বাঁশবাগান থেকে ২৫–২৬ লাখের বিক্রি, তারপর ডগায় পোকা, বাগান বদলে লটকন
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সাড়ে সাত একর পৈতৃক জমিতে বাঁশবাগান করে এক উদ্যোক্তা প্রায় ২৫–২৬ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করেন; পরে গাছের ডগায় পোকার আক্রমণ আর উঁচুতে স্প্রে করতে না পারায় বাঁশ ছেড়ে লটকন চাষে যান।
দিনাজপুর টিভির কৃষি প্রতিবেদনে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের এক কৃষি উদ্যোক্তার কথা এসেছে, যিনি সাড়ে সাত একর পৈতৃক জমিতে এখন লটকন বাগান করেছেন। লটকনের আগে তিনি পুরো জমিতে বাঁশবাগান করেছিলেন। সেই বাগান থেকে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে বাঁশের ডগায় এক ধরনের ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এত উঁচুতে কীটনাশক স্প্রে করা কঠিন, তাই স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি বাঁশ চাষ বন্ধ করে বিকল্প ফল খোঁজেন। নরসিংদীর লটকন বাগান দেখে এবং এলাকার মাটি পরীক্ষা করে তিনি লটকন বেছে নেন; সিলেট থেকে উন্নত জাত এনে বীজ থেকে ৫০০ চারা করে ৪০০টি লাগান। প্রায় ১৩ বছর আগে শুরু করা এই বাগানে প্রথম পাঁচ-সাত বছর কোনো ফল আসেনি। জমিটি বছরে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় লিজ না দিয়ে ফলহীন গাছ রেখে দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরাও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এখন বাগান থেকে দিনে প্রায় ৩০–৪০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি হচ্ছে; চলতি মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়েছে এবং ৩০০ মণের বেশি ফলনের আশা। বাঁশ থেকে ভালো আয় এলেও রোগ-পোকা দমনের বাস্তব অসুবিধা তাঁকে ফসল বদলাতে বাধ্য করে।
যা শেখার আছে
- ১.বাঁশের উঁচু ডগায় পোকা লাগলে স্প্রে করা কঠিন; বাগান করার আগে এলাকার বাঁশে কোন পোকা লাগে আর তা কীভাবে দমন হয় জেনে নিন।
- ২.ফসল বদলানোর সময় নতুন ফসলে কত বছর আয় থাকবে না আর সেই সময়ে জমি লিজ দিলে কত পেতেন, সেটা হিসাব করে নিন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
