১০০ টাকায় ১০০ কেঁচো দিয়ে শুরু; এখন বছরে ২৪০ টন সার, বিক্রি ১৪ লাখ, লাভ ৫-৬ লাখ
যশোরের মনিরামপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ২০১১ সালে এক ব্যক্তি ভার্মি কম্পোস্ট শুরু করেন। ৪০ শতক জমি ইজারা নিয়ে এখন পাঁচজন কর্মী নিয়ে মাসে ২০ টন সার বানান।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম গ্রামীণ ব্যাংকে ১৮ বছর চাকরি করে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ২০১১ সালে ১০০ টাকা দিয়ে ১০০টি কেঁচো কিনে একটি চাড়ির ভেতরে সার তৈরি শুরু করেন। ধীরে ধীরে পরিসর বাড়ে। এখন মনোহরপুর কাছারিবাড়ি বাজারের কাছে ৪০ শতক জমি ইজারা নিয়ে তিনি ভার্মি কম্পোস্ট বানান, প্রকল্পে পাঁচজন কর্মী নিয়মিত কাজ করেন। পদ্ধতি এমন: বিভিন্ন বাড়ি থেকে গোবর সংগ্রহ করে গ্যাসমুক্ত করতে খোলা আকাশের নিচে স্তূপ করে রাখা হয়, তাতে এক মাস লাগে। এরপর টিনশেডের নিচে ৭-৮ ইঞ্চি পুরু বেড তৈরি করে কেঁচো ছাড়া হয়, কেঁচোর মলই সার; সেটি আলাদা করে বস্তায় ভরে বাজারে যায়। মাসে ২০ মেট্রিক টন সার হয়, বছরে ২৪০ টন। যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলার কৃষক ও সার ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি হয়। বছরে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার বেচাকেনা হয় এবং সব খরচ বাদে লাভ থাকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। আগের বছর থেকে তিনি ব্র্যান্ডিং করে প্যাকেটজাত করে বিক্রি শুরু করেছেন; এ জন্য পিকেএসএফের সহায়তায় একটি বেসরকারি সংস্থা বিনা মূল্যে সেলাই মেশিনসহ উপকরণ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সার্টিফিকেশনের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও সারের মান পরীক্ষা লেগেছে। উদ্যোক্তারা দাম ও মান নিয়ন্ত্রণ, সহজ লাইসেন্স ও সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.খুব ছোট পুঁজিতে শুরু করে ধাপে ধাপে বড় করা যায়; এখানে শুরু ছিল ১০০ টাকা ও একটি পাত্র।
- ২.গোবর গ্যাসমুক্ত করতে এক মাস সময় লাগে, তাই উৎপাদন সময় ও জায়গার পরিকল্পনা আগে থেকে রাখুন।
- ৩.ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেটজাত করতে ট্রেড লাইসেন্স ও মান পরীক্ষা লাগে; এর জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
