পদ্মার চরে ২৮ বিঘা ইজারায় পেয়ারা, বিঘায় ১ লাখ লাভ; আগের ১০৫ বিঘার সব গাছ মরেছিল
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর এক তরুণ উদ্যোক্তা বিঘাপ্রতি বছরে ১৫ হাজার টাকায় পদ্মার চরে ২৮ বিঘা ইজারা নিয়ে পেয়ারা বাগান করেন। প্রথম বছরে খরচ ওঠে, দ্বিতীয় বছরে বিঘায় ১ লাখ টাকা লাভ, তৃতীয় বছরে করোনায় লাভ হয়নি। এর আগে বরেন্দ্রের ১০৫ বিঘার বাগানের সব গাছ সাড়ে তিন বছরে মরে যায়।
রাজশাহী কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এই উদ্যোক্তা ঢাকার একটি আইটি ফার্মে দুই বছর চাকরি করে কৃষিতে আসেন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহে ২০১৮ সালে ২৮ বিঘা জমি পাঁচ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে পেয়ারা বাগান করেন। চরের জমির ইজারা তখন বিঘায় ৮–১০ হাজার টাকা ছিল, তিনি নেন বিঘাপ্রতি বছরে ১৫ হাজারে; বছরে ইজারাই ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। ব্যাগিং, কীটনাশক, সেচ ও শ্রম মিলিয়ে প্রথম বছরের খরচ ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা।
প্রথম বছরের বিক্রিতে খরচ উঠে যায়। দ্বিতীয় বছরে সব খরচ বাদে বিঘাপ্রতি ১ লাখ, অর্থাৎ ২৮ লাখ টাকা লাভ হয়। তৃতীয় বছরে করোনায় কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ২০–২৫ টাকার বিপরীতে বিক্রি হয় ৩০ টাকায়, তেমন লাভ হয়নি। পেয়ারা বাগানেই বাছাই ও প্যাকেট করে ট্রাকে ঢাকায় আর রাজশাহীর খড়খড়ি বাজারে পাঠান।
এর আগের অভিজ্ঞতা ছিল কঠিন: গোদাগাড়ীর বরেন্দ্রের উঁচু জমিতে তাঁর ১০৫ বিঘার পেয়ারা বাগানের সব গাছ সাড়ে তিন বছর পর মরে যায়। তাঁর মতে চরের বেলে-দোআঁশ মাটিতে গাছ বেশি দিন টেকে; চরে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত ১৫টি গাছ মরেছে। তাঁর দেখাদেখি অনেকে চরে পেয়ারা করায় জমির ইজারার দামও বেড়ে যাচ্ছে।
যা শেখার আছে
- ১.পেয়ারাগাছের আয়ু মাটির ওপর নির্ভর করে; শুকনো উঁচু জমিতে পুরো বাগান কয়েক বছরে মরে যেতে পারে, তাই ইজারার মেয়াদ আর বিনিয়োগ সেই হিসাবে ঠিক করুন।
- ২.কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ জানা থাকলে বোঝা যায় দাম পড়লে কতটা ঝুঁকি; এখানে ২০–২৫ টাকা খরচে ৩০ টাকায় বিক্রিতে লাভ প্রায় শূন্য।
- ৩.বেশি দামে ইজারা নিলে বছরের শুরুতেই বড় নগদ খরচ; প্রথম বছর শুধু খরচ তোলার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
