ভোলার চরে আগাম সবজি: ঘূর্ণিঝড়ে ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি, দ্বিতীয়বার চারা লাগিয়েও লাভ নেই
ভোলার দৌলতখানে এক চাষি সাড়ে সাত একরে আগাম সবজি করে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির জোয়ার ও বৃষ্টিতে প্রায় ১৭ লাখ টাকা হারান। দ্বিতীয়বার চারা লাগাতে দেড় মাস পিছিয়ে পড়ায় দাম কমে যায়, বিক্রির টাকায় শুধু তোলা ও বহনের খরচ ওঠে।
ভোলায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর তীর এবং জেগে ওঠা চর আগাম সবজির প্রধান জায়গা। কৃষকেরা সেপ্টেম্বরে জমির চারপাশে মাটির বাঁধ তুলে লাউ, চিচিঙা, করলা, ক্যাপসিকাম, টমেটো, শসাসহ নানা সবজি লাগান। দৌলতখানের মদনপুর ইউনিয়নের এক চাষি এ বছর সাড়ে সাত একর জমিতে আগাম সবজি করেছিলেন। গাছে ফুল-ফল আসতেই নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে জোয়ার ও টানা বৃষ্টিতে খেতের বেশির ভাগ গাছ নষ্ট হয়, তাঁর ক্ষতি হয় প্রায় ১৭ লাখ টাকা। আবহাওয়া ভালো হলে তিনি আবার বীজ বোনেন, বাইরের জেলা থেকেও চারা আনতে হয়। দ্বিতীয়বারের ক্যাপসিকাম, চিচিঙা ও ঝিঙায় ফল আসতে প্রায় দেড় মাস দেরি হয়, তখন আগের দাম আর নেই। এখন ফসল বেচে শুধু তোলা ও বহনের খরচ ওঠে, লাভ হয় না। একই প্রতিবেদনে অন্য এক চাষি বলেন, গত বছরের চেয়ে বীজের কেজিতে ৬–১০ হাজার টাকা বেশি দিয়েও ফলন হয়েছে তিন ভাগের এক ভাগ। ঢাকায় সবজি পাঠাতে ১০০ কেজির এক ঢোপে খরচ ৬০০–৬৫০ টাকা, ফসল তোলার শ্রমিকের মজুরি দিনে ৮০০–১,০০০ টাকা, আর মালের সঙ্গে যাওয়া লোকের খরচ ২,০০০ টাকা। আরেক চাষি ঝড়ে ৫ লাখ টাকা হারিয়ে বলেন, কেউ খবর নেয় না, ঋণও দেয় না।
যা শেখার আছে
- ১.চরের আগাম সবজিতে ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকি বড়; দ্বিতীয়বার চারা লাগালে দেরি হয় আর দাম কমে যায়, তাই ক্ষতির জন্য আলাদা সঞ্চয় রাখুন।
- ২.ঢাকায় পাঠানোর পরিবহন, শ্রমিক ও সঙ্গে যাওয়া লোকের খরচ আগে হিসাব করুন; দাম পড়ে গেলে এই খরচই লাভ খেয়ে ফেলে।
- ৩.কৃষি কর্মকর্তারা বৃষ্টির পানি বের করার খাল খননের কথা বলেছেন; সম্ভব হলে খেতের নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আগে করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
