মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

কাগজের ঠোঙা ও প্যাকেজিং

বর্জ্য কাগজ কিনে হাতে ঠোঙা বানিয়ে দোকানে সরবরাহ। খাকি ঠোঙা কেজি ৳১৩৫–১৪০, সাদা ৳৮০; ৬০ কেজি কাগজে সাড়ে ৭ হাজার খরচে ৭০ কেজি ঠোঙা, লাভ ২,৩০০ টাকা।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
কাগজের ঠোঙা ও প্যাকেজিং

কাগজের ঠোঙা ও প্যাকেজিং

শুরুর পুঁজি
৳১০,০০০ – ৳৬০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ২০ জন
প্রথম বিক্রি
৩ – ১৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
১ – ২ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
ঘরে বসে · সহজ

ব্যবসাটি সম্পর্কে

বর্জ্য কাগজ কিনে হাতে ঠোঙা বানিয়ে দোকানে দোকানে সরবরাহ করা। এই ব্যবসা চলে অন্য শিল্পের ফেলে দেওয়া কাগজে — একসময় আসত কাগজের সিমেন্টের বস্তা থেকে, এখন খাকি কাগজের প্রধান উৎস গুঁড়া দুধের ২৫ কেজির প্যাকেট। মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের কাগজীপাড়ার নজরুল কাজীর ভাষ্যে, ওই প্যাকেট পিসপ্রতি ১৮–২০ টাকা, এক কেজিতে ৫–৬টি ওঠে, আর এক কেজি কাগজ থেকে পাওয়া এক কেজি ঠোঙা বিক্রি হয় ১৩৫ বা ১৪০ টাকায়। সাদা ঠোঙার কাগজ আসে স্কুল-কলেজের পরীক্ষার খাতা ও অফিসের কাগজ থেকে, কেনা হয় ঢাকার নিমতলী থেকে কেজি দরে, আর সেটা বিক্রি হয় ৮০ টাকা কেজিতে। আঠা বানানো হয় ময়দা, পানি আর তুঁতে দিয়ে — তুঁতের স্বাদ তেতো বলে ইঁদুর আর তেলাপোকা ঠোঙায় হাত দেয় না। লাভের হিসাবটা খোলাসা: ৬০ কেজি কাগজ থেকে আঠাসহ ৭০ কেজি ঠোঙা হয়। ৬০ কেজি কাগজের দাম ৬ হাজার টাকা, কারিগর-যাতায়াত-আনুষঙ্গিক আরও দেড় হাজার, মোট সাড়ে ৭ হাজার। ১৪০ টাকা কেজিতে ৭০ কেজি বেচলে আসে ৯ হাজার ৮০০ টাকা, লাভ ২ হাজার ৩০০ টাকা। ক্রেতা হলো মশলার দোকান, ফলের দোকান, ডাল-চিনির মুদি দোকান, পুরি-শিঙাড়ার হোটেল, ঝালমুড়ির ভ্যান আর ফার্মেসি। ঢাকার মৌলভীবাজারের মশলার দোকানে খাকি ঠোঙা শতভাগ চলে, ফার্মেসিতেও প্রায় শতভাগ। কিন্তু ভরা মৌসুম মার্চ থেকে জুন — মাত্র চার মাস, বাকি মাসগুলোতে আয়-ব্যয় সমান বা ব্যয় বেশি। আর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী পলিথিন: নিষিদ্ধ হলেও ২০২৬ সালেও বাজারে বাধাহীনভাবে বিক্রি হচ্ছে, আর ঠোঙার দাম পলিথিনের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৭,৫০০ – ৳২,৫৭,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৮০ – ৳১৪০ / কেজিবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৮৬ – ৳১০৭ / কেজিসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার২১% – ২৪%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৩ – ১৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়১ – ২ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র২ – ১০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার২% – ৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৮০ – ৮৩সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • কাঁচি বা কাটার, মাপার স্কেল, আঠার পাত্র ও ব্রাশ, ঠোঙার তলার জন্য হার্ডবোর্ড, আর বান্ডিল বাঁধার সুতা। ঠোঙা মেশিনে তৈরি হয় না, পুরোটাই হাতের কাজ।যন্ত্রপাতি
  • খাকি কাগজ — গুঁড়া দুধের ২৫ কেজির প্যাকেট, পিস ৳১৮–২০, এক কেজিতে ৫–৬টি (অর্থাৎ কেজি ৳৯০–১২০)। সাদা কাগজ — পরীক্ষার খাতা ও অফিসের ব্যবহৃত কাগজ, ঢাকার নিমতলী থেকে কেজি দরে। তুলনায় নতুন সাদা লেখার কাগজ দিস্তাপ্রতি ৳৩৪–৪০ (টিসিবি, ১৫-০৯-২০২৬), যা এই কাজে ব্যবহারযোগ্য নয়।শুরুর মাল
  • আঠার উপকরণ — ময়দা, পানি ও তুঁতে। টিসিবির ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দরে খোলা ময়দা কেজি ৳৬৫–৭০। তুঁতের দাম যাচাই করা যায়নি।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। সাধারণত ৩–৫ কার্যদিবসে পাওয়া যায়।লাইসেন্স
  • হাতে দ্রুত ও একই মাপে ভাঁজ করা। কাগজের ঠোঙা তৈরিতে নারীরাই বেশি দক্ষ — কাগজীপাড়ায় একসময় হাজারের বেশি নারী এ পেশায় ছিলেন।দক্ষতা
  • ঢাকার বেচারাম দেউড়ি ও মৌলভীবাজারের কাগজের পাইকার (খাকি), নিমতলী (সাদা কাগজ), আর ফার্মেসির বিশেষ ঠোঙার জন্য মিটফোর্ড।সরবরাহকারী
  • কাজের ঘর আর রোদে শুকানোর খোলা জায়গা — কাগজীপাড়ায় মাদ্রাসামাঠে ঠোঙা শুকানো হয়। বর্ষাকালে ঢাকা জায়গা না থাকলে পুরো ব্যাচ নষ্ট হতে পারে।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1ঠিক করুন কোন ঠোঙা বানাবেন। খাকি ঠোঙা আকারভেদে ২ থেকে ২০ কেজি ওজন ধরতে পারে, বিক্রি হয় কেজি ৳১৩৫–১৪০-এ। সাদা কাগজের ঠোঙা ২৫০ গ্রাম থেকে ৫ কেজি ধরে, বিক্রি ৳৮০ কেজি। খাকিতে লাভ বেশি, কিন্তু কাঁচামালও দামি।
  2. 2কাঁচামালের উৎস ঠিক করুন। খাকি কাগজ আসে গুঁড়া দুধের ২৫ কেজির প্যাকেট থেকে — পিস ৳১৮–২০, এক কেজিতে ৫–৬টি; পাইকাররা ঢাকার মৌলভীবাজার ও বেচারাম দেউড়িতে বসেন। সাদা কাগজ আসে পরীক্ষার খাতা ও অফিসের কাগজ থেকে, ঢাকার নিমতলী থেকে কেজি দরে কেনা হয়।
  3. 3নতুন কাগজ কেনার কথা ভাববেন না। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে টিসিবির দরে সাদা লেখার কাগজ দিস্তাপ্রতি ৳৩৪–৪০ — এই দামে কিনে ঠোঙা বানিয়ে ৮০ টাকা কেজিতে বেচা যায় না। এই ব্যবসা বর্জ্য কাগজেই চলে।
  4. 4প্যাকেট খুলে প্রতিটি স্তর আলাদা করুন, তারপর মাপমতো কাটুন। গুঁড়া দুধের প্যাকেট দুই বা তিন স্তরের কাগজ দিয়ে তৈরি।
  5. 5আঠা বানান — ময়দা, পানি আর তুঁতে। তুঁতের স্বাদ তেতো হওয়ায় ইঁদুর ও তেলাপোকার আক্রমণ থেকে ঠোঙা বাঁচে।
  6. 6আঠা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে রোদে শুকাতে দিন। দেরি হলে শ্যাওলা পড়ে যায়, আর বর্ষাকালে সারাক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। তাই শুকানোর খোলা জায়গা আগে ঠিক করুন।
  7. 7ব্যাচ ধরে হিসাব করুন। ৬০ কেজি কাগজ থেকে আঠাসহ ৭০ কেজি ঠোঙা হয়। কাগজ ৳৬,০০০ + কারিগর, যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক ৳১,৫০০ = ৳৭,৫০০। ১৪০ টাকা কেজিতে ৭০ কেজি বেচলে ৳৯,৮০০, লাভ ৳২,৩০০।
  8. 8ক্রেতা ঠিক করুন — মশলার দোকান, ফলের দোকান, ডাল-চিনির মুদি দোকান, পুরি-শিঙাড়ার হোটেল, বাদাম-ঝালমুড়ির ভ্যান আর ফার্মেসি। ঢাকার মৌলভীবাজারের মশলার দোকানে খাকি ঠোঙা শতভাগ চলে, ফার্মেসিতেও প্রায় শতভাগ।
  9. 9ছোট ঠোঙা বান্ডিল করে বেচুন। ৫০০ বা ১০০০ পিসের বান্ডিল বিক্রি হয় ৳১৫০–২৩০ দরে — মুদি ও হোটেল এভাবেই কিনতে অভ্যস্ত।
  10. 10মৌসুম ধরে টাকার পরিকল্পনা করুন। ভরা মৌসুম মার্চ থেকে জুন, মাত্র চার মাস — ওই চার মাসের লাভ দিয়েই বারো মাস চলতে হয়, কারণ বাকি মাসগুলোতে আয়-ব্যয় সমান হয় বা ব্যয় কিছু বেশি।
  11. 11নির্দিষ্ট কয়েকটা বাজারে নিয়মিত যান। নজরুল কাজী এখন ঢাকার মৌলভীবাজার, কাপ্তানবাজার ও কারওয়ানবাজারে সরবরাহ করেন; নারায়ণগঞ্জের দিগবাবু বাজার ও নিতাইগঞ্জেও ঠোঙার ভালো চাহিদা।
  12. 12ওজনে ঠকাবেন না। হার্ডবোর্ড দিয়ে ঠোঙার তলা বানালে দোকানি ৫০–৭০ গ্রাম ওজন ফাঁকি দিতে পারে, আর সেই বদনামটা শেষ পর্যন্ত ঠোঙার ঘাড়েই পড়ে। হালকা তলা রাখলে ক্রেতা ঠোঙা ছাড়ে না।

মৌসুম

  1. জানুকম
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চবেশি
  4. এপ্রিলবেশি
  5. মেবেশি
  6. জুনবেশি
  7. জুলাইকম
  8. আগস্টকম
  9. সেপ্টেকম
  10. অক্টোকম
  11. নভেকম
  12. ডিসেকম
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীঢাকা · মৌলভীবাজারের মশলার দোকানে খাকি ঠোঙা শতভাগ চলে, কাপ্তানবাজার ও কারওয়ানবাজারেও নিয়মিত সরবরাহ; কাঁচামাল মেলে বেচারাম দেউড়ি ও নিমতলীতে, আর ফার্মেসির ঠোঙা আসে মিটফোর্ড থেকে।
  • খুব উপযোগীমুন্সীগঞ্জ · মিরকাদিম পৌরসভার কাগজীপাড়া (দক্ষিণ নগর কসবা) — ১০০ বছরের বেশি পুরোনো ঠোঙার পাড়া; ১০ মিনিট দূরের মস্তানবাজারে সাদা ঠোঙার ৮টি পাইকারি দোকান। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বাজারের ঠোঙার চাহিদা এখান থেকেই মেটে।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · দিগবাবু বাজার ও নিতাইগঞ্জে ঠোঙার ভালো চাহিদা; মুন্সিগঞ্জের কাগজীপাড়া থেকে দূরত্বও কম।
  • সম্ভবচট্টগ্রাম · ঠোঙা তৈরির এলাকা; বন্দরনগরীর মশলা ও শুঁটকির দোকানে কাগজের মোড়কের চাহিদা আছে।
  • সম্ভবযশোর · ঠোঙা তৈরির পুরোনো এলাকাগুলোর একটি; স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হয়।
  • সম্ভবখুলনা · ঠোঙা তৈরির আরেকটি এলাকা; শহরের মুদি ও মিষ্টির দোকানই প্রধান ক্রেতা।
  • সম্ভবকিশোরগঞ্জ · ভৈরব বাজারের হাটবারে মণকে মণ ঠোঙা যেত; বড় মোকাম, ক্রেতার অভাব হতো না।
  • সম্ভবনরসিংদী · কাগজীপাড়া থেকে আগে নিয়মিত ঠোঙা যেত এখানে; মাধবদী-বাবুরহাটের বড় বাজার কাছেই।
  • সম্ভবরাজশাহী · ঠোঙা তৈরির এলাকা; আম ও ফলের মৌসুমে চাহিদা বাড়ে।
  • কম উপযোগীবগুড়া · বড় বাজার আছে, কিন্তু ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখেও এখানে বাধাহীনভাবে পলিথিন বিক্রি হচ্ছে — আইন প্রয়োগ না হওয়ায় ঠোঙার চাহিদা চাপা পড়ে আছে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচাহিদা: পলিথিন নিষিদ্ধ, কিন্তু আইনটা কাগজেই থেকে গেছে। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বগুড়ার বাজার, শহর ও গ্রামে বাধাহীনভাবে পলিথিন বিক্রির কথা বলা হয়েছে — পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন আইন প্রয়োগ হচ্ছে না। ঠোঙার দাম পলিথিনের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ আর ঠোঙায় সদাই ভরতে সময় বেশি লাগে। ফল — কাগজীপাড়ার ৬০০ পরিবারের সাড়ে পাঁচশ একসময় এ কাজ করত, এখন করছে ৩০–৩৫টি।
  • বেশিচলতি মূলধন: ভরা মৌসুম মার্চ থেকে জুন, মাত্র চার মাস। নজরুল কাজীর হিসাবে ওই চার মাসে লাভ হয় প্রায় চার লাখ টাকা, আর সেই টাকাতেই বারো মাস চলতে হয়; বাকি মাসগুলোতে আয়-ব্যয় সমান হয় বা ব্যয় কিছু বেশি। মৌসুমের লাভ খরচ হয়ে গেলে পরের মৌসুমে কাগজ কেনার টাকা থাকে না।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: কাঁচামাল আপনার হাতে নেই — এটা অন্য শিল্পের ফেলে দেওয়া জিনিস। একসময় সিমেন্ট আসত ছয় স্তরের কাগজের বস্তায়, সেগুলোই ছিল খাকি কাগজের বড় উৎস। এখন সিমেন্টের বস্তা আর কাগজে হয় না, তাই ভরসা গুঁড়া দুধের প্যাকেটে। ওই প্যাকেটও যেদিন প্লাস্টিকে যাবে, সেদিন এই ব্যবসার কাঁচামালই থাকবে না।
  • মাঝারিনষ্ট হওয়া: আঠা লাগানোর অল্প সময়ের মধ্যে রোদে না শুকালে ঠোঙায় শ্যাওলা পড়ে যায়। বর্ষাকালে শুকাতে দেওয়া হাঙ্গামার কাজ — সারাক্ষণ আকাশের দিকে নজর রাখতে হয়, আর হঠাৎ বৃষ্টিতে একটা পুরো ব্যাচ, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকার মাল, মার যেতে পারে।
  • মাঝারিঅন্যান্য: লাভের মার্জিন পাতলা আর সেটা নিয়েই এই পেশার লোকজন চিন্তিত। নজরুল কাজীর ভাষ্য, ১ কেজি ঠোঙায় ৪০ টাকার কম লাভ হলে সংসার চালানো দায়; অথচ তাঁর নিজের দেওয়া ব্যাচের হিসাবে লাভ দাঁড়ায় কেজিপ্রতি প্রায় ৩৩ টাকা। কাগজের দাম সামান্য বাড়লে বা বিক্রির দর সামান্য কমলে লাভ শূন্যে নেমে আসে।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা শিখেছিদ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলার প্রতিবেদনে মুন্সিগঞ্জের কাগজীপাড়ার ঠোঙা কারিগরেরা

সাড়ে ৭ হাজারের ব্যাচে লাভ ২,৩০০ টাকা, ঠোঙার গ্রামে পরিবার ৫৫০ থেকে নেমে ৩৫

৬০ কেজি কাগজে ওঠে ৭০ কেজি ঠোঙা — খরচ ৭,৫০০ টাকা, বিক্রি ৯,৮০০ টাকা, লাভ ২,৩০০। পলিথিন ফিরে আসায় মিরকাদিমের কাগজীপাড়ায় ঠোঙার পরিবার ৫৫০-এর বেশি থেকে নেমে ৩০–৩৫টি।

কারণ
চাহিদা কম, সরবরাহকারীর সমস্যা
যা কাজ করেছেসমকালের প্রতিবেদনে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার একজন ঠোঙা প্রস্তুতকারক

ঘরের কাজের ফাঁকে দিনে ২০ কেজি ঠোঙা, আয় অন্তত ৩০০ টাকা

আলফাডাঙ্গার বাকাইল গ্রামে পুরোনো কাগজ কিনে ঠোঙা বানানো হয়; মজুরি কেজিতে ১০–২০ টাকা। একজন দিনে ২০ কেজি পর্যন্ত বানিয়ে অন্তত ৩০০ টাকা পান, পুঁজি বা দোকান কিছুই লাগে না।

কারণ
চলতি মূলধন, চাহিদা কম

একই রকম আরও ব্যবসা

হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প

বাঁশ-বেত চিরে কুলা, ঝুড়ি, খাঁচা ও পর্যটকের কারুপণ্য বোনা। একটি ভালো বাঁশ ৳৪০০–৫০০, তা থেকে পাঁচ দিনে ১৫–২০টি কুলা; হাঁস-মুরগির খাঁচা কারিগর পান ৳১৮০, দোকানি বেচেন ৳২০০।

পুঁজি
৳১০ হাজার – ৳১ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৫ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

শীতলপাটি বুনন

মুর্তার বেতি দিয়ে হাতে পাটি বোনা। ঝালকাঠিতে একটি পাটি চার-পাঁচ দিনে বুনে বিক্রি ৳১,০০০–৩,৫০০, আর জিআই সনদ থাকলেও দাম বাড়েনি — কারিগর এখনো মহাজনের দাদনেই বাঁধা।

পুঁজি
৳১০ হাজার – ৳৮০ হাজার
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
১২ – ৩৬৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

সাইকেল ও রিকশা মেরামত

রাস্তার পাশে ছোট দোকানে সাইকেল, রিকশা ও ই-রিকশা মেরামত। যন্ত্রপাতি ও মালের দাম মিলিয়ে ৳১৫,০০০ থেকেই শুরু করা যায়, আর খদ্দের কাজ শেষে নগদ টাকা দিয়ে যান।

পুঁজি
৳১৫ হাজার – ৳১.২ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

ব্লক-বাটিক ও টাই-ডাই

ঘরে বসে সুতি কাপড়ে মোম ও রং দিয়ে বাটিক-টাই-ডাইয়ের শাড়ি ও থ্রি-পিস তৈরি। কুমিল্লার দোকানে বাটিক শাড়ি ৳৫০০ থেকে ৳১,৭০০; একজন কারিগর দিনে প্রায় ১০টি শাড়ি করতে পারেন।

পুঁজি
৳৫ হাজার – ৳৫০ হাজার
জনবল
১ – ২০ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কাগজের ঠোঙার ব্যবসা: কেজির দাম, খরচ ও লাভের হিসাব · আয়-রোজগার