৬ হাজার টাকার একটি তাঁত থেকে ১৮টি তাঁত; মাসে আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের এক গৃহবধূ ছয় হাজার টাকায় একটি মণিপুরি তাঁত কিনে শাড়ি বোনা শুরু করেন। প্রায় ১০ বছরে তাঁর তাঁত হয়েছে ১৮টি, মাসে আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে এক গৃহবধূর স্বামীর সামান্য কৃষিখেত আর ছোট ব্যবসায় সংসার চলত না, ছেলেমেয়ের পড়ালেখাও কঠিন ছিল। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি কাছের গ্রাম বনগাঁওয়ে গিয়ে একজনের কাছে মণিপুরি তাঁতের কাজ শেখেন এবং ছয় হাজার টাকায় একটি তাঁত কিনে ঘরে বসান। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে সপ্তাহে দুটি কাপড় বানাতে পারতেন। আশপাশের অনেক নারী তাঁর কাছে বোনা শিখতে আসেন। আয় থেকে তিনি একটি একটি করে তাঁত বাড়ান; পাঁচটি তাঁত হলে ১০ জন নারী তাঁর পরিচালনায় কাজ করতেন এবং সপ্তাহে পাঁচ থেকে সাতটি শাড়ি হতো। এখন তাঁর তাঁত ১৮টি। সুতা তিনি স্থানীয় আদমপুর বাজার থেকে কেনেন, আর তৈরি শাড়ি পাইকারেরা বাড়ি থেকেই নিয়ে যান। মাসে আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এই আয়ে এক মেয়ে ও এক ছেলেকে স্নাতক পাস করিয়েছেন, আরেক ছেলে মেডিকেলে পড়ছে, বাড়িঘরও সংস্কার করেছেন। স্বামী বলেন, তাঁতই তাঁদের মূল পুঁজি। একজন স্থানীয় লোকগবেষক বলেন, এলাকায় এমন উদাহরণ আর জানা নেই।
যা শেখার আছে
- ১.একটি তাঁত দিয়ে শুরু করে আয় থেকে ধাপে ধাপে তাঁত বাড়ানো যায়; বড় ঋণ ছাড়াই এগোনো সম্ভব হয়েছে।
- ২.পাইকার বাড়ি থেকে শাড়ি নিয়ে যান, তাই বিক্রির জন্য আলাদা দোকান বা বাজারে যাওয়ার খরচ নেই।
- ৩.অন্যদের কাজ শিখিয়ে সাথে নিলে উৎপাদন বাড়ে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
