সাত বছরে আড়াই হাজারের বেশি নারীকে স্কুটি-বাইক শেখালেন; জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা
কুমিল্লায় এক নারী সরকারি চাকরি ছেড়ে নারীদের স্কুটি ও বাইক চালানো শেখানো শুরু করেন। এখন তাঁর প্রশিক্ষণ সেন্টারে পাঁচজন প্রশিক্ষক কাজ করেন, প্রতি মাসে অন্তত ৩০ জন শেখেন।
কুমিল্লা নগরে নারীদের স্কুটি ও মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন মুরাদনগরের এক গ্রামের মেয়ে। ২০১৭ সালে তিনি জমানো টাকা ও কিস্তিতে একটি স্কুটি কেনেন, সেই বছরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পান। স্কুটিতে চড়ে স্কুলে যেতে দেখে অনেক নারী জানতে চাইতেন কোথায় শিখেছেন, তাঁরাও শিখতে চান। স্বাধীনভাবে কাজ করতে চেয়ে দুই বছরের মাথায় তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মাত্র তিনজনকে নিয়ে শুরু; ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী বাড়ে। ২০২০ সালে করোনায় কয়েক মাস কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি নারী তাঁর কাছে শিখেছেন, জনপ্রতি ফি ৩ হাজার টাকা। প্রতি মাসে অন্তত ৩০ জন শিখছেন, কুমিল্লার আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকেও আসেন। প্রশিক্ষণের জন্য তাঁর পাঁচটি স্কুটি ও একটি বাইক আছে, আর তাঁর কাছে শেখা পাঁচজন তরুণী এখন সেন্টারে প্রশিক্ষক। একজন শিক্ষার্থী জানান, আগে যাতায়াতে মাসে ১২ হাজার টাকা লাগত, এখন সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকার তেল লাগে। শুরুতে পরিবারের কেউ তাঁর স্কুটি কেনা সমর্থন করেননি, কেউ কেউ কটুকথাও বলতেন।
যা শেখার আছে
- ১.যে সেবার চাহিদা কেউ মেটাচ্ছে না, সেখানে অল্প ক্রেতা নিয়েই শুরু করা যায়; প্রচারে ফেসবুক কাজে এসেছে।
- ২.নিজের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষক বানালে খরচ না বাড়িয়ে ক্ষমতা বাড়ে।
- ৩.যানবাহন ও জ্বালানির খরচ সীমিত থাকে বলে প্রশিক্ষণে পাঁচটি স্কুটি ও একটি বাইক দিয়েই মাসে ৩০ জনকে শেখানো যাচ্ছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
