১৫০০-২০০০ তাঁত নেমে এসেছে ৫০০-তে; আড়ং-নির্ভর রেশমপাড়ায় সুতার দাম বাড়ে, কাপড়ের দাম বাড়ে না
চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিনগর ও লাহারপুর তাঁতিপাড়ায় রেশম সিল্কের তাঁত কমছে, কারণ বিক্রি প্রায় পুরোপুরি আড়ংয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং সুতার দাম বেড়েছে। কারিগররা দিনে ৩৫০-৫০০ টাকার বেশি আয় করতে পারেন না, তাই নতুন কেউ কাজ শিখছে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিনগর তাঁতিপাড়ায় ১০-১৫ বছর আগে ১৫০০ থেকে ২০০০ তাঁত চালু ছিল; এখন আছে মাত্র ৫০০টি। সদর উপজেলার লাহারপুর তাঁতিপাড়ায় সাত-আট বছরে তাঁত কমে এক-তৃতীয়াংশ হয়ে এখন প্রায় ১০০টি। এক তাঁতি জানান, তাঁর ৪০টি তাঁত চালু ছিল, পাঁচ বছরে কমে এখন ১০টি। এখানকার রেশম সিল্কের কাপড়ের ব্যবসা প্রায় সম্পূর্ণ আড়ং, অর্থাৎ ব্র্যাকের ওপর নির্ভরশীল; তাদের বেঁধে দেওয়া দরে এবং তাদের পছন্দমতো কাপড় বানাতে হয়, বাইরে বাজার নেই বললেই চলে। এবার ঈদ উপলক্ষে ব্র্যাক আগের চেয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ কম কাপড় কিনেছে, ফলে কাজ কমে গেছে। এদিকে সুতার দাম বাড়ছে। সিল্কের যে সুতা কেজিতে ৭ হাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা ছিল, তা এখন ৯ হাজার থেকে ৯ হাজার ৫০০ টাকা; আমদানি করা চায়না সিল্ক সুতার দাম ১৫-২০ দিন আগে কেজিতে দুই হাজার টাকা বেড়েছে। কিন্তু কাপড়ের দাম বাড়েনি। কারিগররা সারা দিনে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি আয় করতে পারেন না, এতে সংসার চলে না; তাই নতুন কেউ কাজ শিখছে না আর তরুণেরা বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাঁতিদের আশঙ্কা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে একসময় এই রেশমশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ‘শুভ সিল্ক’-এর মালিক একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেও পূর্বপুরুষের পেশা ধরে রেখেছেন, তিনিও ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ।
যা শেখার আছে
- ১.একটিমাত্র ক্রেতার ওপর নির্ভর করলে দাম ও পরিমাণ সবই তার হাতে চলে যায়; ক্রেতা কমালে পুরো পাড়া ভোগে।
- ২.সুতার দাম বাড়লেও কাপড়ের দাম বাড়াতে না পারলে মজুরি আর লাভ দুটোই চাপে পড়ে; আগে থেকে দাম নিয়ে দরকষাকষির পথ রাখুন।
- ৩.দিনে ৩৫০-৫০০ টাকার মজুরিতে নতুন কারিগর আসে না; কারিগর ধরে রাখতে বিকল্প বাজার ও ভালো দাম খুঁজতে হবে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
