আড়াই বিঘায় বছরে ৫–৭ লাখের অ্যালোভেরা, লকডাউনে পাতা পুঁতে ফেলতে হয়েছে
নাটোরের লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়ার এক কৃষক আট বছর ধরে আড়াই বিঘায় অ্যালোভেরা চাষ করে বছরে ৫–৭ লাখ টাকার পাতা বেচেন; কিন্তু লকডাউনে বিক্রি বন্ধ ছিল, আর অতিবৃষ্টির পর দাম অর্ধেকে নেমেছে।
নাটোর সদরের লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন 'ঔষধি গ্রাম' নামে পরিচিত; সেখানে ১৩১.৬৯ হেক্টরে অ্যালোভেরা চাষ হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামের এক কৃষক আট বছর ধরে নিজের আড়াই বিঘা জমিতে অ্যালোভেরা চাষ করছেন এবং প্রতিবছর ৫–৭ লাখ টাকার পাতা বিক্রি করেন। ২০–২২ দিন পরপর পাতা কাটা যায়; প্রতিবার তিনি প্রায় ১৬৫ মণ পাতা পান। কিন্তু ২০২০ সালের লকডাউনে তিনি পাতা বিক্রি করতে পারেননি; গাছ বাঁচিয়ে রাখতে পাতা কেটে গর্তে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে উৎপাদনও কমে যায়, বেশির ভাগ পাতা পরিপক্ক হয়নি, তাই দাম পড়ে যায়। আগে সাড়ে ৭ মণ পাতা বেচতেন ১০–১২ হাজার টাকায়, এখন একই পরিমাণে পান ৫,০০০–৫,২০০ টাকা। তবে তাঁর আশা, সামনে দাম বাড়বে। গ্রামের চাষিরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে পাতা কেজি ২০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রধান ক্রেতা ময়মনসিংহের ভালুকার তাইওয়ান ফুড মান অনুযায়ী ৭–১৩ টাকা দেয়; আরও কোম্পানি বেশি পরিমাণে কিনলে দাম বাড়ত। পাতা সংরক্ষণ কঠিন, হিমাগার নেই বলে অনেক পাতা পচে যায়। চাষিদের অভিযোগ, প্রসাধনী কোম্পানিগুলো স্থানীয় চাষির কাছ থেকে না কিনে ভারত থেকে আমদানি করে।
যা শেখার আছে
- ১.অ্যালোভেরা পচনশীল আর হিমাগার নেই; বিক্রি বন্ধ হলে পাতা নষ্ট হয়, তাই একাধিক ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।
- ২.মাত্র এক-দুটি কোম্পানি কিনলে দাম তারাই ঠিক করে; বছরের হিসাব করার সময় কম দামের মৌসুম ধরে রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
