সাড়ে ৭ হাজারের ব্যাচে লাভ ২,৩০০ টাকা, ঠোঙার গ্রামে পরিবার ৫৫০ থেকে নেমে ৩৫
৬০ কেজি কাগজে ওঠে ৭০ কেজি ঠোঙা — খরচ ৭,৫০০ টাকা, বিক্রি ৯,৮০০ টাকা, লাভ ২,৩০০। পলিথিন ফিরে আসায় মিরকাদিমের কাগজীপাড়ায় ঠোঙার পরিবার ৫৫০-এর বেশি থেকে নেমে ৩০–৩৫টি।
মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের দক্ষিণ নগর কসবা — যাকে সবাই কাগজীপাড়া বলে — একসময় ৬০০ পরিবারের মধ্যে ৫৫০-এর বেশি পরিবারই ঠোঙা বানাত; এখন টিকে আছে ৩০–৩৫টি। চতুর্থ প্রজন্মের এই কারিগর ১১ বছর বয়সে মায়ের কাছে কাজ শিখেছিলেন, যখন মায়ের সঙ্গে কাজ করতেন ২০–২২ জন কারিগর। হিসাবটা এখনো সোজা: ৬০ কেজি কাগজে ওঠে ৭০ কেজি ঠোঙা, কাগজের দাম ৬,০০০ টাকা, মজুরি-পরিবহন-অন্যান্য ১,৫০০, মোট ৭,৫০০ টাকা; ৭০ কেজি কেজিপ্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হলে আসে ৯,৮০০ টাকা, অর্থাৎ লাভ ২,৩০০ টাকা। কিন্তু ভরা মৌসুম মার্চ থেকে জুন — ওই চার মাসে মাসে ৬০ মণ, সাড়ে ৩ লাখ টাকার বিক্রি, আর সারা বছরের প্রায় ৪ লাখ টাকার লাভ ওই চার মাসেই তুলতে হয়। প্রায় ২২ বছর আগে পলিথিন নিষিদ্ধ হলেও আইন কার্যকর না হওয়ায় বাজার পলিথিনেরই; একজন ব্যবসায়ীর ঢাকার বাজার ৭টি থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩টিতে। কাঁচামালও কমে গেছে — আগে আমদানি করা সিমেন্টের বহুস্তর কাগজের বস্তা মিলত, এখন ভরসা শুধু গুঁড়ো দুধের প্যাকেট। তাঁর কথায়, "এখন কোনোরকমে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকছি।" তিনি মনে করেন তাঁর পরেই এই কাজ শেষ, ছেলেমেয়েদের তিনি এতে আনবেন না।
যা শেখার আছে
- ১.যে আইনের ভরসায় ব্যবসা, সেটা কার্যকর না হলে বাজারও আসে না — পলিথিন ২২ বছর আগে নিষিদ্ধ হয়েছে, তবু বাজার পলিথিনেরই
- ২.চার মাসে সারা বছরের লাভ তুলতে হলে ওই মৌসুমে একটু গড়বড় হলেই পুরো বছরটা যায়
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
