কমলপুরের ২৫ কারখানার বাটিক: দিনে ৫০০টির বেশি পণ্য, কিন্তু রোদ ও শীত আর কম পুঁজিতে ধুঁকছে ব্যবসা
কুমিল্লার কমলপুরে প্রায় ২৫টি বাটিক কারখানা কয়েকজন মহাজনের নির্দেশে কাজ করে। কারখানার এক মালিক জানান, রোদ না থাকলে কাজ বন্ধ, শীতে চাহিদা কমে যায় আর তখন কর্মীদের বেতন দেওয়া কঠিন।
কুমিল্লার সদর উপজেলার কমলপুর গ্রামে প্রায় ৫০ বছর আগে ভারত থেকে শিখে আসা দুই ভাইয়ের হাত ধরে বাটিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এখন কমলপুর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে প্রায় ২৫টি কারখানা আছে, যেখানে বাটিক শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট, লুঙ্গি ও বেডশিট তৈরি হয়। পণ্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ নানা জেলায় যায়, কুমিল্লা শহরের দুই শতাধিক দোকানে মেলে, কিছু বিদেশেও রপ্তানি হয়। বাসসের প্রতিবেদনে মহাজনদের নির্দেশে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক বাটিক তৈরির কথা আছে। কুমিল্লা বাটিক সেন্টারের বর্তমান দায়িত্বে থাকা মালিক জানান, তাঁর বাবা ৩৫ বছর আগে কারখানা শুরু করেন, আর তিনি পাঁচ বছর ধরে চালাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, ব্যবসাটা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল: রোদ না থাকলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়, গরমকালের তুলনায় শীতে চাহিদা কমে, তখন কর্মীদের বেতন দিয়ে টিকিয়ে রাখা কষ্টকর। আরেক কারখানা, কুমিল্লা নিউ বাটিক ঘরে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন কাজ করেন, সপ্তাহ ধরে হিসাব হয়। একজন কারিগর দিনে ২০ থেকে ৩০টি থ্রি-পিসে মোম ব্লক করেন, আর নারী কর্মীরা দিনে ৩০ থেকে ৪০টি কাপড়ে তুলি চালান; বেতন কাজ ও দক্ষতা অনুযায়ী। পুঁজি কম হলে চাকা থমকে যায়। মালিকেরা সরকারি প্রণোদনা বা স্বল্প সুদ কিংবা সুদহীন ঋণ চান।
যা শেখার আছে
- ১.বাটিকে কাপড় শুকানোর জন্য রোদ লাগে, তাই বর্ষা ও শীতে উৎপাদন ও বিক্রির পরিকল্পনা আলাদা করে রাখুন।
- ২.শীতে চাহিদা কমলেও কর্মীর বেতন চালাতে হয়; তাই কম চাহিদার মাসের জন্য আলাদা পুঁজি রাখা দরকার।
- ৩.কাজ ভাগ করে দিলে (মোম, রং, তুলি, ভাজ) অল্প জনবলেও দিনে অনেক পণ্য তৈরি করা যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
