পিসে লাভ ৬০–৭০ টাকা, তবু বাটিক ছাড়ছেন কারখানার মালিকেরা
কমলপুর গ্রামে ১৫–২০টি বাটিক কারখানায় বছরে লেনদেন ৪০–৪৫ কোটি টাকা। একজন মালিকের প্রতি পিসে লাভ ৬০–৭০ টাকা, কিন্তু কাপড় ও রঙের দাম আর কারিগর-সংকটে অনেকে কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন।
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কমলপুর গ্রামে ১৯৭১ সাল থেকে বাটিকের কাজ হয়; এখন ১৫–২০টি কারখানায় বছরে লেনদেন ৪০–৪৫ কোটি টাকা, মাল যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট আর নরসিংদীতে, কোম্পানির মাধ্যমে রপ্তানির অর্ডারও আসে। এখানকার একটি কারখানার মালিক নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর মিল থেকে সাদা কাপড় কিনে আনেন, ৫০ জন কর্মী রাখেন, আর প্রতি পিসে লাভ থাকে ৬০–৭০ টাকা। রং করার কারিগরেরা কাজের হিসাবে মজুরি পান, দিনে ৮০০–১,০০০ টাকা পর্যন্ত; নকশার কারিগর প্রতি পোশাকে ২০ টাকা পান আর দিনে ৩০–৪০টি পোশাকের কাজ করেন। একটি কারখানায় ৩–৪ দিনে ৫০০–৬০০ পিস তৈরি হয়; পাইকারিতে শাড়ি ৭০০–১,১০০ টাকা, থ্রি-পিস ৬০০–৮০০ টাকা, চাদর ৮০০–১,২০০ টাকা আর লুঙ্গি ২০০–৪০০ টাকায় যায়। তবু আরেক কারখানার মালিক বলছেন, কাপড়ের দাম, রাসায়নিকের দাম আর কারিগর না পাওয়া মিলিয়ে হিসাব আর মিলছে না — "সব মিলিয়ে পোষাতে না পেরে অনেকে বাটিক ছেড়ে দিচ্ছেন।" গ্রামের লেনদেনের অঙ্ক বড় হলেও কারখানার মালিকেরা একে একে সরে যাচ্ছেন।
যা শেখার আছে
- ১.পিসে ৬০–৭০ টাকার লাভ কেবল বেশি উৎপাদনেই কাজে লাগে — কাপড় আর রঙের দাম বাড়লে ছোট কারখানার লাভ আগে শেষ হয়
- ২.গ্রামের বছরে ৪০–৪৫ কোটি টাকার হিসাব শুনে নয়, একজন মালিকের প্রতি পিসের লাভ দেখে সিদ্ধান্ত নিন
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
