চরের ৬০ শতকে ১৫ হাজার খরচে কিনোয়া: ১২ মণ ফলন, ৬৭ হাজার ২০০ টাকা বিক্রি
কুড়িগ্রামের রৌমারীর মধ্যেরচরের এক নারী বন্যা ও নদীভাঙনে বারবার ক্ষতির পর প্রশিক্ষণ নিয়ে কিনোয়া চাষ করেন। ভুট্টার চেয়ে অর্ধেক খরচে তিনি ৫০ হাজার টাকার বেশি লাভ করেছেন।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যেরচরের এক নারী গত ১০ বছরে বন্যা ও নদীভাঙনে আটবার বাড়ি হারিয়েছেন। প্রতিবার ঘর মেরামতে সঞ্চয় বা ধারের টাকা যেত, হাতে কিছু থাকত না; স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। দুই বছর আগের ভয়াল বন্যায় ঘরের জিনিসের সঙ্গে হাঁস-মুরগিও ভেসে যায়। তখন লজিক (ইউএনডিপি ও ইউএনসিডিএফের কারিগরি সহায়তায় স্থানীয় সরকার বিভাগের জলবায়ু প্রকল্প) তাঁকে ২০২৩ সালে কিনোয়া চাষের প্রশিক্ষণ দেয়। তিনি চরের ৬০ শতাংশ জমি ভাড়া নিয়ে কিনোয়া লাগান। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১২ মণ কিনোয়া হয়, কেজি ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি ৬৭ হাজার ২০০ টাকা পান। খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ হাজার টাকা। তাঁর হিসাবে একই জমিতে ভুট্টা করলে খরচ হতো ৩০ হাজার টাকা আর লাভ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা; কিনোয়ায় লাভ ৫০ হাজার টাকার বেশি। ভুট্টার ভালো বীজ চেনা কঠিন, চুরির ভয় আছে, তোলার জন্য আলাদা মজুরি লাগে। শুরুতে গ্রামের অনেকে বলেছিল কিনোয়া কেউ কিনবে না, এখন অনেকে তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসে। বিক্রির টাকায় তিনি একটি গরু কিনেছেন এবং মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলের খরচ চালাচ্ছেন।
যা শেখার আছে
- ১.বন্যা-নদীভাঙনের চরে কম খরচের ফসল ঝুঁকি কমায়; এখানে কিনোয়ায় খরচ ছিল ভুট্টার অর্ধেক।
- ২.নতুন ফসলে নামার আগে মাঠে-হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া কাজে এসেছে; শুরুতে গ্রামের কটু কথা সামলাতে হয়েছে।
- ৩.ফসল বদলের আগে নিজের খরচ আর লাভের হিসাব পাশাপাশি রেখে তুলনা করুন, যেমন তিনি ভুট্টার সঙ্গে করেছেন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
