১৫ শতক খাসজমিতে ৩,৫০০ ব্রকলি চারা; ৩০ হাজার টাকা ঋণে ইতিমধ্যে ৬৫ হাজার টাকা আয়
বাগেরহাটের ফকিরহাটের এক ভূমিহীন নারী কৃষি বিভাগের সহায়তায় খাসজমিতে ব্রকলি চাষ করেছেন। আগাম ফলনে প্রতিটি ৪৫–৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, মৌসুমে মোট বিক্রি প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকার ওপরে হতে পারে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর নিজের কোনো জমি নেই। চার মেয়ে, এক ছেলে আর অসুস্থ দিনমজুর স্বামীকে নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন অভাবে ছিলেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি ১৫ শতক খাসজমিতে ব্রকলি চাষ করেন; ক্ষুদ্র কৃষি প্রতিযোগিতা প্রকল্প (এসএসিপি) থেকে বীজ, জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক পান। অক্টোবরের মাঝামাঝি প্রায় সাড়ে তিন হাজার চারা রোপণ করেন এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফলন বাজারে আসতে শুরু করে। আগাম ফলন হওয়ায় প্রতিটি ব্রকলি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ সবজির তুলনায় কয়েক গুণ লাভজনক। চাষ শুরু করেছেন এনজিও থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে; ইতিমধ্যে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা আয় করেছেন এবং মৌসুম শেষে মোট বিক্রি এক লাখ ২৫ হাজার থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা হবে বলে আশা করছেন। জৈব পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় নিরাপদ সবজি হিসেবে তাঁর ব্রকলির বাড়তি কদর আছে; এক ক্রেতা বলেন, স্বাদও ভালো বলে তিনি খেতে এসে কিনছেন। তাঁর সাফল্য দেখে আশপাশের গরিব নারী-পুরুষ ও অন্য চাষিরা এই ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
যা শেখার আছে
- ১.জমি না থাকলেও খাসজমিতে অল্প জায়গায় উচ্চমূল্যের ফসল করা যায়; আগাম ফলন হলে দাম কয়েক গুণ হয়।
- ২.কৃষি বিভাগ ও প্রকল্পের বীজ-সারের সহায়তা নিলে ঋণ কম লাগে; এখানে ৩০ হাজার টাকার ঋণই যথেষ্ট ছিল।
- ৩.জৈব পদ্ধতিতে চাষ করলে ক্রেতা স্বাদ ও নিরাপত্তার জন্য খেত থেকেই কিনতে আসে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
