১৩,২০০ টাকার ২ কেজি কেঁচো দিয়ে শুরু; এখন নিজের তিন খামারে মাসে ৮৫ টন কেঁচো সার
পিরোজপুরের এক উদ্যোক্তা ২০১২ সালে ভাড়া নেওয়া খামারে কেঁচো সার শুরু করেন। এখন নিজের তিন খামারে মাসে প্রায় ৮৫ মেট্রিক টন সার হয়, প্রতি টন ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
পিরোজপুরের একজন ডিগ্রি পাস উদ্যোক্তা ২০১২ সালে একটি দৈনিকে কেঁচো চাষের প্রতিবেদন পড়ে এ কাজে নামেন। চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ছয় একরের একটি সমন্বিত কৃষিখামার ভাড়া নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৩ হাজার ২০০ টাকায় দুই কেজি কেঁচো এবং ছয়টি স্যানিটারি রিং কেনেন। শুরুতে আশপাশের লোক হাসাহাসি করত, তবু কাজ চালিয়ে যান। প্রথমে নিজের উৎপাদিত সার নিজের খামারে ব্যবহার করে ভালো ফল পান, তারপর অন্য কৃষকদের এই সার বানাতে ও ব্যবহারে উৎসাহ দেন। তাঁর নিজের তিনটি খামারে মাসে প্রায় ৮৫ মেট্রিক টন কেঁচো সার হয়; বিভিন্ন খামার থেকে সংগ্রহ করে মাসে প্রায় ১,৫০০ মেট্রিক টন বিক্রি করেন, প্রতি টন ১২ হাজার টাকায়। তাঁর সহায়তায় নিজের ও পাশের গ্রামে ৪১টি কেঁচোখামার গড়ে উঠেছে। সার বিক্রির সমস্যা সামনে এলে তিনি সারা দেশের উৎপাদকদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়েন। যা বুঝতেন না, তা জানতে উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের কাছে যেতেন, এবং তাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়ান। প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি প্রায় ৭০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি সম্মাননা পেয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.কেঁচো সারে বিক্রির ব্যবস্থা উৎপাদনের মতোই জরুরি; এখানে বিক্রি সমস্যা হওয়ায় উৎপাদকদের সংগঠন গড়া হয়েছে।
- ২.প্রথমে নিজের খামারে সার ব্যবহার করে ফল দেখে নিলে অন্য কৃষককে বোঝানো সহজ হয়।
- ৩.ভাড়া নেওয়া খামারে ছোট পরিসরে শুরু করলে মূলধন কম লাগে; এখানে মাত্র ২ কেজি কেঁচো ও ৬টি রিং দিয়ে শুরু।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
