৫ গরুর গোবরে ১৫ বছর ধরে রান্না: মাসে জ্বালানিতে ৪,০০০ টাকা সাশ্রয়, সারে বাড়তি আয়
পাবনার বেরা উপজেলার এক খামারি ১৫ বছর আগে গ্রামের প্রথম বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বসান, এখন পাঁচটি গরুর গোবরে আট সদস্যের পরিবারের রান্না চলে। পরিবারটির হিসাবে মাসে জ্বালানিতে প্রায় ৪,০০০ টাকা বাঁচে, আর স্লারি থেকে বানানো জৈব সার বেচে মাসে ২,০০০–২,৫০০ টাকা আসে।
ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাবনার বেরা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের এক বাসিন্দা ১৫ বছর আগে গ্রামের প্রথম বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটি বসান। এখন তাঁর পাঁচটি গরু আছে, সেগুলোর গোবর দিয়েই গ্যাস হয় এবং আট সদস্যের পরিবারের রান্না চলে। প্ল্যান্টটি চার-পাঁচ বছরে একবার পরিষ্কার করলেই চলে। আগে বাতিও জ্বালাতেন বায়োগ্যাসে, এখন বিদ্যুৎ আছে বলে গ্যাস শুধু রান্নায় লাগে। তাঁর মতে, প্ল্যান্টের বাড়তি গ্যাস দিয়ে আরও তিনটি পরিবারের রান্না চালানো যেত। তাঁর স্ত্রী জানান, বায়োগ্যাসের কারণে মাসে জ্বালানির খরচ প্রায় ৪,০০০ টাকা বাঁচে; আর গ্যাস তৈরির পর বাকি থাকা স্লারি দিয়ে বানানো জৈব সার বিক্রি করে গবাদিপশুর মালিকেরা মাসে বাড়তি ২,০০০–২,৫০০ টাকা আয় করতে পারেন। একই জেলার সুজানগরের বোয়ালিয়া গ্রামের এক পরিবার মাত্র দুটি গরুর বর্জ্যে ১০ বছর ধরে রান্না করছে; তাদের প্ল্যান্ট বসাতে খরচ হয়েছিল প্রায় ২৮,০০০ টাকা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলমের হিসাবে, ছোট একটি গৃহস্থালি প্ল্যান্ট বসাতে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাগতে পারে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্ল্যান্ট নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ আর জৈব বর্জ্যের নিয়মিত জোগান চায়; তাই কিছু প্ল্যান্ট অচল হয়ে গেছে এবং কিছু পরিবার এলপিজি সিলিন্ডারে ফিরে গেছে।
যা শেখার আছে
- ১.প্ল্যান্ট টেকে যদি নিয়মিত গোবর থাকে; গরুর সংখ্যা ও জোগান নিশ্চিত করে তারপর আকার ঠিক করুন।
- ২.আয়ের হিসাব শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ে নয়, স্লারি থেকে জৈব সার বিক্রিকেও ধরুন।
- ৩.রক্ষণাবেক্ষণ অবহেলা করলে প্ল্যান্ট অচল হয়; অভিজ্ঞ সংস্থা দিয়ে বসান ও নিয়মিত দেখভাল করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
