মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

পাট চাষ

ফাল্গুন-চৈত্রে বোনা, আষাঢ়-শ্রাবণে কাটা ও জাগ দেওয়া। আগস্ট ২০২৬-এ পাইকারি জাতীয় গড় সাদা পাট ৳৯৮.৭৫ কেজি (মণে ৳৩,৯৫০), তোষা ৳৯১.৮৪ (মণে ৳৩,৬৭৩), আর উৎপাদন খরচ মণে ৳২,৬০০–৩,২০০।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
পাট চাষ

পাট চাষ

শুরুর পুঁজি
৳২৪,০০০ – ৳১,৫০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
২ – ৮ জন
প্রথম বিক্রি
১২০ – ১৫০ দিন
সরকারি সূত্র
খরচ উঠতে
৪ – ৬ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
খামার · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

পাট বোনা হয় ফাল্গুনের শেষ সপ্তাহ থেকে চৈত্রের শেষ পর্যন্ত, আর দেশি পাট ১০৫-১১০ দিন আর তোষা পাট ১০০-১০৫ দিন বয়সে কাটতে হয় — ফুল আসার দুই সপ্তাহের মধ্যে কাটলে আঁশের মান ভালো হয়। কৃষি তথ্য সার্ভিসের সুপারিশ: ছিটিয়ে বুনলে হেক্টরপ্রতি ৬.৫–৭.৫ কেজি বীজ, লাইনে বুনলে ৩.৫–৫ কেজি; বপনের দিন ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১৭ কেজি টিএসপি ও ২২ কেজি এমওপি, আর ৬-৭ সপ্তাহ পরে আরও ১০০ কেজি ইউরিয়া। নিড়ানি দুবার — ১৫-২১ দিনে আর ৩৫-৪২ দিনে। এই ফসলের আসল কাজ কাটার পরে। জাগ দেওয়ার জন্য পরিষ্কার পানি লাগে, আর সেটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা; বদ্ধ বা কাদা পানিতে পচালে আঁশ নিম্নমানের হয় আর দাম পড়ে যায়। পানির অভাব থাকলে রিবন রেটিং করা যায় — কাঁচা গাছ থেকে ছাল ছাড়িয়ে ৬ মিটার × ২ মিটার × ১ মিটার গর্তে ৮,০০০–৮,৫০০ লিটার পানিতে জাগ দেওয়া, সঙ্গে বিঘাপ্রতি ৩০০-৩৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০-১২ দিনে হয়ে যায়। পাট বেচা যায় কারণ আইন আছে: পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ অনুযায়ী বিধিমালায় নির্ধারিত পণ্য — ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি — পাটের বস্তা ছাড়া বিক্রি, বিতরণ বা সরবরাহ করা যায় না; না মানলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা দুটোই। পাট অধিদপ্তর এই আইন আর দি জুট (লাইসেন্সিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট) রুলস, ১৯৬৪ প্রয়োগ করে আর ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেয়। পাটখড়িও বিক্রি হয়, সেটা আলাদা আয়।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳২৩,৪০০ – ৳২৮,৮০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৮৪ – ৳৯৯ / কেজিসরকারি সূত্র
পরিবর্তনশীল খরচ৳৬৫ – ৳৮০ / কেজিবিতর্কিত
মোট লাভের হার৫% – ২৪%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১২০ – ১৫০ দিনসরকারি সূত্র
খরচ উঠে আসার সময়৪ – ৬ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র১২০ – ১৮০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ১৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৪ – ২০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • লাঙল বা পাওয়ার টিলার ও মই, নিড়ানি, কাটার কাস্তে, পাতা ঝরানো ও গোড়া থেঁতলানোর বাঁশের মুগুর, রিবনার যন্ত্র (রিবন রেটিং করলে), পলিথিন, আর আঁশ বাঁধার দড়ি।যন্ত্রপাতি
  • সার — কৃষি তথ্য সার্ভিসের সুপারিশ: বপনের ২-৩ সপ্তাহ আগে হেক্টরপ্রতি ৩.৫ টন গোবর; বপনের দিন ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১৭ কেজি টিএসপি, ২২ কেজি এমওপি; ৬-৭ সপ্তাহ পর আরও ১০০ কেজি ইউরিয়া। সরকারি দর কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়া ও টিএসপি ৳২৭, ডিএপি ৳২১, এমওপি ৳২০ প্রতি কেজি।শুরুর মাল
  • পাটবীজ — বিএডিসির ২০২৫-২৬ বিতরণ বর্ষের নির্ধারিত দর (১৪-০১-২০২৬): কৃষক পর্যায়ে দেশি ৳১১৫, তোষা ৳১২০, কেনাফ ৳১৩৫ প্রতি কেজি; বীজ ডিলার ও চুক্তিবদ্ধ চাষি পর্যায়ে ৳১০০, ৳১০৫ ও ৳১২০। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা ও পাট অধিদপ্তরের জন্য তোষা বীজ ৳২২০। হার: ছিটিয়ে ৬.৫–৭.৫ কেজি/হেক্টর, লাইনে ৩.৫–৫ কেজি/হেক্টর।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, ৩–৫ কর্মদিবসে ইস্যু, বছরে নবায়ন। নিজের খেতের পাট নিজে বেচলে লাগে না।লাইসেন্স
  • পাট ব্যবসার লাইসেন্স — পাট অধিদপ্তর, দি জুট (লাইসেন্সিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট) রুলস, ১৯৬৪ ও পাট আইন, ২০১৭ এর আওতায়। কাঁচা পাট কেনাবেচা, বেলিং, গুদামজাতকরণ বা রপ্তানি করলে লাগে; চাষির জন্য নয়। লাইসেন্স ছাড়া পাট ব্যবসা করা পাট অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত অনিয়ম, আর তাঁরা মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউশন দেয়। ফি ও মেয়াদ এখানে যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
  • জাগ দেওয়ার কাজটাই এই ব্যবসার দক্ষতা — কত দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে, কখন হয়েছে তা বোঝা, আর হাত দিয়ে খড়ি থেকে আঁশ ছাড়িয়ে না ছিঁড়ে ধোয়া। তার সঙ্গে ফুল আসার দুই সপ্তাহের মধ্যে কাটার সময় চেনা আর গ্রেড বুঝে দর করা।দক্ষতা
  • বিএডিসির পাটবীজ ডিলার বা নশিপুর ও চিংলা ভিত্তি পাটবীজ খামার, সার ডিলার, হাটের পাট ব্যবসায়ী বা কাঁচা বেলার, আর কাটা-জাগ-ধোয়ার শ্রমিকের দল (২০২৫ সালে পাবনায় মজুরি দিনে ৳৮০০–৯০০)।সরবরাহকারী
  • জাগ দেওয়ার জায়গা — চলমান পরিষ্কার পানির খাল, ডোবা বা বিল; না থাকলে রিবন রেটিংয়ের গর্ত, এক বিঘার ছালের জন্য ৬ মিটার × ২ মিটার × ১ মিটার, পলিথিন বিছানো, ৮,০০০–৮,৫০০ লিটার পানি। প্রতি কেজি ছালের জন্য ২.৫–৩ লিটার পানি দরকার। সঙ্গে ধোয়ার জায়গা ও শুকানোর বাঁশের আড়া।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1জমি বেছে নিন। পলি দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো, আর এমন জমি লাগবে যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না এবং আষাঢ়ের আগে বন্যার পানি আসে না।
  2. 2বৃষ্টির পরপরই আড়াআড়ি ৫-৭টি চাষ ও মই দিয়ে জমি মিহি করে নিন এবং আগাছামুক্ত করুন। মোটা ঢেলায় পাটের বীজ গজায় না।
  3. 3বীজ ও পরিমাণ ঠিক করুন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের হার — ছিটিয়ে বুনলে হেক্টরপ্রতি ৬.৫–৭.৫ কেজি, লাইনে বুনলে ৩.৫–৫ কেজি। বিএডিসির ২০২৫-২৬ বিতরণ বর্ষের কৃষক পর্যায়ের দর: দেশি পাটবীজ ৳১১৫, তোষা ৳১২০, কেনাফ ৳১৩৫ প্রতি কেজি।
  4. 4লাইনে বুনুন যদি পারেন — লাইন থেকে লাইন ৩০ সেন্টিমিটার, গাছ থেকে গাছ ৭-১০ সেন্টিমিটার। লাইনে বুনলে ফলন বেশি হয়, পরিচর্যা সহজ হয় আর বীজ কম লাগে।
  5. 5বপনের ২-৩ সপ্তাহ আগে হেক্টরপ্রতি ৩.৫ টন গোবর মিশিয়ে দিন, আর বপনের দিন ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১৭ কেজি টিএসপি ও ২২ কেজি এমওপি দিন। প্রণোদনা পেলে বিঘাপ্রতি ৫ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি বিনামূল্যে মেলে।
  6. 6দুবার নিড়ানি দিন — ১৫-২১ দিনের মধ্যে প্রথমবার, ৩৫-৪২ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার, আর দ্বিতীয়বারেই চারা পাতলা করুন। ৬-৭ সপ্তাহ পর হেক্টরপ্রতি আরও ১০০ কেজি ইউরিয়া ছিটিয়ে দিন।
  7. 7জাগ দেওয়ার পানির ব্যবস্থা কাটার আগেই করে ফেলুন। এটাই এই ফসলের সবচেয়ে বড় সমস্যা — বদ্ধ বা কাদা পানিতে পচালে আঁশ নিম্নমানের হয়, আর নিম্নমানের আঁশে গড় ছাটের দাম, মণে প্রায় ৬০০ টাকা কম।
  8. 8ফুল আসার দুই সপ্তাহের মধ্যে কাটুন — দেশি পাট ১০৫-১১০ দিনে, তোষা ১০০-১০৫ দিনে। দেরি করলে আঁশ মোটা ও খসখসে হয়ে যায়।
  9. 9পানি কম থাকলে রিবন রেটিং করুন। কাটার পর পাতা ঝরিয়ে গোড়ার ৩-৪ ইঞ্চি বাঁশের মুগুর দিয়ে থেঁতলে রিবনার যন্ত্রে ছাল ছাড়িয়ে নিন। এক বিঘার ছালের জন্য ৬ মিটার × ২ মিটার × ১ মিটার গর্ত, পলিথিন বিছিয়ে ৮,০০০–৮,৫০০ লিটার পানি, ৩০০-৩৫০ গ্রাম ইউরিয়া আর ২০-৪০ লিটার পুরোনো জাগের পানি — ১০-১২ দিনে হয়ে যায়।
  10. 10পচন শেষে পরিষ্কার পানিতে বা মাটির চাড়িতে ধুয়ে বাঁশের আড়ায় ভালোভাবে শুকিয়ে গুদামজাত করুন। কাদা লেগে থাকলে বা ভেজা রাখলে রং নষ্ট হয় আর গ্রেড নামে।
  11. 11পাটখড়ি আলাদা করে শুকিয়ে রাখুন — জ্বালানি ও কাঠকয়লার বাজার আছে। দাম পড়ে গেলে এই বাড়তি আয়টাই অনেক সময় খরচ তুলে দেয়।
  12. 12গ্রেড দেখে বেচুন, তাড়াহুড়ো করে নয়। আগস্ট ২০২৬-এর জাতীয় গড়ে সাদা পাট ৳৯৮.৭৫ কেজি আর গড় ছাট ৳৮৪.০৩ — মণে প্রায় ৬০০ টাকার তফাত। একই হাটে একই দিনে দর আলাদা হতে পারে: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ শার্শায় সর্বোচ্চ ৳৩,৫০০ মণ, অন্য এলাকায় ৳৪,০০০।

মৌসুম

  1. জানুকম
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চবেশি
  4. এপ্রিলবেশি
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইবেশি
  8. আগস্টবেশি
  9. সেপ্টেবেশি
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেকম
  12. ডিসেকম
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীফরিদপুর · দেশের প্রধান পাট জেলা — ২০২৬ মৌসুমে ৮৭,০০০ হেক্টরে আবাদ, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে, উৎপাদন প্রত্যাশা প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার টন। পাট ব্যবসার আড়ত ও বেলিং কারখানা এখানেই ঘন।
  • খুব উপযোগীজামালপুর · কৃষি মন্ত্রণালয়ের খরিপ ২০২৫-২৬ পাট প্রণোদনার জেলাভিত্তিক তালিকায় সবচেয়ে বড় বরাদ্দ — ৩,৮০০ জন/বিঘা; যমুনার চরে পাট ও পাটবীজ দুটোই হয়।
  • খুব উপযোগীযশোর · শার্শার বাগআঁচড়া, গোগা ও রুদ্রপুর বড় পাটের হাট; তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এখানকার দর দেশের অন্য এলাকার চেয়ে মণে ৫০০ টাকা কম ছিল।
  • খুব উপযোগীকিশোরগঞ্জ · খরিপ পাট প্রণোদনায় ২,৪০০ জন/বিঘা; হাওরের ধারে পানি সহজে মেলে বলে জাগ দেওয়ার সমস্যা তুলনামূলক কম।
  • খুব উপযোগীপাবনা · সাঁথিয়ার করমজা চতুরহাটসহ আগাম পাটের হাট; ২০২৫ সালে এখানে বিঘাপ্রতি ৯ মণ ফলন আর মণে ৳৩,৭০০–৩,৮০০ দর পাওয়া গেছে। তবে পানির অভাবে জাগ দেওয়ার খরচ এখানেই বেশি।
  • খুব উপযোগীরাজবাড়ী · ফরিদপুর অঞ্চলের পাট বলয়ের অংশ; পদ্মার পাড়ে জাগ দেওয়ার পানি পাওয়া যায় আর ফরিদপুরের আড়তে পাঠানো সহজ।
  • খুব উপযোগীরাজশাহী · খরিপ পাট প্রণোদনায় ২,৬০০ জন/বিঘা, জামালপুরের পরেই; পদ্মার চরে পাট হয় আর বেলিং কারখানা আছে।
  • খুব উপযোগীটাঙ্গাইল · খরিপ পাট প্রণোদনায় ২,৫০০ জন/বিঘা; যমুনার তীরে বড় পাট এলাকা আর ঢাকার পাটকল ও বস্তা কারখানা কাছেই।
  • সম্ভবকুষ্টিয়া · বিএডিসির ভিত্তি পাটবীজ উৎপাদন জোনের একটি (ঢাকা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী), তাই মানসম্পন্ন বীজ কাছেই মেলে।
  • সম্ভবমাদারীপুর · ফরিদপুর-রাজবাড়ী-মাদারীপুর বলয়ের অংশ, নিচু জমিতে পাট ভালো হয় আর জাগ দেওয়ার পানিও মেলে।
  • সম্ভবনড়াইল · পুরোনো পাট এলাকা, চিত্রা ও নবগঙ্গার পানিতে জাগ দেওয়া যায়; বিক্রি মূলত যশোর ও খুলনার আড়তে।
  • সম্ভবসিরাজগঞ্জ · যমুনার চরে পাট হয়, তবে বন্যার পানি আগাম এলে অপরিণত পাট কাটতে হয়।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিনির্ভরশীলতা: জাগ দেওয়ার পানি। কাটার সময়ে খাল-বিলে পানি না থাকলে পাট পচানো যায় না, আর কাদা বা বদ্ধ পানিতে পচালে আঁশ নিম্নমানের হয়। গ্রেড নামলে দাম নামে — আগস্ট ২০২৬-এর জাতীয় গড়ে সাদা পাট ৳৯৮.৭৫ কেজি বনাম গড় ছাট ৳৮৪.০৩, মণে প্রায় ৬০০ টাকার ফারাক। পাবনার সাঁথিয়া-বেড়ায় পানির অভাবে জাগ দেওয়ার খরচই আলাদা করে বেড়ে গেছে। রিবন রেটিং সমাধান, কিন্তু তাতে গর্ত খোঁড়া, পলিথিন ও বাড়তি শ্রম লাগে।
  • বেশিচাহিদা: একই দিনে একেক এলাকায় একেক দাম। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া, গোগা ও রুদ্রপুর হাটে ভালো পাটের সর্বোচ্চ দর ছিল ৳৩,৫০০ মণ, অথচ দেশের অন্য এলাকায় একই মানের পাট প্রায় ৳৪,০০০ — মণে ৫০০ টাকা কম। চাষিদের সন্দেহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ। বাম্পার ফলনের পরেও এই ব্যবধান থেকে যায়, কারণ কৃষকের হাতে দ্বিতীয় কোনো ক্রেতা নেই।
  • মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: পাটের চাহিদার বড় অংশ আইনের ওপর দাঁড়িয়ে। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ অনুযায়ী বিধিমালায় নির্ধারিত পণ্য — ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি — পাটের বস্তা ছাড়া বিক্রি, বিতরণ বা সরবরাহ করা যায় না; না মানলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। কিন্তু আইনেই সরকারের অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা আছে, আর প্রয়োগ নির্ভর করে পাট অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্টের ওপর। প্রয়োগ শিথিল হলে প্লাস্টিকের বস্তা ফিরে আসে আর বস্তার কারখানাগুলোর কাঁচা পাটের চাহিদা কমে যায়।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: মজুরি। এই ফসলের খরচের প্রায় পুরোটাই শ্রম — বিঘাপ্রতি উপকরণ মাত্র ৳৪১৫, অথচ মোট খরচ ৳২৩,৪০০–২৮,৮০০। পাবনায় ২০২৫ সালে কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর মজুরি এক বছরে ৳৭০০ থেকে ৳৮০০–৯০০ দিনে উঠেছে। আর এই মজুরি দিতে হয় বিক্রির ঠিক আগে, যখন হাতে টাকা সবচেয়ে কম।
  • মাঝারিঅন্যান্য: বন্যা ও অসময়ের বৃষ্টি। পাট কাটার সময় আষাঢ়-শ্রাবণ, আর ঠিক তখনই বন্যার পানি আসতে পারে। আগাম পানি এলে অপরিণত পাট কাটতে হয় আর ফলন কমে যায়; উল্টোদিকে পানি না এলে জাগ দেওয়ার জায়গা থাকে না। দুই দিকেই ক্ষতি, আর কোনোটাই হাতে নেই।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা শিখেছিপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে রাজবাড়ী সদরের একজন পাটচাষি

বিঘায় খরচ ২৯ হাজার, মণে দাম ২ হাজারও মিলছে না

রাজবাড়ীতে এক বিঘা পাট তুলতে খরচ প্রায় ২৯,০০০ টাকা, ফলন ৮–১০ মণ, সবচেয়ে ভালো পাটের দর ২,৪০০ টাকা — বিঘাপ্রতি লোকসান প্রায় ৫,০০০ টাকা।

কারণ
দাম পড়ে যাওয়া, চলতি মূলধন

একই রকম আরও ব্যবসা

কৃষি ও খামার

মাশরুম চাষ

ঘরের ভেতর তাকে স্পন প্যাকেট বসিয়ে ২৫–৩০ দিনে ফলন। খরচ ৳৮০–৯০ কেজি, বিক্রি ৳২৫০–৩০০ — কিন্তু ঢাকার বাইরে ক্রেতা খুঁজে পাওয়াই আসল কাজ।

পুঁজি
৳২৫ হাজার – ৳৫ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
২৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

ভাসমান বেডে সবজি ও চারা

কচুরিপানা ও শ্যাওলা দিয়ে পানির উপর ধাপ বানিয়ে সবজির চারা উৎপাদন। জমি লাগে না, সেচ লাগে না। নাজিরপুরে বেডপ্রতি খরচ ৳১১,০০০, চারা বিক্রির আশা ৳২০,০০০।

পুঁজি
৳২২ হাজার – ৳২.২ লাখ
জনবল
২ – ৬ জন
প্রথম আয়
৩৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

আদা ও হলুদ চাষ

দশ-এগারো মাসের ফসল, আর পুঁজির সবচেয়ে বড় অংশ যায় বীজ আদা কিনতে — বিঘায় ৩৭৫–৪০০ কেজি, যা আজকের দরে ৳৪৫,০০০–৭০,০০০।

পুঁজি
৳২০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৭৫ – ৩১৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট)

গোবর আর কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরি। ৪৫ দিনে প্রথম সার, নার্সারি ও সবজি চাষিরা ক্রেতা।

পুঁজি
৳২০ হাজার – ৳৬০ হাজার
জনবল
১ – ২ জন
প্রথম আয়
৪৫ – ৬০ দিন
বাজারদর