এক যুগ কাজ করে মজুরির দেড় লাখ টাকাই পাননি রাজমিস্ত্রি
ঢাকায় এক যুগ রাজমিস্ত্রির কাজ করে পারিশ্রমিকের প্রায় দেড় লাখ টাকা পাননি একজন মিস্ত্রি; আরেকজনের ১০ বছরে গচ্চা ৯০ হাজার, আর এক ঠিকাদারের কাছে ৩০ জন শ্রমিকের টাকা একসঙ্গে আটকে যায়।
দিনাজপুর থেকে ২০০৭ সালে কিশোর বয়সে ঢাকায় এসে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করা এই মিস্ত্রি মোহাম্মদপুরের হাউজিং সোসাইটি এলাকায় কাজ করেন; এক যুগে পারিশ্রমিকের প্রায় দেড় লাখ টাকাই তিনি হাতে পাননি। এই হিসাব ঠিকাদারের খাতার নয় — দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদক মিস্ত্রি ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নিজের বয়ান থেকে এটি লিখেছেন। তাঁদের ভাষ্য, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদার আর ফোরম্যান মিলে মজুরির টাকা আত্মসাৎ করে সরে পড়েন; একজনের ভাষায়, "শতকরা ৮০ জন কন্ট্রাক্টর টাকা লিয়া চিটারি করে।" দৈনিক মজুরি রাজমিস্ত্রির ৫৫০–৬০০ টাকা আর হেলপারের ৪০০ টাকা হলেও হাতে দেওয়া হয় শুধু ১০০ টাকার খাওয়ার বিল, বাকিটা ঠিকাদারের কাছে জমা থাকে আর দুই-তিন মাস পরপর তার অর্ধেকেরও কম পরিশোধ হয়। ধানমন্ডিতে কাজ করা একজনের প্রায় ৩০ হাজার টাকা আটকে যায়, তাঁর সঙ্গে একই ফাঁদে পড়েন আরও ৩০ জন শ্রমিক; দীর্ঘ চেষ্টায় কিছু টাকা উঠলেও পুরোটা আজও শোধ হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী শ্রমিকেরা সর্বনিম্ন ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত মজুরি প্রতারণার শিকার হয়েছেন, আর বিলসের ২০১৭ সালের জরিপে দেশে নির্মাণশ্রমিক প্রায় ৪০ লাখ, এর মধ্যে অন্তত ১৮ লাখ রড ও রাজমিস্ত্রি।
যা শেখার আছে
- ১.মৌখিক চুক্তিতে ঠিকাদারের কাছে মজুরি জমা রাখা মানে নিজের পুঁজি অন্যের হাতে তুলে দেওয়া — লিখিত হিসাব আর নিয়মিত পরিশোধ ছাড়া কাজ নেওয়া বিপজ্জনক
- ২.সংগঠিত দরকষাকষি না থাকলে এই পেশায় বকেয়া আদায়ের কার্যত কোনো পথই থাকে না
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
