ব্র্যান্ডের হিস্যা ৫৫% থেকে ১২-১৩%: অনুমোদনহীন কারখানার চাপে কয়েল উৎপাদন বন্ধ করল এসিআই
দেশের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার কয়েলের বাজারে শত শত অনুমোদনহীন কারখানার ভিড়ে এসিআই ও মরটিনের মতো বড় ব্র্যান্ড উৎপাদন বন্ধ করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব কারখানা মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক দেয়, কর দেয় না, নিয়ম মানে না।
প্রথম আলোর ২০১৯ সালের জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মশার কয়েলের বাজার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার। ২০১২ সালেও এই বাজারে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর হিস্যা ছিল ৫৫ শতাংশের বেশি, যা নেমে এসেছে ১২-১৩ শতাংশে। সমস্যা শুরু হয় ২০১২ সালের দিকে: প্রথমে চীন থেকে প্রচুর অনুমোদনহীন কয়েল আসে, পরে দেশেই যাত্রাবাড়ী, টঙ্গী, ভৈরব, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ নানা জায়গায় শত শত কারখানা গড়ে ওঠে, যাদের অনেকের পরীক্ষাগার বা রসায়নবিদ নেই। এই অবস্থায় বাজারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এসিআই কয়েল উৎপাদন বন্ধ করে দেয়; মরটিন ব্র্যান্ডের উৎপাদক রেকিট অ্যান্ড বেনকাইজারও কারখানা বন্ধ করে। এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভাষায়, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কয়েল তারা বানাতে পারেন না; তাঁদের অনেক নিয়ম মানতে হয়, কর দিতে হয়, অথচ ওই কারখানাগুলোর কিছুই লাগে না, তাই উৎপাদনই বন্ধ করে দিয়েছেন। বড় কোম্পানিগুলোর দাবি, মশার কয়েলে কোন রাসায়নিক কী মাত্রায় দিতে হবে তার নীতিমালা আছে, যা অখ্যাত কারখানাগুলো মানে না। এক কোম্পানি অখ্যাত ১৪টি ব্র্যান্ডের কয়েল ভারতে পরীক্ষা করিয়ে দেখেছে, সেগুলোতে মাত্রার চেয়ে ৩ থেকে ১৪ গুণ বেশি রাসায়নিক, আর একটির জায়গায় চারটি পর্যন্ত রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে। এমন কয়েল দ্রুত মশা তাড়ায় বলে ক্রেতারা সেগুলোই কেনেন, ফলে নিয়ম মেনে চলা কারখানাগুলো বাজার হারিয়েছে।
যা শেখার আছে
- ১.কয়েল কারখানা করতে হলে বিএসটিআইসহ অনুমোদন ও রাসায়নিকের মাত্রা মানার খরচ ধরে দাম ঠিক করুন; অনুমোদনহীন সস্তা কয়েলের সঙ্গে শুধু দামে লড়াই কঠিন।
- ২.বাজারের বড় অংশ অনিয়মিত উৎপাদকের হাতে গেলে বড় ব্র্যান্ডও টিকতে পারে না; বাজারে ঢোকার আগে প্রতিযোগীরা কীভাবে খরচ কমাচ্ছে তা যাচাই করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
