৯২ হাজার টাকা ও ৩ কর্মী নিয়ে শুরু, এখন ৩৫ কর্মী; তবু কাঁচামালের দামে ঋণ শোধ কঠিন
উত্তরার এক দম্পতি ২০১০ সালে জমানো ৯২ হাজার টাকায় নাড়ু, মোয়া ও গ্রামীণ নাস্তা মোড়কজাত করে বিক্রি শুরু করেন। পরে নিজেদের কারখানা, যন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সনদ পেলেও কাঁচামালের দাম বাড়ায় ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করা এক উদ্যোক্তা চাকরি করতেন একটি ঠিকাদারি কোম্পানিতে; ২০০৯ সালে মালিক মারা গেলে নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। মেলায় ঘুরে তিনি দেখেন, ছোটবেলার হাটবাজারের নাড়ু, মোয়ার মতো খাবার শহরে পাওয়া যায় না, আবার অনেকে অস্বাস্থ্যকর ভেবে কেনেন না। স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে ২০১০ সালের শুরুতে জমানো ৯২ হাজার টাকা ও তিনজন কর্মী নিয়ে শুরু করেন। চকবাজার থেকে ওজন মাপার ও মোড়কের যন্ত্র কেনেন; পাবনা, নরসিংদী, টঙ্গী ও বাড্ডা থেকে নাড়ু, ফুলপিঠা, মোয়া, নিমকিসহ নানা পণ্য বানিয়ে এনে মোড়কজাত করে ‘সতেজ’ ব্র্যান্ডে বিক্রি করেন। শুরুতে সুপারশপগুলো পণ্য রাখতে রাজি হয়নি; প্রায় দুই মাস পর মীনাবাজার প্রথম নেয়। প্রথম মাসে ৭৬ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়, পরের মাসে বিক্রি দ্বিগুণ। এরপর টঙ্গীতে বেকারি ভাড়া নিয়ে নিজেরা উৎপাদনে যান, ২০১৫ সালে উত্তরায় কারখানা করেন, ২০১৮ সালে কমপ্লায়েন্সের জন্য আবার নতুন কারখানা। ২০১৯ সালের শেষে চীনে ১৫ দিন থেকে পাঁচটি যন্ত্র বানিয়ে আনেন, যাতে উৎপাদন চার-পাঁচ গুণ হয়। ২০২২ সালের মধ্যে হ্যাচাপ ও আইএসও ২২০০০ সনদ পান। এখন প্রায় ৩০ ধরনের পণ্য, ৩৫ জন কর্মী, ৪০-এর বেশি সরবরাহকারী। কিন্তু উদ্যোক্তা বলেন, কয়েক মাসে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকঋণ শোধ করাই এখন দায়, ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে।
যা শেখার আছে
- ১.কম পুঁজিতে প্রথমে ট্রেডিং ধরনের কাজ করে বাজারের সাড়া দেখে তারপর নিজে উৎপাদনে যাওয়া যায়।
- ২.সুপারশপে ঢুকতে সময় লাগে; প্রথম আউটলেট পাওয়ার পর অন্যরা সহজে পণ্য নিতে শুরু করে।
- ৩.ঋণ নিয়ে যন্ত্র ও কারখানা বাড়ালে কাঁচামালের দাম বাড়ার ঝুঁকির জন্য আলাদা সঞ্চয় রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
