৫০ হাজার টাকার ঋণে ২০ মৌ-বাক্স, এখন প্রায় ১০০ বাক্সে মাসে ৫০ হাজার টাকা আয়
রাজশাহীর দুর্গাপুরের ১৬ বছরের এক কিশোর অভাবে পড়ালেখা ছেড়ে এনজিওর ঋণে মৌ-বাক্স কিনে খামার শুরু করেন। এখন তাঁর প্রায় ১০০টি বাক্স, মাসে আয় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের এক কিশোরের বাবা দিনমজুর। সংসারের অভাবে অষ্টম শ্রেণিতে উঠে সে পড়াশোনা ছেড়ে দেয় এবং নানা কাজে হাত দিয়েও তেমন সফল হয়নি। পরে দুলাভাইয়ের পরামর্শে এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেয় এবং ২০টি মৌ-বাক্স কেনে। মৌ চাষের কোনো প্রশিক্ষণ তার ছিল না। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন তার মৌ-বাক্স প্রায় ১০০টি, রাখা আছে দুটি গ্রামের তিনটি মাঠে। প্রতি ১০ দিন অন্তর গড়ে সাড়ে তিন থেকে চার মণ মধু পায় সে। সরিষার মধু খুচরা ৬০০ টাকা কেজি, পাইকারি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়; অনেকে মাঠ থেকেই কিনে নেন। এতে মাসে আয় হয় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। শুরুতে দেশি মৌমাছি দিয়ে চাষ করলেও পরে সে চায়না জাতের মৌমাছি আনে, যাতে বেশি মধু পাওয়া যায়। সরিষার মৌসুম শেষ হলে বাক্স নিয়ে দিনাজপুর ও রংপুরে যায়, সেখানে লিচু, কালিজিরা ও ধনিয়া ফুল থেকে মধু নেয়; কালিজিরা ও ধনিয়ার মধুর দাম সরিষার চেয়ে বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক মৌ চাষে নেমেছে।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট ঋণে অল্প বাক্স দিয়ে শুরু করে আয় থেকে বাক্স বাড়ানো যায়; ঋণ নেওয়ার আগে মৌসুম আর বিক্রির জায়গা ঠিক করে নিন।
- ২.মৌসুম শেষ হলে বাক্স নিয়ে অন্য ফুলের এলাকায় যেতে পারলে সারা বছর মধু মেলে, আর কালিজিরা-ধনিয়ার মতো ফুলের মধুর দাম বেশি।
- ৩.বেশি মধু দেয় এমন জাতের মৌমাছি আয় বাড়ায়, তবে বাক্স আর যাতায়াতের খরচ আগে থেকে হিসাব করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
