সপ্তাহে কাগজের দাম ৩০ শতাংশ বেড়ে থমকে গেল ছাপার কাজ
বইমেলার মৌসুমের ঠিক আগে এক সপ্তাহে কাগজজাত উপকরণের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ে — হোয়াইট প্রিন্ট টনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা বেড়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার, নিউজপ্রিন্ট ৬৪ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা।
বইমেলা আর জানুয়ারির নতুন বইয়ের মৌসুমের ঠিক আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে কাগজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে; গ্যাস সংকটে মিলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে টান পড়ে আর এক সপ্তাহেই টনপ্রতি ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ে। হোয়াইট প্রিন্ট কাগজ টনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়, লেজার কাগজ ৩০ হাজার বেড়ে ১ লাখ ৭০ হাজার, আর নিউজপ্রিন্ট ৬৪ হাজার থেকে উঠে যায় ৮৫ হাজার টাকায়। বাবুবাজারের এক ছাপাখানার মালিকের কথায়, "বাজার স্বাভাবিক থাকলে এই সময়ে কাজের অভাব হয় না। কিন্তু কাগজের দাম বাড়তে থাকায় কাজ কমতে শুরু করেছে।" আরামবাগের একটি প্রেস তাদের পুরোনো গ্রাহকদের ই-মেইল আর মুঠোফোনে জানিয়ে দেয়, দাম নতুন করে সমন্বয় না করলে আগের শর্তে কাজ করা সম্ভব নয়; নয়াবাজারের এক পাইকারের বেচাকেনা নেমে আসে অর্ধেকে। খাতার দামও বাড়ে — ১০০টি মলাটের কাগজ ১,৮০০ থেকে ২,৬০০ টাকা, আর ১২০ পৃষ্ঠার এক ডজন খাতা পাইকারিতে ৩১০–৩২০ থেকে ৪০০ টাকা। প্রকাশকেরা দাম কমার আশায় ছাপা আপাতত বন্ধ রেখে বাকি কাজ সেরে রাখছিলেন, অর্থাৎ পিক মৌসুমের সময়টাই চলে যাচ্ছিল অপেক্ষায়।
যা শেখার আছে
- ১.কাঁচামালের দাম হঠাৎ বাড়লে আগে নেওয়া অর্ডারেই লোকসান হয় — দাম সমন্বয়ের শর্তটা কাজ নেওয়ার সময়ই লিখে রাখা দরকার
- ২.মৌসুমি ব্যবসায় পিকের ঠিক আগের কাঁচামালের দামই সারা বছরের লাভ-লোকসান ঠিক করে দেয়
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
