১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় গাভি-বকনা কিনে শুরু; এখন খামারে ২০ গরু, দিনে ৯০–১০০ লিটার দুধ
কক্সবাজারের চকরিয়ার এক তরুণ স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরির বদলে দুধের খামার করেন। দুটি গরু দিয়ে শুরু করে এখন ২০টি গরুর খামার থেকে খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতে থাকে।
চকরিয়ার এক তরুণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে স্নাতক ও ২০২২ সালে স্নাতকোত্তর পাস করেন। পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে গাছের চারা বেচে নিজের খরচ চালাতেন, তখনই চাকরি না করে উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা জাগে। পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় একটি গাভি ও একটি বকনা কিনে খামার শুরু করেন। একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছাউনি বানান এবং ঘাসের জন্য ১৬০ শতাংশ জমি বর্গা নেন। এখন খামারে ২০টি গরু আছে (১১টি গাভি ও ৯টি বাছুর), কাজ করেন তিনজন কর্মচারী। দিনে ৯০–১০০ লিটার দুধ পান, যা পেকুয়া ও বদরখালী বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করে দিনে প্রায় ৭ হাজার টাকা আয় হয়। বাছুর বেচে বছরে আয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। কর্মচারীর বেতন, খাবার, ওষুধসহ সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতে থাকে, যা তিনি নিজের বেতন ধরেন। তাঁর লক্ষ্য মাংস নয়, দুধ ও পুষ্টির চাহিদা মেটানো। শুরুতে এলাকার লোকের কথা শুনতে হয়েছিল, বাবা-মা রাজি ছিলেন না; এখন পরিবার পাশে আছে। ২০২৪ সালের ১৩ জানুয়ারি খামারটি জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে নিবন্ধন পায়, আর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস পরামর্শ, চিকিৎসা ও টিকা সরবরাহ করে।
যা শেখার আছে
- ১.দুধের জন্য খামার করলে বাছুর বিক্রিও আয়ের বড় অংশ হতে পারে: এখানে বছরে প্রায় ৭ লাখ টাকা।
- ২.ছাউনি ও ঘাসের জমির জন্য ঋণ ও বর্গা জমি নিয়ে মূলধনের চাপ কমানো যায়।
- ৩.খামার নিবন্ধন করালে প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শ, চিকিৎসা ও টিকা পাওয়া সহজ হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
