মালয়েশিয়ার ১৩ বছরের অভিজ্ঞতায় ৬টি ভাড়া কক্ষে আসবাব কারখানা; ৭ কর্মী, মাসে ৩০-৪০ হাজার আয়
নওগাঁর রাণীনগরে মালয়েশিয়াফেরত এক কারিগর ডিজিটাল মেশিনে কাঠে নকশা করার দক্ষতা নিয়ে আবাদপুকুর বাজারে আসবাব ও দরজার কারখানা খুলেছেন। জায়গার অভাবে পুরো সক্ষমতায় চালাতে না পারলেও মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ভেটি গ্রামের গোলাম রাব্বানী (৪২) ২০০৪ সালে মালয়েশিয়ায় যান। প্রথমে একটি কোম্পানিতে কাজ করলেও পরে প্রায় ১৩ বছর তিনি আসবাব তৈরির কারখানায় কাজ করেন। সেখানে ডিজিটাল মেশিনে কাঠে নকশা কাটার কাজ শেখেন। প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় দেড় বছর আগে দেশে ফিরে তিনি আবাদপুকুর বাজারে ছয়টি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ‘মেসার্স শারমিন ফার্নিচার অ্যান্ড ডোর’ নামে কারখানা খোলেন। এখন সেখানে একজন ডিজাইনারসহ সাতজন কর্মচারী কাজ করেন। জায়গার অভাবে তিনি কারখানা পুরোপুরি চালু করতে পারেননি। তারপরও প্রতি মাসে তাঁর ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। প্রতিবেদনে ভাড়া, পুঁজি বা খরচের কোনো অঙ্ক নেই, তাই এই আয় থেকে নিট লাভ কত থাকে তা বোঝা যায় না। রাব্বানীর মতে, দেশের লাখ লাখ শ্রমিক বিদেশে নানা কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন; দেশে ফিরে বসে না থেকে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে ভালো কিছু করা সম্ভব। একই প্রতিবেদনে একই এলাকার আরেক প্রবাসফেরত দড়ি তৈরির কারখানা চালু করেছিলেন, যেখানে প্রথমে ২০-২৫ জন শ্রমিক ছিলেন, কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটে ছয় মাস আগে তা বন্ধ করে তিনি আবার মালয়েশিয়ায় গেছেন। অর্থাৎ বিদেশের দক্ষতা কাজে লাগলেও দেশের ব্যবসার টিকে থাকা নির্ভর করে পুঁজি ও পরিস্থিতির ওপর।
যা শেখার আছে
- ১.বিদেশে শেখা যন্ত্র-দক্ষতা (যেমন ডিজিটাল মেশিনে কাঠের নকশা) দেশে আলাদা সুবিধা দিতে পারে।
- ২.ছোট জায়গায় শুরু করলে কারখানা পুরো ক্ষমতায় চালানো যায় না; জায়গার সীমা আয়ের সীমাও টেনে ধরে।
- ৩.আয়ের কথা বলার সময় ভাড়া, মজুরি ও কাঁচামালের খরচ আলাদা করে ধরুন; শুধু মাসিক আয় দেখে লাভ বোঝা যায় না।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
