প্রতি দলিলে সমিতির নামে ২–৪ হাজার টাকা, দুদকের তদন্তে সনদ হারালেন দুই নেতা
রংপুরের বদরগঞ্জে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সনদ দুদকের তদন্তে অনিয়ম প্রমাণের পর ২০২০ সালে বাতিল হয়। তবু তাঁরা অফিসে থেকে প্রতি দলিলে সমিতির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
আজকের পত্রিকার ২০২২ সালের প্রতিবেদনে রংপুরের বদরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের চিত্র আছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ১০৩ জন দলিল লেখকের ভোটে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন দুজন। এরপরই তাঁরা সমিতির নামে টাকা আদায় শুরু করেন এবং জমির দাম কম দেখিয়ে শ্রেণি পরিবর্তনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রভাবিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২০ সালের ১৪ জুন নিবন্ধন অধিদপ্তর দুজনের সনদ বাতিল করে। তবু তাঁরা পদ ও অফিসের বারান্দা ছাড়েননি; অন্যের সনদ ব্যবহার করে দলিল সম্পাদন করছিলেন বলে অভিযোগ। অফিসে সপ্তাহে দুই দিনে প্রায় ৩০০ দলিল হয়। প্রতি দলিলে সাব-রেজিস্ট্রারের নামে ১ হাজার ২০০ টাকা আর সমিতির নামে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা জমিগ্রহীতার কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছিল — দলিল লেখকেরাই লেখার সময় এই টাকা তুলতেন। এক দলিল লেখক জানান, সনদ নবায়নের কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে তোলা হয়েছিল। অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক প্রতিবেদককে বলেন, ‘সনদ বাতিল হয়েছে ঠিক, তবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় আছি।’ জেলা রেজিস্ট্রার বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
যা শেখার আছে
- ১.ক্রেতার কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে টাকা তোলা বা জমির দাম কম দেখানোয় সহায়তা করলে দুদকের তদন্তে সনদ যেতে পারে।
- ২.নতুন দলিল লেখক হিসেবে সমিতির চাঁদা বা ‘নবায়ন খরচ’ কোন নিয়মে নেওয়া হচ্ছে, লিখিতভাবে জেনে নিন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
