৪০০ টাকার স্টুডিও-কর্মী থেকে নিজের কম্পিউটার-প্রিন্টিং দোকান; এখন মাসে খরচ বাদে ৩০–৪০ হাজার
চাঁদপুরের এক তরুণ করোনায় চাকরি হারিয়ে মাসিক ১ হাজার টাকা ভাড়ার দোকানে নিজের কম্পিউটার আর বন্ধুর কিনে দেওয়া প্রিন্টার নিয়ে ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের দোকান শুরু করেন। এখন একজন সহকর্মী নিয়ে মাসে খরচ বাদে ৩০–৪০ হাজার টাকা আয় করেন।
চাঁদপুর শহরের এক যুবক অভাবের কারণে অষ্টম শ্রেণির পর স্কুল ছাড়েন এবং ২০০৬ সালে মাসিক ৪০০ টাকা বেতনে একটি স্টুডিওতে কাজ নেন। ২০০৭ সালে এক বন্ধুর কম্পিউটারে কাজ শিখে শুরু করেন কম্পিউটারের পথচলা, পরে ছবি এডিটিং করেন। ২০১২ সালে স্ত্রীর নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে নিজের কম্পিউটার কেনেন এবং বাসায় ছোট প্রিন্টিংয়ের কাজ করে কিস্তি শোধ করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত প্রিন্টিং ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন; শেষ বেতন ছিল ১৫ হাজার টাকা। করোনার সময় বেকার হয়ে পড়েন। লকডাউনে এক বন্ধুর কাছে পাওনা ৫ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকা থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ সুরক্ষা সামগ্রী এনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেন। পরে শহরের কদমতলায় পৌরসভার মার্কেটে ১ হাজার টাকায় দোকান ভাড়া নিয়ে ‘এমআই আইটি সেন্টার’ শুরু করেন। নিজের কম্পিউটার দিয়ে কাজ শুরু; এক পরিচিত বড় ভাই প্রিন্টার কিনে দেন, আর আরেকজনের সহায়তায় পাশের দোকান থেকে বাকিতে আসবাব নেওয়া হয়। পরিচিতরা বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ভিজিটিং কার্ড, আইডি কার্ড, রশিদ ছাপা ও স্কুল-কলেজের কাজ দিতে থাকে, সঙ্গে চলে অনলাইনে আবেদন করার কাজ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করেন। একসময় মাসে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার অর্ডার আসত, গত কয়েক মাসে কিছুটা কমেছে; এখন মাসে খরচ বাদে আয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। দোকানে আরেকজন যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
যা শেখার আছে
- ১.নিজের কম্পিউটার আছে বলে বড় পুঁজি ছাড়াই শুরু করা গেছে; ভাড়া কম রাখলে ঝুঁকি কমে।
- ২.পরিচিত মানুষই প্রথম অর্ডার দেয়, তাই শুরুতে সম্পর্ক ও সুনাম বড় পুঁজি।
- ৩.অর্ডার মাসে ৫–৬ লাখ থেকে কমে যেতে পারে; আয়ের ওঠানামার জন্য হাতে খরচ ও সঞ্চয়ের হিসাব রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
