মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

সাউন্ড ও লাইট ভাড়া

মাইক, সাউন্ড বক্স ও আলো কিনে অনুষ্ঠানে দিন হিসেবে ভাড়া দেওয়া। ভেড়ামারায় গাড়িসহ এক দিনের মাইক ভাড়া ৳১,২০০, তার ৳৫০০ যন্ত্রের। শব্দদূষণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী এখন লিখিত অনুমতি লাগে।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
সাউন্ড ও লাইট ভাড়া

সাউন্ড ও লাইট ভাড়া

শুরুর পুঁজি
৳১,০০,০০০ – ৳৪,৫০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম বিক্রি
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
২৮ – ৭৫ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
ঘুরে ঘুরে সেবা · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

বিয়ে, ওয়াজ মাহফিল, পূজা, খেলার আসর আর নির্বাচন — সব জায়গাতেই মাইক আর আলো লাগে। এই ব্যবসার হিসাবটা সহজ: যন্ত্র একবার কেনা হয়, তারপর সেই একই যন্ত্র বারবার ভাড়া যায়। তাই আসল প্রশ্ন একটাই — বছরে কত দিন ভাড়া যায়। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাইক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিএনজি বা ইজিবাইকসহ এক দিনের মাইক ভাড়া ৳১,২০০। এর মধ্যে গাড়ির ভাড়া ৳৭০০ আর মাইকের ভাড়া ৳৫০০। অর্থাৎ যন্ত্রের মালিকের হাতে দিনে থাকে ৳৫০০। কিন্তু যন্ত্রের দাম কম নয়। ৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেটে দুই জোড়া সাউন্ড বক্সের দাম ছিল ৳১,০০,০০০ থেকে ৳১,২০,০০০, ১০০০ ওয়াটের পিএ অ্যামপ্লিফায়ার ৳৭৫,০০০–৮০,০০০, আর ডুয়েল হ্যান্ড ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন ৳১২,০০০–১৪,০০০। এই টাকা উঠতে হলে বছরে অনেক দিন ভাড়া যেতে হবে। নিয়ম এখন কড়া হয়েছে। ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো জনপরিসরে লাউডস্পিকার, মাইক বা অ্যামপ্লিফায়ার বাজানো যাবে না। সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দ ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে আর অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করতে হবে। ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তার উপরের পদের পুলিশ ঘটনাস্থলেই জরিমানা করতে পারবেন। নির্বাচনের কাজেও ছাড় নেই — আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচারে মাইক চলবে শুধু দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, প্রতি সমাবেশে সর্বোচ্চ তিনটি লাউডস্পিকার আর শব্দ ৬০ ডেসিবেলের বেশি নয়। যিনি এই ব্যবসায় নামবেন, তাঁকে যন্ত্রের হিসাবের সঙ্গে এই নিয়মগুলোও মাথায় রাখতে হবে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৫,০০০ – ৳৪০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৫০০ – ৳১,২০০ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳০ – ৳৭০০ / এককবাজারদর
মোট লাভের হার৪২% – ১০০%বাজারদর
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৭ – ৩০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়২৮ – ৭৫ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ১৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ১৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা০ – ৩বাজারদর

শুরু করতে যা লাগবে

  • সাউন্ড বক্স, পাওয়ার অ্যামপ্লিফায়ার, মিক্সার, তারের ও ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন, স্ট্যান্ড, তার ও পার লাইট। গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেটের দর (৩ নভেম্বর ২০২৩): দুই জোড়া সাউন্ড বক্স ৳১,০০,০০০–১,২০,০০০; ১০০০ ওয়াট পিএ অ্যামপ্লিফায়ার ৳৭৫,০০০–৮০,০০০; ৫০০ ওয়াট মিক্সার ৳৫৫,০০০–৬০,০০০; ৩৫০ ওয়াট মিক্সার অ্যামপ্লিফায়ার ৳৩৫,০০০–৪০,০০০; ডুয়েল হ্যান্ড ওয়্যারলেস মাইক ৳১২,০০০–১৪,০০০; সাধারণ মাইক্রোফোন ৳৩,৫০০–৪,০০০।যন্ত্রপাতি
  • মঞ্চের আলো। চালডালের মতো অনলাইন বাজারে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দারাজ বাংলাদেশে এলইডি পার লাইটের দাম ৳১,৪৯২ থেকে ৳৫,১৬৬ প্রতিটি, আর ডিএমএক্স কন্ট্রোলার ৳৬,১৫৩। আটটি পার লাইটের একটা সাধারণ সেট এই দরে ৳১৫,০০০–৪০,০০০।যন্ত্রপাতি
  • পরিবহন — ভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইক বা সিএনজি। নিজের না থাকলে প্রতি কাজে ভাড়া গুনতে হয়; ভেড়ামারায় দিনে ৳৭০০।যন্ত্রপাতি
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। সাধারণত ৩–৫ কার্যদিবসে পাওয়া যায়।লাইসেন্স
  • জনপরিসরে মাইক ব্যবহারের লিখিত অনুমতি — শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, ২৫ নভেম্বর ২০২৫)। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পাবলিক প্লেসে লাউডস্পিকার, মাইক, অ্যামপ্লিফায়ার ও সুরযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দসীমা ৯০ ডেসিবেল এবং অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করতে হবে। ফির অঙ্ক প্রজ্ঞাপনের সংবাদে উল্লেখ নেই।লাইসেন্স
  • নির্বাচনী কাজে মাইক — রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র চলবে শুধু দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, প্রতি সমাবেশে সর্বোচ্চ তিনটি লাউডস্পিকার, শব্দ ৬০ ডেসিবেলের বেশি নয়। ভঙ্গ করলে ব্যক্তির সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা ৳১,৫০,০০০ জরিমানা বা উভয় দণ্ড।লাইসেন্স
  • যন্ত্র বসানো, তার টানা, শব্দ ঠিক করা আর অনুষ্ঠানের মাঝখানে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে সারিয়ে ফেলা। অনুষ্ঠান থামলে পরের কাজ আর আসে না।দক্ষতা
  • স্থানীয় ডেকোরেটর ও কমিউনিটি সেন্টার — এদের হাত ধরেই বেশির ভাগ বুকিং আসে। আর যন্ত্রাংশ ও মেরামতের জন্য একটা নির্ভরযোগ্য ইলেকট্রনিকস দোকান।সরবরাহকারী

কাজের ধাপ

  1. 1আপনার এলাকায় বছরে কত অনুষ্ঠান হয় তা গুনে দেখুন — বিয়ে, ওয়াজ মাহফিল, পূজা, খেলা, স্কুলের অনুষ্ঠান। এই সংখ্যাটাই ঠিক করবে যন্ত্রের দাম উঠবে কি না।
  2. 2কাছের কমিউনিটি সেন্টার ও বিয়ের হলগুলোতে খোঁজ নিন, তাদের নিজস্ব সাউন্ড সিস্টেম আছে কি না। থাকলে সেই এলাকার বিয়ের কাজ আপনি পাবেন না।
  3. 3সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন এবং লাইসেন্সে ব্যবসার ধরন হিসেবে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া লেখান।
  4. 4শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ পড়ে নিন। জনপরিসরে মাইক বাজাতে লিখিত অনুমতি লাগে — কোন অফিস সেই অনুমতি দেয় তা স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে জেনে নিন।
  5. 5ছোট করে শুরু করুন: এক জোড়া বক্স, একটা অ্যামপ্লিফায়ার, দুটো তারের মাইক আর কয়েকটা পার লাইট। এক ধাপে পুরো রিগ কিনবেন না — আগে দেখুন ভাড়া কেমন যায়।
  6. 6কেনার আগে গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেটসহ কয়েক জায়গায় দর যাচাই করুন। এখানকার দোকানই সারা দেশে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের বড় জোগানদাতা।
  7. 7পরিবহনের ব্যবস্থা ঠিক করুন। নিজের ভ্যান বা অটো না থাকলে প্রতি কাজে গাড়ি ভাড়া দিতে হবে — ভেড়ামারার হিসাবে দিনে ৳৭০০, যা ভাড়ার অর্ধেকেরও বেশি খেয়ে ফেলে।
  8. 8স্থানীয় ডেকোরেটর, কমিউনিটি সেন্টার, মাহফিল কমিটি আর ক্যাটারিং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরিচয় করুন। বেশির ভাগ কাজ এই হাত ঘুরেই আসে, খদ্দের সরাসরি আসে না।
  9. 9বুকিংয়ের সময় লিখিতভাবে ঠিক করুন — কত ঘণ্টা, কয়টা বক্স, কয়টা মাইক, কে বিদ্যুৎ দেবে আর যন্ত্র ভাঙলে কে দেবে। অনুষ্ঠানে যন্ত্র নষ্ট হওয়া সাধারণ ঘটনা।
  10. 10শীতের মৌসুম আর নির্বাচনের আগে আলাদা করে প্রস্তুতি নিন — বছরের বেশির ভাগ আয় ওই কয়েক মাসেই আসে, আর তখন যন্ত্র কম পড়ে।
  11. 11প্রতিটি কাজের তারিখ ও ভাড়া খাতায় লিখে রাখুন। বছর শেষে মোট কত দিন ভাড়া গেল — এই একটা সংখ্যা দিয়েই বোঝা যাবে যন্ত্রের দাম উঠছে কি না।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইকম
  8. আগস্টকম
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোবেশি
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীঢাকা · গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেট সারা দেশে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা; লালবাগ ও কাঁটাবনে ডেকোরেশন ব্যবসায়ী অনেক। তবে কমিউনিটি সেন্টারের নিজস্ব সাউন্ড থাকায় বিয়ের কাজ কমে গেছে।
  • খুব উপযোগীকুষ্টিয়া · ভেড়ামারায় মাইকের দোকান ঘন, আর সেখানকার ভাড়ার দরই এই পাতার ভিত্তি — গাড়িসহ দিনে ৳১,২০০।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; আশপাশের উপজেলার অনুষ্ঠানের যন্ত্র এখান থেকেই যায়।
  • সম্ভবব্রাহ্মণবাড়িয়া · আখাউড়া সড়ক বাজার, মোগড়া বাজার ও দুর্গাপুর এলাকায় পুরোনো মাইক সার্ভিসের দোকান আছে; নির্বাচনের সময় চাহিদা বাড়ে, তবে সেই চাহিদা এখন অনিশ্চিত।
  • সম্ভবচট্টগ্রাম · বড় শহর, অনুষ্ঠান ও সমাবেশের সংখ্যা বেশি; রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ পুরোনো বাণিজ্য এলাকায় ডেকোরেটরের সংখ্যাও বেশি।
  • সম্ভবকুমিল্লা · মহাসড়কঘেঁষা বড় বড় গ্রামীণ বাজার আর শীতে মাহফিলের ঘনত্ব — ছোট শহরে এই দুটোই ভাড়ার প্রধান উৎস।
  • সম্ভবগাজীপুর · ঘন বসতি ও কারখানার এলাকা, তবে জয়দেবপুর-যোগীতলার অভিজ্ঞতা বলছে পুরোনো ধরনের মাইকের চাহিদা প্রায় শেষ — নতুন সাউন্ড সিস্টেম না থাকলে কাজ আসে না।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · বড় ছাত্রসমাজ ও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাবেশ নিয়মিত হয়।
  • সম্ভবনরসিংদী · মাধবদীসহ ব্যবসায়ী এলাকায় বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে খরচের প্রবণতা বেশি।
  • সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের বিয়ে-অনুষ্ঠানে খরচ বেশি হয়, আর শীতে ওয়াজ মাহফিলের সংখ্যাও বেশি।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এখন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া জনপরিসরে মাইক বা অ্যামপ্লিফায়ার বাজানো নিষিদ্ধ, সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দ ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে আর অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করতে হবে। আগে শুধু ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নিতে পারতেন, এখন ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তার উপরের পদের পুলিশও ঘটনাস্থলেই জরিমানা করতে পারেন। রাতভর অনুষ্ঠান ধরে যাঁরা ব্যবসা সাজিয়েছেন, তাঁদের কাজের ধরনই বদলাতে হবে।
  • বেশিচাহিদা: চাহিদা কাঠামোগতভাবেই কমছে। এখন বেশির ভাগ বিয়ে হয় কমিউনিটি সেন্টারে, যেখানে মাইক-সাউন্ড আগে থেকেই বসানো থাকে, তাই আলাদা করে ভাড়া লাগে না — ৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে গুলিস্তান ও কাঁটাবনের ব্যবসায়ীরা এটাই বলেছেন। গাজীপুরের যোগীতলার একজন ব্যবসায়ীর হিসাব: দশ বছর আগে মাসে ৳৩০,০০০–৩৫,০০০ আয় হতো আর পাঁচ-ছয়জন কর্মচারী ছিল, এখন মাসে ৳৫,০০০-এর কাজও হয় না।
  • বেশিঅন্যান্য: যন্ত্র পড়ে থাকলেও দাম কমে। বছরের বেশির ভাগ দিন কাজ থাকে না, অথচ যন্ত্র পুরোনো হয়, বক্সের কোন ফেটে যায়, তার নষ্ট হয়। পুরোনো ধরনের হর্ন মাইক আধুনিক সাউন্ড বক্সের কাছে ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে। এক লাখ টাকার বক্স যদি বছরে ৩০ দিনও ভাড়া না যায়, তাহলে দাম ওঠার আগেই তা অচল হয়ে পড়ে।
  • মাঝারিঅন্যান্য: নির্বাচনের ভরসায় বিনিয়োগ করা ঝুঁকির। আখাউড়ায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় এক মাইক ব্যবসায়ী পুরো সময়ে মাত্র তিন দিন মাইক ভাড়া দিতে পেরেছিলেন, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম ছিল আর প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরে গিয়েছিল। আচরণবিধিতে প্রতি সমাবেশে তিনটির বেশি লাউডস্পিকার নিষেধ, আর সময় দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা — অর্থাৎ নির্বাচনের মৌসুমেও চাহিদার সীমা বাঁধা।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: পুরো টাকাটা যন্ত্রে আটকে যায় আর সেই যন্ত্র সহজে বিক্রি হয় না। গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা ৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে জানিয়েছেন, আগে শীতের আগে এই মার্কেটে দুইশ জোড়া বক্স বিক্রি হতো, সেবার পঞ্চাশ জোড়াও বিক্রি হয়েছে কি না সন্দেহ। অর্থাৎ ব্যবসা না চললে যন্ত্র বেচে টাকা তোলাও কঠিন।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা শিখেছিপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে নীলফামারীর একজন মাইক ভাড়ার ব্যবসায়ী

তিন মাসে আয় ৩০০ টাকাও নয়, অলস পড়ে রইল মাইকের যন্ত্রপাতি

করোনার বিধিনিষেধে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন মাসে এই মাইক ভাড়ার ব্যবসায় ৩০০ টাকাও আয় হয়নি। সৈয়দপুরে এমন ছোট ব্যবসা শতাধিক।

কারণ
চাহিদা কম, আইনি জটিলতা

একই রকম আরও ব্যবসা

ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

ইজিবাইক চার্জিং স্টেশন

ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জ করার গ্যারেজ। বিদ্যুতের দর এলটি-ডি৩ শ্রেণিতে ইউনিটপ্রতি ৳৯.০৯–১৪.২০, আর আবাসিক সংযোগ থেকে বাণিজ্যিক চার্জিং নিষিদ্ধ।

পুঁজি
৳১ লাখ – ৳৫ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
৩০ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি

অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও তোলার কাজ। ছোট প্যাকেজ ৳১৫,০০০ থেকে শুরু, আর কাজ চালানোর মতো ক্যামেরা-লেন্স-ট্রাইপডেই লাগে প্রায় ৳১,০৫,০০০।

পুঁজি
৳৮৫ হাজার – ৳৪ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
বাজারদর
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

লন্ড্রি ও ইস্ত্রি সেবা

কাপড় ধুয়ে-ইস্ত্রি করে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ, বাড়ি থেকে নিয়ে আসা-নেওয়াসহ। ঢাকায় এক শার্ট ধোয়া ও ইস্ত্রি ৳৬০ থেকে ৳১৫৫, শুধু ইস্ত্রি ৳১৫।

পুঁজি
৳৮০ হাজার – ৳৯ লাখ
জনবল
২ – ১০ জন
প্রথম আয়
৩ – ১০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

এসি ও ফ্রিজ সার্ভিসিং

বাসা ও অফিসে গিয়ে এসি-ফ্রিজ সার্ভিসিং ও মেরামত। মার্চ-জুনে কাজের চাপ, শীতে প্রায় বন্ধ — তাই বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি ছাড়া বারো মাস চালানো কঠিন।

পুঁজি
৳৬০ হাজার – ৳৪ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
সাউন্ড ও লাইট ভাড়ার ব্যবসা: দিনের ভাড়া, যন্ত্রের দাম ও নিয়ম · আয়-রোজগার