৫ দিনের প্রশিক্ষণ, ১ লাখ টাকায় ২০ বাক্স; দেড় বছরে মাসে আয় ৪০-৫০ হাজার, ২০০ নিয়মিত ক্রেতা
জামালপুরের এক বেকার যুবক টুকটাক কাজ ও মুদিদোকানে ব্যর্থ হয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মৌ চাষ শুরু করেন। বাক্স নিয়ে ফুলের মৌসুমে ঘুরে ঘুরে খাঁটি মধু বিক্রি করে এখন মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন।
জামালপুর পৌর শহরের এক যুবক, এইচএসসি পর্যন্ত পড়েছেন, দীর্ঘদিন স্থায়ী কাজ পাননি। টিউশনি, বেসরকারি চাকরি আর একটি ছোট মুদিদোকান করেও সংসার চলেনি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে তিনি পাঁচ দিনের মৌ চাষ প্রশিক্ষণ নেন। এক লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ২০টি মৌ বাক্স দিয়ে শুরু করেন। শুরুতে খুব ভয় লাগত, মৌমাছি কামড়াত। এখন নিজ বাড়িতে ‘জামালপুর মৌ খামার’ নামে প্রতিষ্ঠান চালান, খুচরা ও পাইকারি দরে মধু বেচেন, ফেসবুকেও একটি পেজ আছে। প্রতিবছর নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত মধু আহরণ করা যায়; এ সময় তিনি বাক্স নিয়ে জামালপুর, সরিষাবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর ও সুনামগঞ্জে যান, শর্ষে, তিল, কালিজিরা, লিচুবাগান ও রাবারবাগানের কাছে মাসের পর মাস থাকেন। প্রতি বাক্স থেকে মাসে দুই-তিনবার মধু নেন। খুচরা দরে কালিজিরার মধু কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০, রাবারপাতার ১ হাজার ৬০০, তিলের ১ হাজার, লিচু ফুলের ৬০০ ও শর্ষের ৪০০ টাকা। তাঁর কথায়, বাজারে ভেজাল মধু অনেক, তিনি খাঁটি মধু দেন, তাই একবার যিনি নেন বারবার আসেন; অল্প সময়েই প্রায় ২০০ নিয়মিত ক্রেতা হয়েছে। এখন মাসিক আয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। আগামী বছর আরও ৫০টি বাক্স কেনার ইচ্ছা আছে, আর বেকার যুবকদের মৌ চাষ শেখাতে চান।
যা শেখার আছে
- ১.প্রশিক্ষণ নিয়ে ছোট পরিসরে (২০ বাক্স) শুরু করলে ঝুঁকি কম থাকে; এক লাখ টাকাতেই শুরু করা গেছে।
- ২.ফুলের মৌসুম অনুযায়ী বাক্স নিয়ে বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়; তাই এই ব্যবসায় ভ্রমণ আর মাসের পর মাস বাইরে থাকার প্রস্তুতি রাখুন।
- ৩.খাঁটি মধু দিলে ক্রেতা ফিরে আসে; ফুলভেদে মধুর দাম আলাদা, তাই একাধিক ধরনের মধু বিক্রি করা লাভজনক।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
