৩০ বছরের শুঁটকির চাতালে প্রথম বড় লোকসান: পুঁটির দর ৭৮০ থেকে ৩৮০ টাকায়
চলনবিলের মিঠাপানির মাছে শুঁটকি বানানো এক উৎপাদক মহাজনের টাকা নিয়ে বৈশাখেও চাতাল চালু রেখেছিলেন; ভারতে রপ্তানি থেমে দর অর্ধেক হওয়ায় বড় লোকসানে পড়েন, শ্রমিক ৩০–৪০ জন থেকে নেমে আসে ১২ জনে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বড় পাঙ্গাসি গ্রামের এই উৎপাদক ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চলনবিলের মিঠাপানির মাছ দিয়ে শুঁটকি বানান। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে চাতাল শুরু হয়, চলে চৈত্র পর্যন্ত; মৌসুমে তাঁর চাতালে ৩০ থেকে ৪০ জন নারী শ্রমিক কাজ করেন। টাকি, পুঁটি, চেলাসহ দেশি মাছ কেটে লবণ মাখিয়ে মাচায় শুকানো হয়; লবণ ছাড়া কোনো রাসায়নিক দেওয়া হয় না। নারী শ্রমিকেরা দিনে ২০০ টাকা মজুরি পান।
২০২৫ সালে বাজারে মাছ বেশি থাকায় তিনি গ্রামের মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বৈশাখ মাসেও চাতাল চালু রাখেন। কিন্তু হঠাৎ দরপতন হয়: এক মাস আগেও কারওয়ান বাজারে বড় পুঁটির শুঁটকি কেজি ৭০০–৭৮০ টাকায় বিক্রি হলেও নেমে আসে ৩৫০–৩৮০ টাকায়; মাঝারি ও ছোট শুঁটকির দামও প্রায় অর্ধেক কমে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ভাষায়, সীমান্ত জটিলতায় ভারতে রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় বাজার পড়ে যায়। চাতালে শ্রমিক নেমে আসে ১২ জনে।
তাঁর মূল আক্ষেপ, শুঁটকি ধরে রাখার মতো একটা গুদাম থাকলে এমন লোকসানে পড়তে হতো না — নষ্টের ভয়ে দাম পড়লেও দ্রুত বেচে দিতে হয়। এলাকার অন্য উৎপাদকেরাও বলেছেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
যা শেখার আছে
- ১.ধার করে মৌসুম বাড়ানোর আগে ভাবুন দাম পড়লে কিস্তি কীভাবে দেবেন — এই চাতালির লোকসান ধারের টাকাতেই বড় হয়েছে।
- ২.এক বাজারের (এখানে ভারতে রপ্তানি) ওপর নির্ভর করলে সীমান্তের একটি সিদ্ধান্তেই দাম অর্ধেক হয়ে যেতে পারে।
- ৩.শুকনো, ঠান্ডা গুদাম থাকলে দাম পড়ার সময় মাল ধরে রাখা যায়; না থাকলে কম দামেই বেচতে হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
