ঘরে বানানো আইসক্রিম, দিনে ৪০০–৫০০ কাপ বিক্রি, লাভ ২–৩ হাজার টাকা
কেশবপুরের এক দোকানি কোম্পানির আইসক্রিম না পেয়ে নিজেই আইসক্রিম বানানো শুরু করেন। শুধু দুধ-চিনির আইসক্রিম বিক্রি হয়নি; স্ত্রীর পরামর্শে কাজুবাদাম, কিশমিশ, সন্দেশ ও সর মেশানোর পর বিক্রি বেড়ে যায়।
যশোরের কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামে বাড়ির সঙ্গে ২০–২৫ বছর আগে একজন ছোট একটি দোকান দেন, যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির আইসক্রিম বিক্রি করতেন। দোকানটি স্কুলের সামনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানির প্রতিনিধিরা আইসক্রিম দিতে চাইতেন না। তখন তিনি জেদ করে নিজেই আইসক্রিম বানানো শুরু করেন। শুরুতে শুধু দুধ আর চিনি মিশিয়ে বানাতেন, কিন্তু তা তেমন বিক্রি হতো না, তিনি কিছুটা হতাশ হন। এরপর স্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী এর সঙ্গে কাজুবাদাম, কিশমিশ, সন্দেশ আর দুধের সর যোগ করেন। এতে বিক্রি ব্যাপক বেড়ে যায় এবং আশপাশের উপজেলাতেও জনপ্রিয় হয়; এলাকায় এটি ‘বৌদির আইসক্রিম’ নামে পরিচিতি পায়। এখন দিনে ১ মণ দুধ লাগে। আড়াই-তিন ঘণ্টা দুধ জ্বাল দিয়ে অর্ধেকে আনা হয়, চিনি দিয়ে ঘন করে বাকি উপকরণ মিশিয়ে আবার জ্বাল দেওয়া হয়। সকালে এ কাজ করে ঠান্ডা হলে বিকেলে ওয়ান টাইম কাপে ঢেলে রাতভর ফ্রিজে রাখা হয়, পরদিন সকালে দোকানে নেওয়া হয়। প্রতিদিন ৪০০–৫০০ কাপ বিক্রি হয়, কাপভেদে দাম ১০ থেকে ২০ টাকা। দিনে লাভ হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। স্থানীয় ক্রেতারা বলেন, স্বাদ ভালো আর দামও তুলনামূলক কম।
যা শেখার আছে
- ১.প্রথম রেসিপি না চললে হাল ছাড়বেন না; উপকরণ বদলে বিক্রি বদলানো যায়, যেমন এখানে কাজু-কিশমিশ-সন্দেশ-সর যোগ করে।
- ২.কোম্পানির সরবরাহ না পেলে নিজে বানানোই সুযোগ হতে পারে; স্কুলের সামনের দোকানে চাহিদা স্থির।
- ৩.কম দামে (১০–২০ টাকা) ভালো স্বাদ মুখে মুখে ক্রেতা আনে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
