মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

ছোট রেস্টুরেন্ট

৩০০–৫০০ বর্গফুটের ভাতের হোটেল। প্রতিদিন নগদ টাকা আসে, কিন্তু কাঁচামালেই যায় বিক্রির ৩৫–৫০ শতাংশ আর চালু করতে ৬টি কাগজ লাগে।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
ছোট রেস্টুরেন্ট

ছোট রেস্টুরেন্ট

শুরুর পুঁজি
৳৩,০০,০০০ – ৳৬,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
৩ – ৮ জন
প্রথম বিক্রি
৬০ – ১২০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
১২ – ২৪ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

৩০০ থেকে ৫০০ বর্গফুটের একটা ভাতের হোটেল বা ছোট রেস্টুরেন্ট। সকালে নাশতা, দুপুরে ভাত-মাছ-মাংস, রাতে রুটি-তরকারি। খদ্দের খেয়ে টাকা দিয়ে চলে যায়, তাই হাতে প্রতিদিন নগদ থাকে। এই নগদ টাকাই এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, আবার এটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। প্রতিদিন হাতে টাকা আসে বলে অনেকে ভাবেন লাভ হচ্ছে, অথচ ভাড়া, বেতন, গ্যাস আর বিদ্যুতের হিসাব মাস শেষে করলে দেখা যায় টাকা নেই। কাঁচামালের খরচ বিক্রির ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। বাকিটা যায় ভাড়া, কর্মচারীর বেতন আর গ্যাসে। ঢাকার খুচরা দরে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মোটা চাল ৳৫০–৫৫, ব্রয়লার মুরগি ৳১৮০–২০০, গরুর মাংস ৳৭৮০–৮৫০, রুই মাছ ৳৩০০–৪৫০ আর খোলা সয়াবিন তেল ৳১৮৬–১৯৫ লিটার। এক বছরে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১১ শতাংশ আর ব্রয়লারের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু প্লেটের দাম বাড়ালে খদ্দের পাশের হোটেলে চলে যায়। এখানেই বেশির ভাগ হোটেল মারা যায়। কাগজপত্রও কম নয়। ট্রেড লাইসেন্স, নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, টিআইএন আর ভ্যাট নিবন্ধন — সব মিলিয়ে দুই থেকে চার সপ্তাহ লাগে। বসে খাওয়ার রেস্টুরেন্টে ভ্যাট ৫ শতাংশ। জায়গা নির্বাচন, একজন ভালো বাবুর্চি ধরে রাখা আর প্রতিদিন একই স্বাদ দেওয়া — এই তিনটাই ঠিক রাখতে পারলে হোটেল টেকে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳১,০০,০০০ – ৳২,৫০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৬০ – ৳২০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
পরিবর্তনশীল খরচ৳২৫ – ৳৮০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৫০% – ৬৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৬০ – ১২০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়১২ – ২৪ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ১ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৮% – ২০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৮০ – ২৫০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • চুলা ও বার্নার, এলপিজি সিলিন্ডার (১২ কেজি ৳১,৫৮৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে), ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজ, বড় হাঁড়ি-কড়াই, বাসনপত্র, টেবিল-চেয়ার, পানির ফিল্টার ও ফ্যান।যন্ত্রপাতি
  • নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন — বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। নতুন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ ৩ বছর। খাদ্য নিরাপত্তা (নিবন্ধন ও লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। রান্নাঘর সরেজমিনে পরিদর্শন হয়।লাইসেন্স
  • ফায়ার লাইসেন্স — ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দেখে দেওয়া হয়।লাইসেন্স
  • পরিবেশগত ছাড়পত্র — পরিবেশ অধিদপ্তর। কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য।লাইসেন্স
  • টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন — জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বসে খাওয়ার রেস্টুরেন্টে ভ্যাট ৫ শতাংশ।লাইসেন্স
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ফি ৳১০০–৪০,০০০। লাইসেন্সে 'রেস্টুরেন্ট' বা 'খাদ্য উৎপাদন' লেখা থাকা বাধ্যতামূলক। সঙ্গে আবেদন ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০।লাইসেন্স
  • একজন অভিজ্ঞ বাবুর্চি, প্রতিদিন একই স্বাদ ধরে রাখা, আর দৈনিক বিক্রি-খরচের হিসাব লেখা।দক্ষতা
  • পাইকারি চাল, তেল, মসলার আড়ত আর প্রতিদিনের কাঁচাবাজার ও মাছ-মাংসের দোকান।সরবরাহকারী
  • ৩০০–৫০০ বর্গফুট দোকান, রাস্তার পাশে। অগ্রিম ও সাজসজ্জাই পুঁজির সবচেয়ে বড় অংশ।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1জায়গা খুঁজুন। সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় গিয়ে গুনে দেখুন কত মানুষ হাঁটে আর পাশে কয়টা হোটেল আছে।
  2. 2ভাড়ার চুক্তি করুন। অগ্রিম কত মাসের, বাড়ানোর নিয়ম কী — সব লিখিত রাখুন।
  3. 3সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন। লাইসেন্সে অবশ্যই 'রেস্টুরেন্ট' লেখা থাকতে হবে।
  4. 4নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে নিবন্ধন করুন — নতুন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ ৩ বছর। তারা রান্নাঘর সরেজমিনে দেখতে আসে।
  5. 5ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে ফায়ার লাইসেন্স আর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিন।
  6. 6এনবিআর থেকে টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন করুন। বসে খাওয়ার রেস্টুরেন্টে ভ্যাট ৫ শতাংশ।
  7. 7রান্নাঘর ও বসার জায়গা সাজান: চুলা, এলপিজি সিলিন্ডার, ফ্রিজ, বাসনপত্র, টেবিল-চেয়ার আর পানির ব্যবস্থা।
  8. 8বাবুর্চি ঠিক করুন। একজন ভালো বাবুর্চিই হোটেলের আসল সম্পদ, আর তিনি চলে গেলে খদ্দেরও যায়।
  9. 9পাইকারি বাজারে সপ্তাহের বাজার করুন আর প্রতিদিনের দর টিসিবির তালিকা মিলিয়ে দেখুন।
  10. 10প্রতিদিনের বিক্রি ও বাজারের খরচ খাতায় লিখুন। শুধু ক্যাশবাক্স দেখে লাভ বোঝা যায় না।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুকম
  3. মার্চকম
  4. এপ্রিলবেশি
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বন্দর, ইপিজেড ও ট্রাকচালকদের কারণে রাতেও বিক্রি হয়।
  • খুব উপযোগীকক্সবাজার · পর্যটন মৌসুমে বিক্রি অনেক বেড়ে যায়, তবে অফ সিজনে খালি পড়ে থাকে।
  • খুব উপযোগীঢাকা · অফিসপাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় ও বাসস্ট্যান্ড ঘিরে সারা দিন খদ্দের থাকে।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · পোশাক কারখানার কর্মীরা প্রতিদিন বাইরে খান।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · কারখানা ও ব্যবসা এলাকায় দুপুরের ভিড় বেশি।
  • খুব উপযোগীসিলেট · প্রবাসী পরিবার ও পর্যটকের কারণে ভালো মানের খাবারের চাহিদা বেশি।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র, মহাসড়কের খদ্দের আছে।
  • সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বাস ও ট্রাকের যাত্রাবিরতি।
  • সম্ভবখুলনা · সরকারি অফিস ও বাজারকেন্দ্রিক চাহিদা।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · মেডিকেল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে খদ্দের।
  • সম্ভবরাজশাহী · বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের এলাকায় চাহিদা আছে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচলতি মূলধন: কাঁচামালের দাম সারা বছর বাড়ে কিন্তু প্লেটের দাম বাড়ানো যায় না — বাড়ালে খদ্দের পাশের হোটেলে চলে যায়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে খোলা সয়াবিন তেল ১১ শতাংশ, ময়দা (প্যাকেট) ১৪ শতাংশ আর ব্রয়লার মুরগি ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই চাপেই বেশির ভাগ হোটেল বন্ধ হয়।
  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: চালু করতে ছয়টি আলাদা অনুমোদন লাগে — ট্রেড লাইসেন্স, নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন। রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতি নিজেই বলেছে ১০–১২টি আলাদা দপ্তরে যেতে হয়। কাগজ ছাড়া চালালে যেকোনো দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা বা সিলগালা।
  • বেশিনষ্ট হওয়া: রান্না করা খাবার একই দিনে বিক্রি না হলে পুরোটাই ক্ষতি। বৃষ্টি, হরতাল বা পরীক্ষার ছুটিতে হঠাৎ বিক্রি অর্ধেক হয়ে যায়, অথচ রান্না আগেই হয়ে গেছে।
  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: পুরো হোটেল একজন বাবুর্চির হাতের স্বাদের উপর দাঁড়ানো। তিনি বেশি বেতনে অন্য হোটেলে চলে গেলে খদ্দেরও তাঁর পিছু নেয়। ঢাকায় বাবুর্চি বদল খুব সাধারণ ঘটনা।
  • মাঝারিচাহিদা: রোজার মাসে দুপুরের বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, অথচ ভাড়া ও বেতন পুরোটাই দিতে হয়। ঈদের ছুটিতে শহরের হোটেলে খদ্দের থাকে না কারণ সবাই গ্রামে চলে যায়।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা কাজ করেছেসময়ের আলোর প্রতিবেদনে জামালপুরের একজন খাবার হোটেল মালিক

চাকরির পাশে খাবার হোটেল, দিনে বিক্রি ৮–৯ হাজার টাকা

২০২২ সালে ৩,৫০,০০০ টাকায় জমি কিনে খাবার হোটেল চালু; এখন দিনে বিক্রি ৮,০০০–৯,০০০ টাকা। নিট লাভ বা কর্মীর সংখ্যা প্রতিবেদনে নেই।

পুঁজি
৳৩.৫ লাখ
কারণ
চলতি মূলধন

একই রকম আরও ব্যবসা

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

ফ্রোজেন পরোটা ও সমুচা

কাঁচা পরোটা, সমুচা ও শিঙাড়া বানিয়ে জমিয়ে প্যাকেটে বিক্রি। খুচরায় পরোটা পিস ৳১২.৫–১৯, মিনি সমুচা ৳৮.৬–৯.৪। কারখানা থেকে দোকান পর্যন্ত ঠান্ডার শিকলই এই ব্যবসার আসল শর্ত।

পুঁজি
৳৩ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
৩ – ১৫ জন
প্রথম আয়
৪৫ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

বিরিয়ানির দোকান

কাচ্চি, তেহারি ও মোরগ পোলাও প্লেট ধরে বিক্রি। খরচের প্রায় পুরোটাই মাংস — এক ডেকচি শাহি মাটন কাচ্চির কাঁচামালেই ৳১৩,২৬৫–১৫,০৫৪ যায়।

পুঁজি
৳৩ লাখ – ৳২৫ লাখ
জনবল
৩ – ১৫ জন
প্রথম আয়
৩০ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

সেমাই ও নুডলস তৈরি

ময়দার খামির কলে কেটে সেমাই ও নুডলস তৈরি। বছরের বেশির ভাগ বিক্রি রোজার ঈদে, আর একই আটা দিয়ে খোলা সেমাই ৳৮০ থেকে ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা ৳১,৬০০ পর্যন্ত যায়।

পুঁজি
৳৩ লাখ – ৳২৫ লাখ
জনবল
৩ – ২৫ জন
প্রথম আয়
৪৫ – ১০০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

টমেটো সস ও কেচাপ

শীতের টমেটো কিনে সস ও কেচাপ বানিয়ে বোতলে বিক্রি। বাজারে সস ৳৩২০–৪৩০ কেজি, আর বিএসটিআইয়ের নমুনা পরীক্ষাতেই কেচাপে ৳১১,১০০, সসে ৳১২,২০০।

পুঁজি
৳২.৫ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
৩ – ১২ জন
প্রথম আয়
৬০ – ১৮০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ছোট রেস্টুরেন্ট ব্যবসা: পুঁজি, লাইসেন্স ও লাভের হিসাব · আয়-রোজগার