৬৫ হাজার টাকার একটি গরু দিয়ে শুরু; ১০ বছরে এ বছর ৪টি ষাঁড়ে ২৫ লাখ টাকার আশা
গোপালগঞ্জের এক গৃহবধূ ১০ বছর ধরে কোরবানির জন্য গরু মোটাতাজা করছেন। প্রথম গরু ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রির পর এ বছর ৪টি ষাঁড়ের দাম আশা করছেন অন্তত ২৫ লাখ, তবে ভারতীয় গরুর ওপর তা নির্ভর করছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খাটিয়াগড় গ্রামের এক গৃহবধূ ১০ বছর ধরে গরু মোটাতাজা করছেন। তাঁর স্বামী বাড়ির পাশের গ্যারেজে ভ্যান, রিকশা ও সাইকেল মেরামত করেন; গরুকে খড়, ভুসি, কুড়া আর ঘাস খাওয়ানোর কাজ তিনি নিজেই করেন। ১০ বছর আগে ৬৫ হাজার টাকায় একটি গরু কিনে এক বছর পালন করে কোরবানির সময় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তারপর থেকে প্রতিবছর এ কাজ করছেন; গত বছর ৪টি গরু মোটাতাজা করে ভালো আয় করেন। এ বছর অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিজিয়ান জাতের ৪টি ষাঁড় পালন করেছেন, যেগুলো অন্তত ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে তাঁর আশা। তিনি বলেন, কোরবানির হাটে ভারতীয় গরু না এলে তবেই ষাঁড়গুলোর ন্যায্য দাম পাবেন। বাড়তি আয় দিয়ে তিনি দুই সন্তানকে পড়াচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে ডেইরি ও গরু মোটাতাজার বড় খামার করতে চান। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর তাঁকে সহায়তা করে। প্রতিবেশীরা জানান, তাঁর দেখাদেখি গ্রামের অনেকেই গরু মোটাতাজা শুরু করেছেন; তাঁর গরুর মাংসের মান ভালো বলে ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে কেনেন।
যা শেখার আছে
- ১.কোরবানির বাজারের জন্য এক বছর ধরে পালন করলে ৬৫ হাজার টাকার গরু ১ লাখ ৬৫ হাজারে বিক্রি সম্ভব, তবে বিক্রির সময়টা একটাই।
- ২.ভারতীয় গরুর আসা-না-আসার ওপর দাম নির্ভর করে; এই বাজার-ঝুঁকি ধরে ঋণ বা বিনিয়োগ ঠিক করুন।
- ৩.একটি থেকে শুরু করে প্রতিবছর বাড়ালে মূলধন ও অভিজ্ঞতা একসঙ্গে বাড়ে; এখানে এক থেকে চারে পৌঁছাতে ১০ বছর লেগেছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
