৩ বছরে বড় করা ২২ মণ ও ১৮ মণের দুই গরু কোরবানির আগে অবিক্রীত; ১৫ লাখের কমে লোকসান
ভোলার এক খামারি প্রায় তিন বছর ধরে দেশীয় খাবারে দুটি বিশাল গরু বড় করেছেন, কিন্তু কোরবানির আগে তিনি চাওয়া দাম পাননি। ভোলার হাটে বড় গরুর ক্রেতা কম, আর খাবারের দামও বেড়েছে।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চরমনোষা গ্রামের এক খামারি তাঁর খামারে মোট ১০টি গরু পালন করেন। এর মধ্যে হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের দুটি সবচেয়ে বড়: একটির ওজন প্রায় ২২ মণ, অন্যটির ১৮ মণ। স্থানীয় মালেরহাটের একটি খামার থেকে কেনা দুটি গাভির বাচ্চা হিসেবে জন্ম নেয় এ দুটি; প্রায় তিন বছর ধরে তিনি দেশীয় খাবারে এদের বড় করেছেন। প্রতিটি গরুকে দুই বেলায় মোট ১৮ কেজি দানাদার খাবার দেওয়া হয়, সঙ্গে জার্মান ঘাস, মিষ্টিকুমড়া, আলু, ভুট্টা ও গমের ভুসি। বড় গরুর দাম হাঁকা হয়েছে ৮ লাখ ও ৭ লাখ টাকা; তাঁর হিসাবে ১৫ লাখ টাকার কমে বেচলে লোকসান। গত দেড় বছরে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ভুসির দাম ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়েছে। নোয়াখালীর মাইজদীর এক ব্যবসায়ী গরু দুটি ১১ লাখ টাকায় কিনতে চাইলেও বাকিতে নিতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি রাজি হননি। সমস্যার মূলে ক্রেতা: ভোলার মানুষ সাধারণত এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার গরু কেনেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মতে অধিকাংশ ক্রেতা এক লাখ টাকার নিচের গরু চান। তাঁর ছোট সাতটি গরুর চারটি ভালো দামে বিক্রি হয়েছে, কিন্তু বড় দুটি নিয়ে ঈদের মুখেও দুশ্চিন্তা। না বিক্রি হলে আবার এক বছর দামি খাবার কিনে পালতে হবে। একই ইউনিয়নের আরেক খামারি পাঁচটি গরু ১৫ লাখ চেয়ে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বেচতে বাধ্য হয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.বড় ও দামি গরু তৈরির আগে দেখে নিন আপনার এলাকার হাটে সেই দামের ক্রেতা আছে কি না; ভোলায় অধিকাংশ ক্রেতা ছোট-মাঝারি গরু কেনেন।
- ২.বাকিতে কেনার প্রস্তাব এলে টাকা হাতে পাওয়ার নিশ্চয়তা আছে কি না ভেবে দেখুন; আবার এক বছর খাবার জোগানোর খরচও হিসাবে ধরুন।
- ৩.ভুসির দাম বাড়ায় লম্বা সময় ধরে পালার খরচ বেড়ে যায়; তাই বছর বছর ধরে বড় করার চেয়ে দ্রুত চক্রে ছোট-মাঝারি গরুতে ঝুঁকি কম।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
