১৯৮৯ সালে একটি গাড়ি দিয়ে শুরু, এখন ১৫টি অ্যাম্বুলেন্স; তবু ব্যাংকঋণ মেলে না
ঢাকার এক অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী আগের অংশীদারি প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৮৯ সালে একটি গাড়ি দিয়ে নিজের সেবা শুরু করেন; এখন তাঁর বহরে একটি আইসিইউসহ ১৫টি অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু খাতটি এখনো ব্যবসা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি, ব্যাংকঋণ ও ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া কঠিন।
২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স খাতের চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে 'আলিফ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস'-এর মালিক জানান, রাজধানীতে অ্যাম্বুলেন্সের বিপুল চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি ১৯৮৯ সালে একটি গাড়ি দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এর আগে তিনি 'ডে অ্যান্ড নাইট' নামে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন, যা ব্যবসায় সফল হয়নি। প্রতিবেদনের সময় তাঁর বহরে ছিল ১৫টি গাড়ি, যার একটি গুরুতর রোগীর জন্য আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় প্রায় ৫১২টি অ্যাম্বুলেন্স সেবাদাতা আছে; ঢাকা শহরের মধ্যে নন-এসি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া গড়ে ১,০০০–৩,০০০ টাকা, এসি ১,৫০০–৪,০০০ টাকা, আর আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ৫,০০০–৮,০০০ টাকা। একটি অ্যাম্বুলেন্সের গড় দাম ১৫–১৮ লাখ টাকা; খাতে মোট বিনিয়োগ প্রায় ১৬০ কোটি টাকা, বছরে লেনদেন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। তবে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি জানান, সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স এখনো ব্যবসা হিসেবে স্বীকৃত নয়; সরকার বছরে এই খাত থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা আয় করলেও তদারকি নেই, আর তাঁরা ব্যাংকঋণ পান না। সরাসরি ট্রেড লাইসেন্স পাওয়াও জটিল। ভাড়া নির্ধারণের সরকারি নীতি না থাকায় কেউ কেউ অসহায় রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেন, যা পুরো খাতের সুনাম নষ্ট করে বলে তিনি মনে করেন।
যা শেখার আছে
- ১.অ্যাম্বুলেন্সে বিনিয়োগ বড় (গাড়িপ্রতি ১৫–১৮ লাখ টাকা) এবং ব্যাংকঋণ পাওয়া কঠিন; একটি গাড়ি দিয়ে শুরু করে ধীরে বহর বাড়ানো নিরাপদ।
- ২.অংশীদারি ব্যবসা ব্যর্থ হলেও সেই অভিজ্ঞতা নতুন উদ্যোগে কাজে লাগে।
- ৩.বাড়তি ভাড়া নিলে সুনাম নষ্ট হয়; স্পষ্ট, ন্যায্য ভাড়া রাখলে রোগীর আস্থা পাওয়া যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
