সাইকেলে ৪০–৫০ রকম গৃহস্থালি পণ্য, দিনে ৫০০–৭০০ টাকার বিক্রি; ১৮ বছরে তিন মেয়ের বিয়ে
খুলনার উপকূলের গ্রামে সাইকেলে বাটি, বদনা, খেলনা ও কসমেটিকস নিয়ে ঘোরা এক ফেরিওয়ালা ১৮ বছর ধরে এই দোকান চালাচ্ছেন। দিনের বিক্রিতে সংসার চলে ও তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তবে বর্ষায় কাদা-পিচ্ছিল পথে কষ্ট বেড়ে যায়।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গড়ুইখালী বাজার এলাকায় ছোট একটি ভাড়া ঘরে থাকেন ৫৪ বছর বয়সী এক ফেরিওয়ালা; স্ত্রী-সন্তান থাকেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গ্রামের বাড়িতে। সাইকেলের গায়ে বাঁশ ও কাঠের কাঠামো বানিয়ে তাতে ঝুলিয়ে নেন রঙিন বাটি, বদনা, খেলনা, ফিতা, চুলের ক্লিপ ও কসমেটিকসের প্যাকেট। মোট ৪০–৫০ রকমের জিনিস, দাম শুরু ১০ টাকা থেকে। প্রতিদিন ভোরে নতুন মাল সাজিয়ে কয়রা বা পাইকগাছার কোনো গ্রামে বেরিয়ে পড়েন। খুলনার উপকূলে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ঘুরছেন তিনি। আগে দাকোপে থাকার সময় পাবনা থেকে ছিট কাপড় এনে সাইকেলে বিক্রি করতেন, কিন্তু জায়গায় জায়গায় কাপড়ের দোকান গজিয়ে ওঠায় পেশা বদলান। ১৮ বছর ধরে চালাচ্ছেন এই ভ্রাম্যমাণ দোকান। দিনে বিক্রি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, তাতেই কোনোমতে চলে যায়; এই আয়ে তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে মাধ্যমিক পাস করে ইলেকট্রিকের কাজ শিখে এখন মিস্ত্রির কাজ করে। যে গ্রামের নারীরা ইচ্ছা থাকলেও বাজারে যেতে পারেন না, তাঁদের কাছে তাঁর ডাক শুনে বাড়ির কাছেই চিরুনি, পাউডার, ফিতা কেনার সুযোগ। বর্ষায় সবচেয়ে কষ্ট: কাদা আর পিচ্ছিল পথে সাইকেল ঠেলা কঠিন, খেয়াঘাটে পড়ে কোমরে ব্যথাও পেয়েছেন। তবে নিজে পড়লেও সাইকেল আর মালামাল কখনো ফেলেননি।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট দামের পণ্য (১০ টাকা থেকে) দিয়ে দোকান সাজালে পুঁজি কম লাগে এবং গ্রামের ক্রেতার কাছে নিয়মিত বিক্রি হয়।
- ২.যে পণ্যের জায়গায় জায়গায় দোকান হয়ে যায় (যেমন কাপড়), সেটি ছেড়ে এমন পণ্যে যান যা ক্রেতার দরজায় পৌঁছে দিলে বাড়তি সুবিধা দেয়।
- ৩.বর্ষায় ফেরির আয় ও শরীরের ঝুঁকি দুটোই বাড়ে; সে সময়ের জন্য আলাদা হিসাব রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
