মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি
ফিরে যান
যা শিখেছিটিনের কৌটায় নারিকেল তেল বিক্রি করা দেশীয় কোম্পানিগুলো

৬৫ বছরের টিনের কৌটার নারিকেল তেলের বাজার হাতছাড়া: প্লাস্টিক বোতলে তেল নষ্ট, প্রযুক্তি শিখতে লাগল ৪-৫ বছর

দেশীয় কোম্পানিগুলো দশকের পর দশক টিনের কৌটায় নারিকেল তেলের ব্র্যান্ড গড়লেও ২০০২ সালে প্লাস্টিক বোতল নিয়ে আসা বিদেশি কোম্পানির কাছে বাজার হারায়। দেশি কোম্পানির বোতলে তেল মেয়াদের আগেই নষ্ট হয়ে বাজার থেকে তুলে নিতে হয়েছিল।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অক্টোবর ২০২২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মোড়কজাত নারিকেল তেলের যাত্রা ১৯৩৫ সালের দিকে হেনা কেমিক্যালসের হাত ধরে। এরপর লালবাগ কেমিক্যালের 'হাঁসমার্কা', ১৯৭২ সালের দিকে মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজের 'কিউট', ১৯৮৮ সালের দিকে স্কয়ারের 'জুঁই' বাজারে আসে; ১৯৯৫-২০০২ সময়ে আরও কয়েকটি শিল্পগ্রুপ নিজস্ব ব্র্যান্ডে বিনিয়োগ করে। সবাই তেল বিক্রি করত টিনের কৌটায়, আর ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাজারে দেশি প্রতিষ্ঠানেরই আধিপত্য ছিল। ২০০২ সালে ভারতীয় কোম্পানি ম্যারিকো প্লাস্টিকের বোতলে 'প্যারাস্যুট' নিয়ে আসে; একই দামে আকর্ষণীয় বোতল পেয়ে ক্রেতারা টিনের কৌটা ছেড়ে দেন। দেশি কোম্পানিগুলোও প্লাস্টিক বোতলে তেল ছাড়ে, কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় সেই বোতলে তেল নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে বাজার থেকে তেল তুলে নিতে হয়। বোঝা যায়, ম্যারিকোর বোতল বিশেষভাবে তৈরি; সেই প্রযুক্তি আয়ত্তে আনতে দেশি কোম্পানিগুলোর চার থেকে পাঁচ বছর লেগে যায়, এর মধ্যে বাজার হাতছাড়া হয়। ম্যারিকোর বিক্রি ২০০৬ সালে ৮০ কোটি টাকা থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকায় ওঠে। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার নারিকেল তেলের বাজারে ব্র্যান্ডেড অংশের ৮০ শতাংশই এখন তাদের। দেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে কেবল হাঁসমার্কা, কিউট ও জুঁই টিকে আছে, বাকিরা ব্যবসা গুটিয়েছে। খাতের এক অভিজ্ঞ কর্মকর্তার মতে, দেশি কোম্পানিগুলোর বাজার ও ভোক্তার মনোভাব নিয়ে গবেষণা ছিল না, আর তারা তেলের চেয়ে কসমেটিকসে বেশি মন দিয়েছিল।

যা শেখার আছে

  1. ১.নারিকেল তেলে মোড়কই পণ্যের মান রক্ষা করে; নতুন ধরনের বোতলে যাওয়ার আগে তেল কতদিন ভালো থাকে তা পরীক্ষা করে নিন।
  2. ২.একই দামে বেশি আকর্ষণীয় মোড়ক পেলে ক্রেতা দ্রুত ব্র্যান্ড বদলায়; ক্রেতার পছন্দ নিয়মিত যাচাই করুন।

যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা

এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।