২০০৩-এ ক্যামেরা ২৫ হাজার টাকা, বছরে বিক্রি ১০ হাজার — এখন বছরে ১৬ লাখের বাজার
২০০৩ সালে সিসিটিভি পণ্যের ব্যবসা শুরু করা এক বিপণনকারী দেখেছেন অভিজাতদের পণ্য থেকে ক্যামেরা ভোক্তাপণ্য হয়ে উঠেছে; ঢাকার এক আইটি দোকানে লকডাউনের পর সিসিটিভি বিক্রি ৬০% বেড়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২১ সালের প্রতিবেদনে সিসিটিভি ব্যবসার দুটি চিত্র আছে। একজন ভিডিও নজরদারি পণ্যের বিপণনকারী ব্যবসা শুরু করেন ২০০৩ সালে। তখন একেকটি ক্যামেরার দাম ছিল প্রায় ২৫ হাজার টাকা, আর মূলত অভিজাত ক্রেতারা বছরে হাজার দশেক ক্যামেরা কিনতেন। তাঁর হিসাবে ২০১৫ সালে দেশে প্রায় দুই লাখ ক্যামেরা বিক্রি হয়, আর ২০২০ সালে তা ১৬ লাখ ছাড়ায়; অন্তত ৭০% ক্যামেরা কেনেন ব্যক্তিগত ক্রেতারা। এখন তিনি একটি বড় চীনা ব্র্যান্ডের স্থানীয় অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং গাজীপুরে সংযোজন কারখানায় ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করছেন। তিনি জানান, আমদানি করা ক্যামেরায় মোট কর ও শুল্ক ৩৭%, রেকর্ডারে ৮৯%। অন্য চিত্রটি ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের একটি আইটি হার্ডওয়্যারের দোকানের। লকডাউন ওঠার পর মে-জুনে দোকানটি প্রায় দ্বিগুণ সিসিটিভি পণ্য বিক্রি করে, আর বছরে বিক্রি আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬০% বেশি হয়। তাদের এক গ্রামীণ ক্রেতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রামের বাজারের দোকানে ক্লাউড ব্যাকআপসহ ক্যামেরা বসান, যাতে যন্ত্র চুরি হলেও ফুটেজ থাকে। ক্লাউড সেবার ফি ক্যামেরাপ্রতি বছরে প্রায় দেড় হাজার টাকা, যদিও তখন ৩%-এরও কম ক্রেতা তা নিতেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী ভালো মানের সাধারণ ক্যামেরার দাম তখনই হাজার টাকার নিচে নেমেছিল।
যা শেখার আছে
- ১.ক্যামেরার দাম যত কমে, শুধু মাল বিক্রিতে লাভ তত কমে; ক্লাউড ব্যাকআপের মতো বছরওয়ারি সেবা যোগ করলে নিয়মিত আয়ের পথ খোলে।
- ২.ব্যক্তিগত ক্রেতারাই বাজারের বড় অংশ — দোকান, বাসা আর গ্রামের বাজারের ব্যবসায়ীরা লক্ষ্য হতে পারেন।
- ৩.আমদানি শুল্ক রেকর্ডারে অনেক বেশি; দাম ঠিক করার আগে যন্ত্রাংশভেদে খরচ আলাদা করে হিসাব করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
