃষিজমির বেচাকেনা, ব্যাংকে বন্ধকী দলিল আর বণ্টননামার সংখ্যা বেশি। বন্ধকী দলিলে এ ফি ৫ লাখ পর্যন্ত ১%, সর্বনিম্ন ৳২০০ ও সর্বোচ্চ ৳৫০০।
  • সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘিরে জমির দাম বাড়ছে আর উপজেলা পর্যায়ে দলিলের সংখ্যা বেশি; এখানে স্থানীয় সরকার কর ৩%।
  • সম্ভবখুলনা · খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলাকা আলাদা হারে ধরা; শিল্প ও চিংড়ি ঘেরের জমি হাতবদল এখানকার নিয়মিত কাজ।
  • সম্ভবরাজশাহী · রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলাকা উৎসে করের সারণিতে আলাদা করে ধরা; শহরের বাইরে কৃষিজমির বণ্টননামা ও এওয়াজের কাজও নিয়মিত।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: গেজেটের তালিকার চেয়ে বেশি টাকা নিলে বিধি ১০(২) অনুযায়ী সনদ বাতিলযোগ্য — অথচ গোটা পেশাটাই তালিকার উপরে চলে। তালিকায় প্রতি ৩০০ শব্দে ৳১০–১৫, আর টিআইবির ২০১৯ সালের গবেষণায় বাস্তবে নেওয়া হয় মক্কেলপ্রতি ৳৫০০–৫,০০০, প্রায়ই সমিতির চাঁদার নামে। যেকোনো লিখিত অভিযোগে জেলা রেজিস্ট্রার সনদ বাতিলের আদেশ দিতে পারেন; আপিলের সময় ৩০ দিন।
  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: নবায়নের জানালা মাত্র এক মাস — ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি। এর মধ্যে ট্রেজারি চালান বা মানি অর্ডারের রসিদসহ সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আবেদন না গেলে জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারের বই থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়, আর তখন ৳১,০০০ দিয়ে নতুন সনদের জন্য গোড়া থেকে আবেদন করতে হয়।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: সনদ একটি নির্দিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিপরীতে দেওয়া হয়, আর সেই অফিসে কতজন লেখক থাকবেন তা রেজিস্ট্রার ঠিক করেন — সাধারণত বছরে প্রতি ৩০০ দলিলে একজন। তাই জায়গা খালি না হলে সনদ মেলে না। টিআইবি ২০১৯ সালে দেখেছে, সনদ ও শিক্ষানবিশির জন্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।
  • মাঝারিচাহিদা: কাজ পুরোটাই জমি হাতবদলের উপর। রেজিস্ট্রেশন খাতের রাজস্ব ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ১১,৬০০ কোটি টাকা, ২০২২-২৩-এ ১৫,১২৪ কোটি — জমির বাজার নামলে বা উৎসে করের হার বদলালে দলিলের সংখ্যাও নড়ে। আগের অর্থবছরের নয় মাসে ৩৬.৫ লাখ দলিল হয়েছিল, ৪৯৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস মিলে।
  • বেশিঅন্যান্য: টিআইবি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ঝুঁকিতে থাকা দপ্তর বলেছে — এক দলিল রেজিস্ট্রিতে ৳১,০০০ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষের হিসাব পাওয়া গেছে ১৬টি জেলা ও ৪১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জরিপে। এই চেইনের ভেতরে বসে কাজ করতে হয়, আর অভিযোগ উঠলে সনদ যায় লেখকেরই।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা শিখেছিদৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের একজন দলিল লেখক

প্রবাসীর ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকার জমি নিজের নামে, বাতিল হলো দলিল লেখকের লাইসেন্স

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক দলিল লেখক ২০২১ সালে ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কেনা দেড় বিঘা জমি ক্রেতার নামে না করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন; তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর লাইসেন্স বাতিল হয়।

কারণ
আইনি জটিলতা, অন্যান্য

একই রকম আরও ব্যবসা

ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

ফ্ল্যাট ও জমি ব্রোকারেজ

ক্রেতা ও বিক্রেতাকে মিলিয়ে দিয়ে কমিশন নেওয়া। ব্রোকারির জন্য আলাদা সরকারি লাইসেন্স লাগে না, পুঁজি বলতে একটা ফোন; ঢাকায় ফ্ল্যাট বিক্রি হয় ১ কোটি থেকে ১১ কোটি টাকায়।

পুঁজি
৳১ হাজার – ৳১ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
৩০ – ২৭০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

জমি জরিপ ও আমিন সেবা

শিকল-ফিতা বা যন্ত্র দিয়ে জমি মেপে দেওয়া, নকশার সঙ্গে দখল মিলিয়ে দেখা। কাগজের খরচ এখন সরকারি ওয়েবসাইটেই বাঁধা — মৌজা ম্যাপ ৳৬৩০, অনলাইনে খতিয়ান ৳১০০। আমিনের নিজের ফির কোনো সরকারি হার নেই।

পুঁজি
৳১ হাজার – ৳৬১ হাজার
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
৩ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

বীমা এজেন্ট

কমিশনে চলা কাজ, পুঁজি প্রায় শূন্য। লাইফ বীমায় প্রথম বছরের প্রিমিয়ামের সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ কমিশন, আর নন-লাইফে ব্যক্তি এজেন্টের কাজ ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বন্ধ।

পুঁজি
৳৫০০ – ৳১৫ হাজার
জনবল
১ জন
প্রথম আয়
৩০ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

অনলাইন কোর্স বিক্রি

নিজের জানা কাজ শেখানোর কোর্স বানিয়ে বিক্রি। পুঁজি প্রায় শূন্য, কোর্সের দাম ৳১,২৫০–৮,৮০০; তবে নতুন কোর্সের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হয় মাত্র ১৬–৭২ জন।

পুঁজি
৳০ – ৳৯০ হাজার
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
১৪ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান