মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

পাটজাত হস্তশিল্প

পাট দিয়ে ব্যাগ, টব ও শো-পিস তৈরি। ২ হাজার টাকার কাঁচি-দড়ি দিয়ে হাতে শুরু করা যায়, কিন্তু রপ্তানির অর্ডার পেতে কারখানা লাগে — ১০ মেশিনের কারখানায় গেছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
পাটজাত হস্তশিল্প

পাটজাত হস্তশিল্প

শুরুর পুঁজি
৳২,০০০ – ৳১০,০০,০০০
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
জনবল
১ – ৪০ জন
প্রথম বিক্রি
৭ – ১২০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
১ – ৮.৫ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
ওয়ার্কশপ · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

পাট দিয়ে হাতে বানানো ব্যাগ, স্কুল ব্যাগ, লেডিস ব্যাগ, ফুলের টব, শো-পিস, ম্যাট। দেশে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ, আর ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতারা পরিবেশবান্ধব পণ্য খুঁজছে — এই দুইয়ে মিলে পাটের ব্যাগের বাজারটা আছে। কিন্তু বাজার থাকা আর অর্ডার পাওয়া এক জিনিস নয়। পাবনার সুজানগরের ভায়না গ্রামের আফরোজা আক্তার আঁখির গল্পটা এই ব্যবসার আসল নিয়মটা দেখিয়ে দেয়। তিনি ইউটিউব দেখে পাটের কাজ শেখেন, ২ হাজার টাকা ধার করে কাঁচি আর দড়ি কিনে হাতে কাজ শুরু করেন। রপ্তানির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিডি ক্রিয়েশনের কাছে নমুনা নিয়ে গেলে কারখানা নেই বলে কাজ মেলেনি; অনেক অনুরোধের পর মাত্র ১০ পিসের নমুনা অর্ডার পান। সেই সময় মতো দেওয়ার পর কাজ আসতে শুরু করে। পরে ১০টি মেশিন দিয়ে ছোট কারখানা করতে লেগেছে প্রায় ৫ লাখ টাকা — নিজের জমানো ১ লাখ, স্বামীর জমি বন্ধক রেখে ২ লাখ আর ২ লাখ ঋণ। ২০২৩ সালে ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৪০টি মেশিনের কারখানা করেন, এখন সেখানে প্রায় ৪০ জন নারী কাজ করেন। সপ্তাহে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার পণ্য সরবরাহ করে আয় হয় প্রায় ২ লাখ টাকা, পণ্য যাচ্ছে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থাৎ শিক্ষাটা হলো — এই ব্যবসায় ঢোকার আসল বাধা কাঁচামাল নয়, কারখানা আর নিয়মিত সরবরাহের ক্ষমতা। রপ্তানিকারক বা সরবরাহকারী কেউ ছোট উদ্যোক্তাকে অর্ডার দেয় না যতক্ষণ না দেখে, নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্দিষ্ট দিনে দিতে পারবেন। কাঁচামালের দামও চড়া: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মানিকগঞ্জের ঘিওরের হাটে দেশি পাট মণপ্রতি ৳৪,০০০–৪,২০০ আর তোষা ৳৪,৩০০।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৫,০০০ – ৳৬,৫০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳১৩৩ – ৳৬৬৭ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
পরিবর্তনশীল খরচ৳১০০ – ৳২৫০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার২৫% – ৬৩%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৭ – ১২০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়১ – ৮.৫ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র৫ – ৯০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৩% – ১০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৪০ – ২১৪সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • শুরুতে শুধু কাঁচি ও দড়ি — প্রায় ২ হাজার টাকা। পরে সেলাই ও কাটিং মেশিন; আঁখির প্রথম কারখানায় ১০টি, বড় কারখানায় ৪০টি মেশিন।যন্ত্রপাতি
  • কাঁচা পাট, পাটের সুতা ও চট। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঘিওরের হাটে দেশি পাট মণপ্রতি ৳৪,০০০–৪,২০০, তোষা ৳৪,৩০০। সঙ্গে আস্তরণের কাপড়, রং, হাতল ও চেইন।শুরুর মাল
  • সরাসরি রপ্তানি করতে হলে রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি) ও ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব লাগে; পাটপণ্য রপ্তানিতে সরকার নগদ সহায়তা দেয়। ফি ও নবায়নের শর্ত আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে জেনে নিতে হবে — এই তথ্য যাচাই করা যায়নি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দিলে নিজের ইআরসি লাগে না।লাইসেন্স
  • ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। সাধারণত ৩–৫ কার্যদিবসে পাওয়া যায়।লাইসেন্স
  • হাতের কাজ ও নির্দিষ্ট মাপে একরকম পণ্য বানানোর ক্ষমতা। রপ্তানির ক্রেতা নকশা নয়, ধারাবাহিকতা দেখে — একশো ব্যাগের একশোটিই যেন একরকম হয়।দক্ষতা
  • কাঁচা পাটের জন্য স্থানীয় পাটের হাট ও পাট ব্যবসায়ী, আর অর্ডারের জন্য রপ্তানির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা বায়িং হাউজ। ঘিওরের হাটে নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর পাট ব্যবসায়ীরা আসেন।সরবরাহকারী
  • শুকনো, ধুলোমুক্ত ঘর — শুরুতে নিজের ঘরই যথেষ্ট। মেশিনে যাওয়ার সময় আলাদা কারখানাঘর লাগে; আফরোজা আঁখির ১০ মেশিনের কারখানায় গেছে প্রায় ৫ লাখ টাকা, ৪০ মেশিনের কারখানার জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1হাতে কাজ শিখুন। আফরোজা আঁখি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই ইউটিউব ভিডিও দেখে পাটের ম্যাট ও অন্যান্য পণ্য বানানো শিখেছেন। পাট উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণ কেন্দ্র (জেডিপিসি) রপ্তানিমুখী পাটপণ্যের প্রশিক্ষণও দেয়।
  2. 2অল্প টাকায় শুরু করুন। প্রথম ধাপে মেশিন লাগে না — ২ হাজার টাকার কাঁচি আর দড়ি দিয়েই হাতের কাজ শুরু করা যায়।
  3. 3নমুনা বানিয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে যান। রপ্তানিকারক ও বায়িং হাউজ নিজেরা গ্রামে আসে না — নমুনা নিয়ে তাদের কাছে যেতে হয়। প্রথম অর্ডার ১০ পিসের নমুনাও হতে পারে; সেটাই পরীক্ষা।
  4. 4প্রথম অর্ডার সময়মতো দিন। আঁখির ক্ষেত্রে ঠিক এটাই কাজ করেছে — সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী দেওয়ার পরই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায় আর নিয়মিত কাজ আসতে থাকে।
  5. 5গ্রামের কয়েকজনকে কাজ শিখিয়ে নিন আর ঘর থেকেই ছোট অর্ডার সামলান। আঁখি এভাবে এক বছরে প্রায় লাখ টাকা আয় করেছিলেন, তারপরই কারখানার কথা ভাবেন।
  6. 6কারখানা করার আগে অর্ডারের ধারাবাহিকতা দেখে নিন। আঁখির ১০টি মেশিনের কারখানায় গেছে প্রায় ৫ লাখ টাকা — জমানো ১ লাখ, জমি বন্ধক রেখে ২ লাখ, ঋণ ২ লাখ। অর্ডার না থাকলে এই টাকাটাই বোঝা।
  7. 7কাঁচা পাটের দর দেখে নিন। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মানিকগঞ্জের ঘিওরের হাটে দেশি পাট মণপ্রতি ৳৪,০০০–৪,২০০ আর তোষা ৳৪,৩০০। দাম বাড়লে পুরো হিসাব বদলে যায়, তাই অর্ডারের দর ঠিক করার আগে হাটের দর জানুন।
  8. 8ট্রেড লাইসেন্স নিন আর রপ্তানির কাজ সরাসরি করতে চাইলে ইপিবির রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি) ও ব্যাংক হিসাব ঠিক করুন। সরাসরি রপ্তানি না করে সরবরাহকারীর মাধ্যমে দিলে এগুলো লাগে না।
  9. 9কাজ বাড়লে ব্যাংক ঋণের কথা ভাবুন। আঁখি ২০২৩ সালে ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৪০টি মেশিনের কারখানা করেছেন, সেখানে এখন প্রায় ৪০ জন নারী কাজ করেন।
  10. 10মেলায় যান। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও এসএমই মেলায় পাটের ব্যাগ, টব, ম্যাট ও শো-পিসের স্টল বসে — নতুন ক্রেতা ও সরবরাহকারীর সঙ্গে পরিচয় এখানেই হয়।
  11. 11শুধু রপ্তানির অর্ডারে ভরসা করবেন না। দেশেও পাটের ব্যাগের বাজার আছে — ঢাকার ব্র্যান্ড কালিন্দী দোকান ও ওয়েবসাইট মিলিয়ে মাসে ১,২০০–৩,০০০ ব্যাগ বিক্রি করে।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীঢাকা · রপ্তানির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বায়িং হাউজ, জেডিপিসি ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা — অর্ডার ও ক্রেতা দুটোই এখান থেকে আসে; বনানীর ‘যাত্রা’য় পাটের ব্যাগের ব্র্যান্ড কালিন্দীর আউটলেট।
  • খুব উপযোগীফরিদপুর · দেশের অন্যতম বড় পাট উৎপাদনের জেলা; ফরিদপুরের পাট ব্যবসায়ীরা অন্য জেলার হাটেও গিয়ে পাট কেনেন, তাই কাঁচামাল হাতের কাছে।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · পুরোনো চটকল ও পাট ব্যবসার কেন্দ্র; নারায়ণগঞ্জের পাট ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন হাট থেকে পাট কেনেন, আর সুতা ও চটের জোগানও এখানেই সহজ।
  • খুব উপযোগীপাবনা · সুজানগর উপজেলার ভায়না গ্রামে ৪০ মেশিনের হস্তশিল্প কারখানায় প্রায় ৪০ জন নারী কাজ করেন; সেখান থেকে পাটের ব্যাগ ও শো-পিস ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে।
  • সম্ভবচট্টগ্রাম · রপ্তানির বন্দর — বিদেশি অর্ডারের চালান এখান দিয়েই যায়, আর বায়িং হাউজের অফিসও আছে।
  • সম্ভবখুলনা · চটকল ও পাট ব্যবসার আরেক পুরোনো কেন্দ্র; খুলনার পাট ব্যবসায়ীরা দূরের হাটেও গিয়ে পাট কেনেন, আর জেডিপিসির পরীক্ষাগার সুবিধা এখানে আছে।
  • সম্ভবমানিকগঞ্জ · ঘিওরের পাটের হাটে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেশি পাট মণপ্রতি ৳৪,০০০–৪,২০০ ও তোষা ৳৪,৩০০; বিঘাপ্রতি ফলন ১৩–১৪ মণ, খরচ ৳৭,০০০–৮,০০০।
  • সম্ভবরাজবাড়ী · পাটের জেলা, রাজবাড়ীর পাট ব্যবসায়ীরা ঘিওরসহ আশপাশের হাটে নিয়মিত পাট কেনেন — কাঁচামালের দর ও জোগান দুটোই জানা যায়।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিনির্ভরশীলতা: কারখানা না থাকলে কেউ অর্ডার দেয় না — এটাই এই ব্যবসার সবচেয়ে কম বলা বাধা। আফরোজা আঁখি নমুনা নিয়ে রপ্তানির সরবরাহকারী বিডি ক্রিয়েশনের কাছে গেলে কারখানা না থাকার কারণে কাজ পেতে বেগ পেতে হয়; অনেক অনুরোধের পর মাত্র ১০ পিসের নমুনা অর্ডার মেলে। অর্থাৎ পণ্য ভালো হলেই হয় না, নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্দিষ্ট দিনে দেওয়ার সামর্থ্য দেখাতে হয়।
  • বেশিচাহিদা: রপ্তানি বাজারের ভরসা নড়বড়ে। ইপিবির হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি ৮৮ কোটি ডলার — তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, ৭.৮ শতাংশ বেশি। কিন্তু এর মধ্যে বহুমুখী পাটপণ্যের রপ্তানি ৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। অর্থাৎ পুরো খাত বাড়লেও হস্তশিল্পের অংশটা কমছে, আর রপ্তানি আয় বেড়েছে মূলত কাঁচা পাটের দাম বাড়ায়, পরিমাণ বাড়ায় নয়।
  • বেশিচলতি মূলধন: কাঁচামাল আগে কিনতে হয়, টাকা আসে পণ্য দেওয়ার পরে। কাঁচা পাটের দাম এক বছরে লাফ দিয়েছে — আগে যা ছিল মণপ্রতি ৳৩,০০০–৩,৫০০, বন্যায় উৎপাদন নষ্ট হওয়ায় তা ৳৫,৫০০–৬,০০০ পর্যন্ত উঠেছিল। বড় অর্ডার নিয়ে কাঁচামালের দাম বেড়ে গেলে ওই অর্ডারেই লোকসান হয়, কারণ দাম আগেই ঠিক করা থাকে।
  • মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: পাটের চাহিদার একটা বড় অংশ আইনের জোরে টিকে আছে — পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০। ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রির জন্য একটি অটো রাইস মিলকে ওই আইনের ৪ ও ১৪ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। আইন প্রয়োগ ঢিলে হলে বস্তার চাহিদা পড়ে যায়, আর তার ধাক্কা গোটা পাটের বাজারে লাগে।
  • মাঝারিবাকিতে বিক্রি: সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা বায়িং হাউজের মাধ্যমে কাজ করলে টাকা তাদের হাত ঘুরে আসে, আর কবে আসবে তা তাদের হিসাবের উপর। এই ব্যবসায় ঢোকার সময় বেশির ভাগ উদ্যোক্তা সেই শর্তটা লিখিত রাখেন না। কত দিনে টাকা, কে পরিবহন খরচ দেবে, মাল ফেরত এলে কী হবে — অর্ডার নেওয়ার আগে কাগজে লিখে নিন।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

মিশ্র অভিজ্ঞতাদ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের একজন পাটপণ্য উদ্যোক্তা

৫০ কর্মী নেমে ১৫, রপ্তানির খেলনা ছেড়ে দেশের বাজারে ব্যাগ

২০২০ সালের মার্চের আগে পাটের খেলনা বানিয়ে রপ্তানি করতেন, কর্মী ছিলেন ৫০ জন। মহামারির পর কর্মী নেমেছে ১৫ জনে, পণ্য বদলে হয়েছে দেশের বাজারের ব্যাগ; ব্যাংক হিসাবে লেনদেন কম বলে কোনো ঋণ মেলেনি।

কারণ
নির্ভরশীলতা, চলতি মূলধন
যা কাজ করেছেপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে দিনাজপুরের খানসামার একজন কুটিরশিল্প উদ্যোক্তা

ভ্যানে ফেরি করে শুরু, এখন মাসে ৩০–৩৫ লাখ টাকার পণ্য

২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর ভ্যানে পণ্য ফেরি করে শুরু। এখন মাসে ৩০–৩৫ লাখ টাকার হোগলা-পাট-সুতলির পণ্য তৈরি হয়, লাভ ২ লাখ টাকার বেশি, স্থায়ী কর্মী ৫৪ জন আর চুক্তিভিত্তিক ২৫০-এর বেশি।

কারণ
চাহিদা কম, ভালো যোগাযোগ

একই রকম আরও ব্যবসা

হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

কচুরিপানা ও হোগলা হস্তশিল্প

কচুরিপানা শুকিয়ে ট্রে, বাস্কেট ও পাপোশ বোনা। ঝিনাইদহে ৮০০ নারী বাড়িতে বসে এই কাজ করেন — পিস প্রতি ৳২০, দিনে ১২–১৫টি, মাসে প্রায় ৳৩,০০০। পণ্য যায় ৮২ দেশে।

পুঁজি
৳১ হাজার – ৳৪০ হাজার
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

কারচুপি ও হাতের কাজ

ঘরে বসে শাড়ি ও থ্রি-পিসে চুমকি, পুঁতি ও জরির হাতের কাজ। মহাজন সব উপকরণ দিয়ে যান; মজুরি শাড়িপ্রতি ৳৭০০–৮০০, আর একটি শাড়িতে অন্তত ১৫ দিন লাগে।

পুঁজি
৳৫০০ – ৳৫ হাজার
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
১৫ – ২০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

ব্লক-বাটিক ও টাই-ডাই

ঘরে বসে সুতি কাপড়ে মোম ও রং দিয়ে বাটিক-টাই-ডাইয়ের শাড়ি ও থ্রি-পিস তৈরি। কুমিল্লার দোকানে বাটিক শাড়ি ৳৫০০ থেকে ৳১,৭০০; একজন কারিগর দিনে প্রায় ১০টি শাড়ি করতে পারেন।

পুঁজি
৳৫ হাজার – ৳৫০ হাজার
জনবল
১ – ২০ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

কাগজের ঠোঙা ও প্যাকেজিং

বর্জ্য কাগজ কিনে হাতে ঠোঙা বানিয়ে দোকানে সরবরাহ। খাকি ঠোঙা কেজি ৳১৩৫–১৪০, সাদা ৳৮০; ৬০ কেজি কাগজে সাড়ে ৭ হাজার খরচে ৭০ কেজি ঠোঙা, লাভ ২,৩০০ টাকা।

পুঁজি
৳১০ হাজার – ৳৬০ হাজার
জনবল
১ – ২০ জন
প্রথম আয়
৩ – ১৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
পাটজাত হস্তশিল্প: পুঁজি, অর্ডার ও রপ্তানির হিসাব · আয়-রোজগার