১০টি ভাসমান বেডে খরচ ৩৫ হাজার, মৌসুমের মাঝপথেই ৬০ হাজারের সবজি বিক্রি
বরিশালের উজিরপুরের সাতলা বিলের এক কৃষক ১০টি ভাসমান বেড তৈরিতে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন, আশা ছিল মোট ৭০–৮০ হাজার টাকা।
বরিশালের উজিরপুরের সাতলা বিলের মানুষ বছরে প্রায় ছয় মাস পানিবন্দী থাকেন, জমিতে এক ফসলই হয়। বর্ষায় তাঁদের বিকল্প আয় ভাসমান সবজি চাষ। পানির ওপর বাঁশ বা কলাগাছ ফেলে কচুরিপানার স্তূপ করে, শেওলা ঢেকে, পচে গেলে তার ওপর বীজ বোনা হয়। একেকটি বেড এক মৌসুমের জন্য, শেষে পচা ধাপ বোরো জমিতে জৈব সার হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ মিটার লম্বা ও ২ থেকে আড়াই মিটার চওড়া একটি বেড তৈরিতে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়, আর এক মৌসুমে একেক বেড থেকে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হয়। দক্ষিণ সাতলার ৪৮ বছর বয়সী এক কৃষক সে বছর ১০টি বেডে সবজি করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘বেড তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। ৬০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি।’ মৌসুম শেষে ৭০–৮০ হাজার টাকার বিক্রির আশা করছিলেন।
কৃষকেরা সপ্তাহে দুদিন বানারীপাড়ার হাটে সবজি নেন, কখনো ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকেই কিনে নেন। বর্ষায় আশপাশের পাইকারদের কাছে সাতলার ভাসমান সবজিই প্রধান ভরসা, আর বিষমুক্ত হওয়ায় চাহিদা বেশি। উপজেলায় তখন ১৫০ হেক্টর জলাশয়ে এ চাষ হচ্ছিল।
যা শেখার আছে
- ১.বেডের খরচ এক মৌসুমেই উঠে আসে বলে অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায়, তবে প্রতি মৌসুমে নতুন বেড বানাতে হয়, খরচটা প্রতিবার ধরতে হবে।
- ২.বর্ষায় যখন অন্য জায়গার সবজি কম আসে, তখন বিক্রি করতে পারাটাই এই চাষের দামের সুবিধা।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
