আড়াই লাখ খরচে পান বরজ, তিন বছরে আয় ২৪ লাখ টাকা; আম্ফানে এক বছর লাভ নেই
যশোরের ঝিকরগাছার এক চাষি ১৮ কাঠায় ভারতীয় জাতের পান লাগিয়ে পান ও লতা (কাটিং) বিক্রি করে তিন বছরে ২৪ লাখ টাকা আয় করেছেন। ২০২০ সালের আম্ফানে বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সে বছর লাভ হয়নি।
যশোরের ঝিকরগাছার বোধখানা গ্রামের এক পানচাষি প্রায় তিন বছর আগে ১৮ কাঠা জমিতে ভারত থেকে আনা বনহুঘলি জাতের পানের লতা (কাটিং) রোপণ করেন। জমি তৈরি, রোপণ ও বেড়া দিতে খরচ হয় আড়াই লাখ টাকা। লাগানোর আড়াই মাস পর থেকে তিনি পান তুলতে শুরু করেন; একবার লাগালে গাছে অন্তত দশ বছর পান ধরে। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ কাঠার বরজ থেকে তিন বছরে শুধু কাটিং বিক্রি করেই তিনি ১৪ লাখ টাকা পেয়েছেন। প্রথম বছরে পাঁচ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়। পরে বরজ বাড়িয়ে সাড়ে তিন বিঘা করেন, আর চলতি বছরেই পাঁচ লাখ টাকার পান বেচেছেন। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন বিঘা জমি থেকে পান ও লতা বিক্রি করে তিন বছরে আয় ২৪ লাখ টাকা। তবে ২০২০ সালের আম্ফান ঝড়ে বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সে বছর কোনো লাভ হয়নি। এখন বাজারে পানের দর একটু কম, তবু তিনি আশা করছেন আরও সাত-আট বছর এই বরজ থেকে পান বিক্রি করা যাবে। সপ্তাহে দুই দিন পান তুলে বাছাই করে বাজারে পাঠান। বড় আকারের এই জাতের চাহিদা বেশি। রাসায়নিক সার কম দিয়ে জৈব সার ও খৈল বেশি ব্যবহার করেন, তাতে খরচ কমে; উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে চাষ করায় বড় রোগবালাইও কম হয়। তাঁর কাছ থেকে লতা নিয়ে এলাকার অনেকে এখন পান চাষ করছেন।
যা শেখার আছে
- ১.ভালো জাতের লতা (কাটিং) বিক্রি পান বিক্রির পাশাপাশি আলাদা আয়ের পথ হতে পারে।
- ২.ঘূর্ণিঝড়ে এক মৌসুম লাভ শূন্য হতে পারে; বছর দশেকের হিসাবে ক্ষতির ঝুঁকি ধরে পরিকল্পনা করুন।
- ৩.জৈব সার ও খৈল বেশি এবং কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে চাষ করলে খরচ ও রোগ দুই-ই কমে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
