পঞ্চগড়ের অনাবাদি জমির জৈব চা, দেশে কাজী অ্যান্ড কাজী আর যুক্তরাষ্ট্রে টিটুলিয়া নামে ৩০-৪০ রকম চা
২০০০ সালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শুরু হওয়া জৈব চা বাগানের চা দেশে কাজী অ্যান্ড কাজী আর যুক্তরাষ্ট্রে টিটুলিয়া ব্র্যান্ডে বিক্রি হয়। আকর্ষণীয়, পচনশীল মোড়ক আর বাগানের গল্প বলা মার্কেটিংই ব্র্যান্ডটিকে প্রিমিয়াম করেছে।
ডেইলি স্টারের ২০১৮ সালের একটি ফিচার অনুযায়ী, কাজী অ্যান্ড কাজী টি-র গল্প শুরু ২০০০ সালে। দেশের উত্তরের প্রান্ত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যেখানে তখন শুধু অনাবাদি সমতল জমি, শতভাগ জৈব চা বাগান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। জমি কিনে গোবর দিয়ে মাটি তৈরি করা হয়, দুই বছর পর প্রথম চায়ের বীজ লাগানো হয়; রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ছাড়াই চাষ চলে। বাগান রপ্তানির উপযোগী হলে ২০১০ সালে উদ্যোক্তা পরিবারের দুই ভাই যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ল্ড টি এক্সপোতে অংশ নেন; সাড়া পেয়ে তারা মার্কিন বাজারে মন দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার থেকে পরিচালিত বৈশ্বিক ব্র্যান্ডটির নাম টিটুলিয়া, 'টি' আর 'তেঁতুলিয়া' মিলিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্র্যান্ডটি গড়ে তোলা এক বিপণন-সহযোগীর কথায়, বাগানের ভালো কাজের গল্প ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে তারা কম বর্জ্যের কম্পোস্টযোগ্য মোড়ক আর সাহসী মার্কেটিং ব্যবহার করেন। দেশের বাজারে কাজী অ্যান্ড কাজী ব্র্যান্ডে বছরজুড়ে ৩০-৪০ রকম চা পাওয়া যায়; সিটিসি ও অর্থোডক্স দুই ধরনের চা, টি-ব্যাগ ও খোলা চা, আর গ্রিন, জেসমিন, আদা, তুলসীসহ নানা স্বাদ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জানান, তিনি মোড়ক নিয়ে পরীক্ষা করতে পছন্দ করেন, কারণ চা উপহার দেওয়ার মতো পণ্য; দুটি ব্র্যান্ডই পচনশীল বাইরের মোড়ক ও ব্যাগে আসে। টিটুলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের হোল ফুডস, ওয়েগম্যানসসহ নামী দোকানে বিক্রি হয়, ফেয়ার ট্রেড, রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্স ও বি-কর্প সনদ পেয়েছে। দেশে মীনা বাজারসহ সুপারশপে পণ্যগুলো পাওয়া যায়।
যা শেখার আছে
- ১.প্যাকেট চায়ে মোড়ক ও গল্প দামের অংশ; উপহারযোগ্য, পরিবেশবান্ধব মোড়ক পণ্যকে প্রিমিয়াম করে।
- ২.বিদেশের বাজারে যাওয়ার আগে মেলায় অংশ নিয়ে ক্রেতার সাড়া যাচাই করা যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
