বিঘায় বছরে দেড়-দুই লাখ টাকা, কিন্তু কিনবে কে
শাজাহানপুরে ১২ শতকে ঘৃতকুমারী শুরু, উৎপাদনে আসতে লেগেছে প্রায় তিন বছর। এখন বিঘায় ২৫০ মণ, কেজি ৫–২৫ টাকা, বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা — কিন্তু দেশে কোনো কারখানা সরাসরি কেনে না।
বগুড়ার শাজাহানপুরের আমরুল ইউনিয়নের মড়িয়া গ্রামে করতোয়ার পাড়ে প্রায় ১২ বছর আগে ১২ শতক জমিতে ঘৃতকুমারী লাগান এই চাষি; প্রথম চারা এনেছিলেন নাটোর থেকে, আর প্রতিবেশীরা তখন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা শুনিয়েছিলেন। গাছ থেকে কিছু পেতে লেগে যায় প্রায় তিন বছর, শুরুর দিকে ছোট চারা নিয়েও ভুগতে হয়েছে। কিন্তু একবার উৎপাদনে আসার পর তিনি আর অন্য ফসলে ফেরেননি; এখন চাষ করেন এক বিঘারও বেশি জমিতে, চারাও নিজেই তোলেন। কাজ বলতে আগাছা পরিষ্কার, পাতায় দাগ যাতে না পড়ে সে জন্য চুন ছিটানো আর সার দেওয়া। বিঘায় ফলন প্রায় ২৫০ মণ, মৌসুম অনুযায়ী দাম কেজি ৫ থেকে ২৫ টাকা — তাঁর ভাষায়, "এক বিঘায় ঘৃতকুমারী চাষ করলে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়," যা ওখানকার অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে বেশি। সমস্যা ক্রেতার দিকে: দেশে প্রক্রিয়াজাত করার কারখানা নেই, তাই সব যায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিউটি পারলার, নাটোরের কিছু ব্যবসায়ী আর শরবত বিক্রেতার কাছে — যাঁরা আসলে ব্যবহার করেন, সেই ভেষজ ওষুধ প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগই নেই। গ্রামের আরেকজন ১৫ শতকে শুরু করে এখন ২ বিঘার বেশি জমিতে চাষ করছেন।
যা শেখার আছে
- ১.ঘৃতকুমারীতে বিঘাপ্রতি আয় ভালো, কিন্তু উৎপাদনে আসতে প্রায় তিন বছর লাগে — প্রথম আয়ের আগের তিন বছরের খরচটা আগেই ধরে রাখুন
- ২.ক্রেতা না থাকলে বিঘাপ্রতি লাভের হিসাবের কোনো মানে নেই — কারখানা নেই বলেই গ্রামের বাকিরা এই ফসলে যাননি, ভরসা শুধু পারলার আর শরবতের দোকান
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
