পড়াশোনার ফাঁকে শুরু, ১৮ লাখ টাকা বিনিয়োগে যশোরে ২৩ জনের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান
যশোরের এক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০১৫ সালে ই-কমার্স সাইট দিয়ে শুরু করে এখন সফটওয়্যার, নেটওয়ার্কিং ও ডেটার কাজ করা প্রতিষ্ঠান চালান। তাঁর মতে তহবিল, গ্রাহক পাওয়া ও পরিচালনা খরচই তরুণ উদ্যোক্তার বড় বাধা।
বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশলে পড়ার সময় যশোরের শার্শা উপজেলার এক তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে তিনি একটি ই-কমার্স সাইট খুলে নানা পণ্য বিক্রি করেন, আর সেখান থেকেই সফটওয়্যার কোম্পানির যাত্রা। ২০১৭ সালে যশোরে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক চালু হলে তিনি নিজের জেলায় ফিরে আসেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং পার্কে এক হাজার ১৪০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ নেন। ঢাকার প্রতিষ্ঠানটিকে তিনি যশোরে নিয়ে আসেন। এ পর্যন্ত এতে ১৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে এখন সফটওয়্যার তৈরি, নেটওয়ার্কিং ও ডেটার কাজ হয় এবং ২৩ জন আইটি কর্মী কাজ করেন; কর্মী আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে তিনি আশা করেন। শুরুতে বাবা ও পরিবারের কেউ চাননি তিনি ব্যবসা করুন; পরে সবাইকে বুঝিয়েছেন। তাঁর মতে তরুণ উদ্যোক্তাদের বড় চ্যালেঞ্জ তহবিল জোগাড়, গ্রাহক পাওয়া, দক্ষতা উন্নয়ন ও পরিচালনা ব্যয়। দেশি-বিদেশি বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে গ্রাহক ধরা কঠিন, আর ব্যাংক ঋণেও সীমাবদ্ধতা আছে। তিনি সহজ শর্তে ঋণ এবং নির্দিষ্ট প্রবৃদ্ধি পর্যন্ত কর-ভ্যাট অব্যাহতি চান।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট একটি অনলাইন উদ্যোগ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সফটওয়্যার সেবায় যাওয়া যায়; পড়াশোনার সময়টাই শুরুর সুযোগ হতে পারে।
- ২.সরকারি সফটওয়্যার পার্কে জায়গা নিলে অবকাঠামো ও দক্ষ কর্মী পাওয়া সহজ হয়, তবে পরিচালনা ব্যয় হিসাবে ধরতে হবে।
- ৩.গ্রাহক খুঁজে পাওয়া ও তহবিল জোগাড়ই সবচেয়ে বড় বাধা, তাই শুরু থেকেই বিক্রয় পরিকল্পনা ও অর্থের উৎস ঠিক করে রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
