বৈশাখী মেলা বন্ধ, তবু করোনায় চকবাজারের খেলনার দোকানে রেকর্ড বিক্রি; দেশি খেলনায় ৮০ টাকার গাড়ি এখন ৫০-৬০ টাকা
পুরান ঢাকার চকবাজারের ফ্রেন্ডশিপ মার্কেটের এক খেলনা দোকানির অর্ধেক বছরের বিক্রি হতো একটি বৈশাখী মেলাতেই, করোনায় সেই মেলা বন্ধ হওয়ায় তিনি বড় লোকসানের ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘরবন্দী শিশুদের জন্য খেলনার চাহিদা বাড়ায় সেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়, আর দেশি উৎপাদনে খেলনার দামও কমেছে।
পুরান ঢাকার চকবাজার দেশের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ত খেলনার বাজার। মনিহারি বণিক সমিতির ১ নম্বর গলিতে প্রায় ৬০টি এবং উল্টো পাশের ফ্রেন্ডশিপ মার্কেটের নিচতলায় প্রায় ৪০টি খেলনার দোকান। ঢাকা ও বাইরের খুচরা দোকানিরা এখান থেকে পাইকারি দরে খেলনা কিনে নিয়ে যান। নিউজবাংলার প্রতিবেদনে ফ্রেন্ডশিপ মার্কেটের এক খেলনা দোকানের মালিক জানান, খেলনা বানানো ও বিক্রি সবই উৎসবকেন্দ্রিক; গ্রাম থেকেও ক্রেতা আসে, আর শুধু বৈশাখী মেলাতেই অর্ধেক বছরের বিক্রি হয়ে যায়। করোনার কারণে মেলা না হওয়ায় তাঁদের মাথায় হাত পড়েছিল। কিন্তু মানুষ ঘরে আটকে থাকায় শিশুদের ব্যস্ত রাখতে বাবা-মায়েরা খেলনা কিনতে শুরু করেন; তাঁর ভাষায়, এতদিনের বিক্রিতে মেলার ঘাটতি পূরণ হয়ে গেছে, সাধারণ সময়েও এত বিক্রি হয়নি। পাশের আরেক দোকানের ব্যবস্থাপক জানান, আগে ছোট খেলনাও বিদেশ থেকে আনতে হতো; সব খরচ মিলিয়ে যে গাড়ি ৮০ টাকায় বেচতেন, দেশে তৈরি হওয়ায় এখন তা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বেচতে পারছেন, দাম কম বলে ক্রেতাও বেশি নিচ্ছেন। দোকানগুলোতে ৫ থেকে ১,৫০০ টাকার খেলনা মেলে। বিক্রেতারা বলছেন, পুতুল বা হাঁড়ি-পাতিলের চেয়ে পাজল খেলনার কদর বেশি, আর খুচরা দোকানিরাও ছেলেদের গাড়ির খেলনা বেশি নেন। খেলনা ব্যবসায়ীদের সমিতির সভাপতির হিসাবে, কয়েক বছর আগেও বছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার খেলনা আমদানি হতো, এখন ৮০ শতাংশই দেশে তৈরি হয়।
যা শেখার আছে
- ১.খেলনার বিক্রি মেলা ও উৎসবনির্ভর; একটি মৌসুমের ওপর পুরো বছরের হিসাব না রেখে সারা বছরের চাহিদা ধরার উপায় রাখুন।
- ২.দেশে তৈরি খেলনা আমদানির চেয়ে সস্তা, তাই কম দামে বেশি বিক্রি করা যায়; চকবাজারের মতো পাইকারি বাজার থেকে সরাসরি কিনলে খরচ কমে।
- ৩.কোন খেলনা বেশি চলে (যেমন পাজল, খেলনা গাড়ি) তা দেখে মাল তুলুন, যা কম চলে তাতে পুঁজি আটকে রাখবেন না।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
