বন্যায় বালু পড়া জমিতে এক একরের বেশি বাঁশবাগান, একেকটি বাঁশ ৭০–২৫০ টাকা
মাদারীপুর সদরের কালিকাপুরের এক কৃষক বন্যায় বালু জমে ফসল না হওয়া জমিতে বাঁশবাগান করেছেন; এক একরের বেশি জমির বাঁশ তিনি প্রতিটি ৭০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করেন।
মাদারীপুরে ফসলি জমিতে সারি করে লাগানো বাঁশবাগান এখন পরিচিত দৃশ্য। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদারীপুর সদরের কালিকাপুর গ্রামের এক কৃষক তাঁর কয়েক বিঘা কৃষিজমিতে বাঁশবাগান গড়েছেন। তিনি বলেন, বন্যার সময় জমিতে বালুর স্তর পড়ে যায়; সেই জমিতে এবং আরও যেসব জায়গায় নানা কারণে ফসল ভালো হয় না, সেখানে তিনি বাঁশ লাগিয়েছেন। সব মিলিয়ে এক একরের বেশি জমিতে তাঁর বাঁশ; প্রতিটি বাঁশ সর্বনিম্ন ৭০ টাকা থেকে আড়াই শ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে জেলায় প্রায় ১১শ হেক্টরে বাঁশ চাষ হয়; হেক্টরে দেড় হাজার বাঁশ হয়, গড়ে দেড় শ টাকা দরে হেক্টরপ্রতি সোয়া দুই লাখ টাকার বাঁশ। উৎপাদন খরচ হেক্টরে ৫০ হাজার টাকা ধরলে নিট লাভ পৌনে দুই লাখ টাকা। বিক্রির জায়গাও কাছে: সদরের আরেক বাসিন্দা জানান, গ্রামের পাশের ফরাজীরহাটে বাঁশের হাট বসে, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকার আসেন, আর নদীপথে বাঁশ রাজধানীতে যায়। কৃষি বিভাগ জানায়, আগে শুধু গোড়া থেকে চারা হতো, এখন কঞ্চি থেকেও চারা করা হচ্ছে, এবং কম উর্বর জমিতে বাঁশ চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।
যা শেখার আছে
- ১.বন্যায় বালু পড়া বা কম ফলনের জমি, যেখানে ধান-সবজি ভালো হয় না, সেখানে বাঁশ একটি বিকল্প হতে পারে।
- ২.কাছে বাঁশের হাট ও নদীপথে পাইকার থাকলে বিক্রি সহজ হয়; বাগান করার আগে কাছের বাজার ও দাম জেনে নিন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
