২,০০০ টাকার একটি টুলের অর্ডার থেকে ৫০ ধরনের আসবাব; মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয়, কাজ পেয়েছেন ২০ জন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক নারী উদ্যোক্তা বাবলা কাঠের কাঠামোয় দড়ি বুনে খাট, টুল, সোফা ও দোলনা বানান। ফেসবুকে একটি টুলের ছবি থেকে শুরু হয়ে এখন অনলাইনে ও সরাসরি অর্ডারে মাসে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক নারী উদ্যোক্তা ‘আয়েশি’ নামে একটি কারখানা চালান, যেখানে বাবলা কাঠের কাঠামোয় টিস্যু দড়ি বুনে দড়ির খাট, টুল, দোলনা, সোফা, পড়ার টেবিল-চেয়ারসহ প্রায় ৫০ ধরনের আসবাব ও হস্তশিল্প তৈরি হয়। বিবিএ ও এমবিএ শেষ করে তিনি ঢাকায় একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন; বিয়ের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসায় সেই জীবন থেমে যায়। ২০১৮ সালে অনলাইনে আমের ব্যবসা শুরু করেন, কিন্তু সেটি মৌসুমি, তাই সারা বছর চলার মতো কাজ খুঁজছিলেন। ফেসবুকে একটি টুলের ছবি দিলে অনেকে কেনার আগ্রহ দেখান। স্বামী মনাকষার কারিগরদের কাছে টুল বানানো শিখে এসে স্ত্রীকে শেখান। প্রথম অর্ডার ছিল ২ হাজার টাকার একটি মাচা বা টুলের, তারপর ৫ হাজার টাকার একটি খাটের। এখন দাম ১,৫০০ টাকা থেকে ১৫-১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত, অর্ডারের আকার ও নকশা অনুযায়ী। বিক্রির বড় অংশ অনলাইনে, সঙ্গে সরাসরি অর্ডারও আসে; হোটেল-রেস্টুরেন্টও কেনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী মাসে আয় প্রায় তিন লাখ টাকা এবং ২০ জন নারী-পুরুষের কাজ হয়েছে। তাঁর পরামর্শ, শুরুতে বড় কিছু না করে ছোট পরিসরে কাজের মান ভালো রাখলেই ধীরে ধীরে ক্রেতার আস্থা তৈরি হয়।
যা শেখার আছে
- ১.মৌসুমি ব্যবসার পাশে সারা বছরের পণ্য যোগ করলে আয় স্থির হয়; আমের ব্যবসার পর আসবাব এই কাজ করেছে।
- ২.ছবি দিয়ে ক্রেতার আগ্রহ যাচাই করে শুরু করলে ঝুঁকি কম; প্রথম অর্ডার ছিল মাত্র ২ হাজার টাকার।
- ৩.একই কারখানায় ১,৫০০ থেকে ১৫-১৬ হাজার টাকার পণ্য রাখলে ছোট-বড় সব ক্রেতাকে ধরা যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
